• রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
শাহজালাল বিমানবন্দর,যাত্রীদের দুর্ভোগ ঘোচাতে ব্যর্থ শাটল বাস! ফলের ক্যারেটে ১৬ কেজি স্বর্ণ! বিমানবন্দরে উদ্ধার অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দখলে উত্তরা বিআরটিএ: ভোগান্তির শেষ নেই সেবাগ্রহীতাদের ৩ স্ক্যানারই অচল: ঢাকা বিমানবন্দরে কার্গো বিপর্যয়ের মুখে তৈরি পোশাক রপ্তানি, বাড়ছে ঘুষের বাণিজ্য উত্তরায় চীনা নাগরিকদের সন্দেহজনক ভ্লগিং: আড়ালে কী? শাহজালালে নিয়ম মানছে না কেউ: ভিড় নিয়ন্ত্রণে অসহায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের অব্যবস্থাপনা: যাত্রী দুর্ভোগ নিরসনে জরুরি সংস্কার দাবি তুরাগে ১ কেজি গাঁজাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক উত্তরায় অবরোধে স্থবির টঙ্গী-বিমানবন্দর সড়ক: কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির সারি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তরায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ ​

৩ স্ক্যানারই অচল: ঢাকা বিমানবন্দরে কার্গো বিপর্যয়ের মুখে তৈরি পোশাক রপ্তানি, বাড়ছে ঘুষের বাণিজ্য

এলেন বিশ্বাস / ১৪ Time View
Update : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানের রপ্তানি পণ্য পরীক্ষার মূল চালিকাশক্তি ‘এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম’ (ইডিএস) স্ক্যানার সংকটে চরম বিপর্যয়মুখী পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশের আকাশপথের বাণিজ্য। বিমানবন্দরে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য পরীক্ষার জন্য থাকা ৪টি বিশেষায়িত স্ক্যানারের মধ্যে ৩টিই এখন সম্পূর্ণ অচল। একটিমাত্র সচল স্ক্যানার দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর পণ্য স্ক্রিনিং।

 

এই চরম অব্যবস্থাপনার কারণে ঢাকা বিমানবন্দরে তীব্র কার্গো-জটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সাথে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় লাগামহীনভাবে বাড়ছে এবং এর সুযোগ নিয়ে বিমানবন্দরে পণ্য ছাড়ের সিরিয়াল পাইয়ে দিতে একটি সিন্ডিকেট অবৈধ বা অনানুষ্ঠানিক অর্থ (ঘুষ) আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ী ও ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের আশঙ্কা, দ্রুত এই সংকট সমাধান না হলে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো ঢাকা থেকে কার্গো পরিবহন বন্ধ বা সীমিত করে দিতে পারে, যা দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের বৈশ্বিক বাজারকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে।

 

 

বিমানবন্দর ও খাত-সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে আকাশপথে সরাসরি পণ্য পাঠানোর জন্য ‘রেগুলেটেড এজেন্ট’ (আরএ-৩) নির্দেশিকা অনুযায়ী ইডিএস স্ক্যানারে বিস্ফোরক পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। শাহজালাল বিমানবন্দরে এই কাজের জন্য মোট ৪টি ইডিএস স্ক্যানার বসানো হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলো একে একে অকেজো হয়ে পড়েছে:

 

ইডিএস ১: বর্তমানে বিমানবন্দরের একমাত্র সচল মেশিন। এটি দিয়েই এখন সম্পূর্ণ চাপ সামলানো হচ্ছে, যা মূলত লন্ডনগামী কার্গোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

ইডিএস ২: এটি কোনো সাধারণ যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং গত বহু বছর ধরেই এটি সম্পূর্ণ অচল ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

ইডিএস ৩: চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ এটি আকস্মিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয়ে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

ইডিএস ৪: বিগত ২০২৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে আজ পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা মেরামতের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ ইউরোপের বাইরের গন্তব্যের জন্য ব্যবহৃত ৬টি ‘নন-আরএ৩’ স্ক্যানারের মধ্যে ৩টি সচল রয়েছে, ১টি অচল এবং ২টি সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় রাখা হয়েছে। তবে ইউরোপই বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির প্রধান বাজার হওয়ায় মূল সংকটটি তৈরি হয়েছে ইডিএস স্ক্যানার ঘিরেই।

 

 

 

রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক অন্তত ২ থেকে ৩টি ইডিএস স্ক্যানার সচল থাকা জরুরি। এখন একটি মেশিন দিয়ে কাজ করায় স্ক্রিনিংয়ের গতি অত্যন্ত ধীর হয়ে গেছে।

