
রাজধানীর উত্তরায় ব্যস্ততম হাউজ বিল্ডিং এলাকার ইউটার্নের নিচের অংশে সৃষ্টি হওয়া একটি খানাখন্দে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে থাকায় তৈরি হয়েছে চরম পরিবেশ বিপর্যয়। জমে থাকা এই নোংরা ও দুর্গন্ধময় পানি যেন পরিণত হয়েছে খোলা আকাশের নিচে ‘মশার চাষে’। প্রতিদিন সেখানে জন্ম নিচ্ছে লাখ লাখ এডিস মশা। ফলে ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াতকারী হাজার হাজার পথচারী, যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা মারাত্মক ডেঙ্গু সহ নানা ধরনের পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের চরম ঝুঁকিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইউটার্নের নিচের রাস্তাটি ভেঙে গিয়ে একটি বড় খাদের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে থাকে, যা সহজে নিষ্কাশিত হয় না। বহুদিন ধরে পানি জমে থাকায় পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। দূষিত এই পানি এখন মশার নিরাপদ প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এলাকার চরম ভোগান্তি তুলে ধরে স্থানীয় এক ভুক্তভোগী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাসাবাড়িতে টব আর ডাবের খোসা খোঁজার আগে কর্তৃপক্ষের উচিত নিজের নাকের ডগার এই রাস্তাগুলো দেখা। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং ইউটার্নের জমে থাকা নোংরা পানি এখন এডিস মশার কারখানা! এভাবে প্রকাশ্যে মশার চাষ হতে থাকলে সাধারণ মানুষ ডেঙ্গু থেকে বাঁচবে কীভাবে? আমরা কি রোগ আর দুর্গন্ধ কেনার জন্য ট্যাক্স দেই?”
নিয়মিত যাতায়াতকারী এক পথচারী তার দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, “প্রতিদিন এই ইউটার্ন দিয়ে যাওয়ার সময় আতঙ্কে থাকতে হয়।
একদিকে গাড়ি চলাচলের সময় পচা নোংরা পানি ছিটে গায়ে আসে, অন্যদিকে মশার কামড়। দিনের বেলাতেও এখানে দাঁড়ালে মশার ঝাঁক ছেঁকে ধরে। এই দুর্গন্ধ আর ডেঙ্গুর ভয় সাথে নিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঢাকাকেন্দ্রিক ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নানা ধরনের প্রচার-প্রচারণা থাকলেও শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টের স্থায়ী সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আলি আহমেদ বলেন, “হাউজ বিল্ডিংয়ের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ ইউটার্নে দীর্ঘদিন ধরে খানাখন্দ আর জলাবদ্ধতা হয়ে আছে এটা স্রেফ অবহেলা। এই পচা পানিতে প্রতিদিন লাখ লাখ মশা জন্ম নিচ্ছে, আশপাশের পথচারী ও যাত্রীরা ডেঙ্গু ঝুঁকিতে পড়ছে। সিটি কর্পোরেশন আর সড়ক বিভাগ কি কোনো বড় দুর্ঘটনা বা ডেঙ্গুর মহামারী ছড়ানোর অপেক্ষা করছে? ডেঙ্গুর ওষুধ ছিটানোর নামমাত্র নাটক না করে, মূল উৎস এই পচা জমে থাকা পানি দূর করুন এবং রাস্তা মেরামত করুন।
দ্রুত এই খানাখন্দ মেরামত এবং জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করলে ওই এলাকায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা অবিলম্বে সিটি কর্পোরেশন ও সড়ক বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করে এলাকাটি মশক মুক্ত করা হয়।
এলেন বিশ্বাস