
রাজধানীর উত্তরায় গ্যাস সংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দিনদিন পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ কমতে কমতে বেশ কয়েকটি সেক্টর ও আশপাশের সংলগ্ন এলাকাগুলোতে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বাসাবাড়িতে তিতাসের গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষজন। এলপিজি সিলিন্ডার কেনার সামর্থ্য না থাকায় অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ফিরে গেছেন পুরনো মাটির চুলায়।
গত কয়েক দিন সকালের দিকে কিছুটা গ্যাস মিললেও বুধবার থেকে উত্তরা ৪, ৭, ১০ ও সংলগ্ন এলাকাগুলোর পাইপলাইনে একফোঁটাও গ্যাস আসছে না। কবে বা দিনের কোন সময়ে গ্যাস পাওয়া যাবে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময় বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।
উত্তরা এলাকার বিভিন্ন বস্তি ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে এখন চলছে রান্নার তীব্র লড়াই। মধ্যবিত্ত বা বিত্তবানরা বিকল্প হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার বা ইনডাকশন চুলা ব্যবহার করতে পারলেও আকাশচুম্বী দামের কারণে তা নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে। ফলে বাধ্য হয়ে কাঠ, খড়ি ও ভাঙা আসবাব দিয়ে মাটির চুলায় রান্না সারতে হচ্ছে তাদের।
সংকট ও কষ্টের কথা তুলে ধরে উত্তরা এলাকার বাসিন্দারা বলেন:আলেয়া বেগম (উত্তরা মোল্লারটেক এলাকার গৃহকর্মী):
স্বামী রিকশা চালায়, যে টাকা পায় তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন। একটা গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে গেলে তো দুই হাজার টাকার কাছাকাছি লাগে, এত টাকা পামু কই? চুলায় তিতাসের গ্যাস নাই, বাধ্য হয়া ইট দিয়ে বানিয়ে মাটির চুলায় খড়ি দিয়া রান্না করতাছি। ধোঁয়ায় চোখ জ্বলে, কিন্তু না খাইয়া তো থাকা যায় না।
মো. সোলেমান (উত্তরা সেক্টর ১০-এর পোশাক শ্রমিক): সারাদিন ডিউটি শেষ করে এসে দেখি ঘরে রান্নার গ্যাস নাই। সিলিন্ডার কেনার তো সামর্থ্যই নাই। পাশের খালি জায়গা থেকে কাঠ কুড়িয়ে এনে মাটির চুলায় কোনোমতে রাতের খাবার তৈরি হচ্ছে। মাস শেষে তিতাসের গ্যাস বিল কিন্তু ঠিকই কাটবে, অথচ সেবা পাই না।
রফিকুল ইসলাম (উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা):সাধারণ গৃহিণীদের অবস্থা যেমন খারাপ, তেমনি সিএনজি ও রাইড শেয়ারিং চালিয়ে যাদের সংসার চলে তারাও তছনছ হয়ে যাচ্ছে। উত্তরা এলাকার সিএনজি পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন ধরেও গ্যাস মিলছে না। পুরো এলাকাজুড়ে একটা চরম অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি গ্যাস সংকটের প্রভাবে উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুর সংলগ্ন সিএনজি স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। চাপ না থাকায় কয়েকটি পাম্প সাময়িক বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে রাইড শেয়ারিং ও সিএনজি চালকদের দৈনন্দিন আয় অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি মাস শেষে নিয়মিত তিতাসের বিল পরিশোধ করার পরও কেন এই হাহাকার দেখতে হবে? অবিলম্বে পাইপলাইনে গ্যাসের প্রেশার স্বাভাবিক করে এই অসহনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন উত্তরাবাসী।
এলেন বিশ্বাস