
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগত ও প্রস্থানকারী যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করতে চালু করা হয়েছে ফ্রি শাটল বাস সার্ভিস। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, এই সেবা প্রবাসীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা পরিকল্পনার ত্রুটি, লাগেজ রাখার জায়গার অভাব এবং প্রচারণার অভাবে সেবাটি যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
উদ্বোধনের কয়েক দিন না যেতেই এই বাস সার্ভিস নিয়ে বিরূপ অভিজ্ঞতার কথা জানাচ্ছেন যাত্রীরা। সরেজমিনে দেখা যায়, বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যাত্রী মিলছে না। আবার যাত্রী এলেও তাদের বড় বড় লাগেজ নিয়ে বাসে উঠতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে আগের মতোই কাঁধে ও মাথায় ভারী লাগেজ নিয়ে যাত্রীদের বিমানবন্দর থেকে বের হতে দেখা যাচ্ছে।
শাটল বাসগুলোর অভ্যন্তরীণ নকশা সাধারণ পাবলিক বাসের মতো। বিমানবন্দরের যাত্রীদের জন্য যে ধরনের প্রশস্ত দরজা ও লাগেজ রাখার বিশেষ জায়গা থাকা প্রয়োজন, তার কোনোটিই এতে নেই।
বাসগুলো প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর ছাড়া হয়। এই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার চেয়ে যাত্রীরা হাঁটাকেই উত্তম মনে করছেন। বিশেষ করে গরম বা বৃষ্টির দিনে এটি যাত্রীদের জন্য চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থানে সাইনেজ থাকলেও অধিকাংশ প্রবাসী যাত্রী এই সেবা সম্পর্কে জানেনই না। বিশেষ করে যারা বাংলা পড়তে পারেন না, তাদের জন্য কোনো কার্যকর তথ্য ব্যবস্থা নেই।
কাতার থেকে আসা প্রবাসী আবির হোসেন বলেন, বাসের জন্য আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে না থেকে হেঁটে পাঁচ মিনিটেই বিমানবন্দর সড়কে যাওয়া যায়। এ ধরনের সেবায় ৫ থেকে ১০ মিনিট পরপর বাস ছাড়লে তবেই যাত্রী উঠবে। আরেক ভুক্তভোগী প্রবাসী আকরাম হোসেন বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে টার্মিনাল ও গণপরিবহনের সংযোগ এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন যাত্রীকে ভারী লাগেজ নিয়ে হাঁটতে না হয়। কিন্তু এখানে পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তব প্রয়োগের কোনো মিল নেই।
কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ জানিয়েছেন, তারা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং পর্যায়ক্রমে এই সেবা আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু বাস চালু করলেই হবে না; যাত্রীবান্ধব পরিকল্পনা, আধুনিক বাস এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার নিশ্চয়তা না দিলে এই উদ্যোগও অতীতে বিআরটিসি’র ব্যর্থ উদ্যোগের মতো মুখ থুবড়ে পড়বে। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করতে কর্তৃপক্ষ যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে এই শাটল সার্ভিস কেবল নামমাত্র একটি সেবায় পরিণত হয়েই থেকে যাবে।
এলেন বিশ্বাস