
রাজধানীর উত্তরার অদূরে অবস্থিত তুরাগ এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী লোড শেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, পড়াশোনা এবং ছোটখাটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে তুরাগের , বাউনিয়া, পাকুরিয়া, আহালিয়া , নলভোগ, দিয়াবাড়ি এবং এর আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলোতে দিনে ও রাতে নিয়মিত বিরতিতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় দিনে এর থেকেও বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকছে না বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং রোগীরা। রাতের বেলা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঘুমাতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশুরা। এছাড়া পানির পাম্পগুলো বন্ধ থাকায় অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
পাকুরিয়ার জসিম নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনের বেলা তো দূরের কথা, রাতের বেলাও শান্তি নেই। একটানা বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। রাতের বেলা শিশুদের পড়ালেখা সম্পূর্ণ বন্ধ বললেই চলে। বিদ্যুৎ না থাকায় বাসায় অসুস্থ রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে।
আরিফ নামে পাকুরিয়ার এক কম্পিউটার দোকানদার জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় আমদের মত বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা ঝামেলায় পড়ে গেছে আইপিএস বা জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান চালাতে পারছি না আমরা।
আহালিয়া এলাকার ফাতেমা নামে এক গৃহিণী জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় মোটরে পানি তুলতে পারছি না, পানি না থাকায় রান্নার কাজ করতে পারি না, ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করতেও পারি না।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষের (ডেসকো) সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার মুঠোফোনে ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করে নি তারা।
অবিলম্বে এই অসহনীয় লোড শেডিংয়ের কবল থেকে মুক্তি পেতে এবং নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তুরাগের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।