এই যান্ত্রিক ত্রুটির সাময়িক বিকল্প হিসেবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এখন ‘এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন ডগ’ (ইডিডি) বা ডগ স্কোয়াডের ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। তবে ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার নাসির আহমেদ খান সতর্ক করে বলেন, ডগ স্কোয়াড কেবল আপৎকালীন বা জরুরি পরিস্থিতির জন্য, এটি কখনো দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক সমাধানের বিকল্প হতে পারে না।

 

একটি বড় কার্গো বিমানের ধারণক্ষমতা সাধারণত ১০০ থেকে ১১০ টন হয়ে থাকে। কিন্তু বিমানবন্দরের স্ক্রিনিং জটিলতার কারণে যদি সময়মতো পণ্য পরীক্ষা করা না যায়, তবে বিমানগুলোকে ৪০ থেকে ৫০ টন খালি জায়গা রেখেই উড়ে যেতে হবে। কোনো এয়ারলাইন্সের পক্ষেই এভাবে অর্ধেক ধারণক্ষমতা নিয়ে ঢাকা রুটে বাণিজ্যিকভাবে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ফলে রপ্তানি মৌসুমের পিক টাইমে চাপ বাড়লে এয়ারলাইন্সগুলো ঢাকা রুটে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দিতে বা বুকিং স্থগিত করতে বাধ্য হতে পারে।

 

 

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে আকাশপথে পণ্য পরিবহনের খরচ এমনিতেই চড়া। ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারদের তথ্যমতে: ইউরোপ রুটে: বিমান ভাড়া প্রতি কেজিতে প্রায় ৪.৫ ডলার।

আমেরিকা ও কানাডা রুটে: এয়ারলাইন্স ভেদে এই ভাড়া কেজিতে ৬.৫ থেকে ৭ ডলার, যা বিশেষ কিছু চালানের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ৯ ডলার পর্যন্ত গিয়ে ঠেকছে।

 

এই চড়া ভাড়ার ওপর যদি বিমানবন্দরে পণ্যজটের কারণে লিড-টাইম (পণ্য পৌঁছানোর সুনির্দিষ্ট সময়) বজায় রাখা না যায়, তবে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিল করতে পারেন কিংবা বড় অঙ্কের ডিসকাউন্ট দাবি করতে পারেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে।

 

 

মেশিন বিকল হওয়ার এই চরম অব্যবস্থাপনাকে পুঁজি করে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে এক শ্রেণীর কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনানুষ্ঠানিক অর্থ বা বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার অভিযোগ করেন, আকাশপথে পণ্য পাঠানোর জন্য সরকার নির্ধারিত স্ক্যানিং চার্জ প্রতি কেজিতে মাত্র ৮ সেন্ট (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১০ টাকা)। কিন্তু বর্তমানে তীব্র জট এবং সিরিয়াল সংকটের কারণে প্রতিটি কনসাইনমেন্ট বা চালানের জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক বা অবৈধভাবে বাড়তি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। এই বাড়তি টাকা না দিলে সময়মতো স্ক্যানিংয়ের স্লট বা সিরিয়াল পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার ফলে পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান দিনের পর দিন বিমানবন্দরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং হয়রানির ভয়ে ব্যবসায়ীরা এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

 

 

 

(বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, এখন প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৬০০ টন কার্গো হ্যান্ডলিং হচ্ছে বলে পরিস্থিতি কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে। কিন্তু রপ্তানির চাপ বাড়লে দৈনিক ৮০০ টনের বেশি পণ্য আসবে। বর্তমানে সচল থাকা একমাত্র মেশিনটিও যদি কোনো কারণে অচল হয়ে যায়, তবে ঢাকা বিমানবন্দর দিয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যাবে।

 

বিজিএমইএ-র পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে জরুরি ভিত্তিতে চিঠি দিয়ে এই স্ক্যানারগুলো সচল করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে চলতি সপ্তাহেই বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রীর সাথে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের একটি উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

 

স্ক্যানারগুলো বছরের পর বছর কেন অচল পড়ে আছে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড স্টোর ইউনিটের নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আহসান হাবীব জানান, এই ইডিএস স্ক্যানারগুলো অত্যন্ত বিশেষায়িত এবং বিদেশে তৈরি।

 

তিনি বলেন, এসব মেশিনের কোনো যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। কোনো ত্রুটি দেখা দিলে আমদানির মাধ্যমে খুচরা যন্ত্রাংশ দেশে আনতে কিছুটা সময় লেগে যায়। তবে সংশ্লিষ্ট বিদেশী কোম্পানির সাথে বেবিচকের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি রয়েছে এবং সমস্যাটি দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে।

 

এছাড়া বিমানবন্দরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেবিচক এখন পর্যন্ত এমন কোনো সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পায়নি। তবে এ ধরনের কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

এলেন বিশ্বাস

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!