
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপিগুলোতে যাত্রী ও দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে ‘একজন যাত্রীর সঙ্গে সর্বোচ্চ দুইজন সঙ্গী’ প্রবেশের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও, তা বাস্তবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে উল্টো হয়রানি ও হুমকির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।
নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং যানজট নিরসনে গত বছরের জুলাই মাসে একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছিল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, বিমানবন্দরের অ্যারাইভাল ও ডিপারচার এলাকায় যাত্রীপ্রতি সর্বোচ্চ দুইজন সঙ্গী প্রবেশ করতে পারবেন। কিন্তু এই নির্দেশনার প্রায় এক বছর পার হলেও মাঠ পর্যায়ে এর কোনো প্রতিফলন নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, একজন যাত্রীকে বিদায় জানাতে বা গ্রহণ করতে ৫-৭ জন স্বজন অনায়াসে ক্যানোপির ভেতরে ঢুকে পড়ছেন, যা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
নিয়ম না মানার পেছনে জনসচেতনতার অভাবকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেক যাত্রীই দাবি করেছেন, তারা এমন কোনো বিধিনিষেধের কথা জানেনই না। অধিকাংশ স্বজনই নিয়ম না জেনেই পুরো পরিবার নিয়ে বিমানবন্দরে ভিড় করছেন।
বিমানবন্দরের দায়িত্বরত একাধিক নিরাপত্তা কর্মী জানান, নিয়ম মানানোর জন্য কোনো দর্শনার্থীকে বাধা দিলে তারা উল্টো উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। কেউ কেউ হুমকি প্রদান করেন, আবার অনেকে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, “জনগণ সচেতন না হলে কেবল সরকারি নির্দেশনার মাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব।
এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগিব সামাদ বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত জনসাধারণকে নিয়ম মেনে চলার জন্য অনুরোধ করছি এবং সচেতন করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনো কথাই শুনতে চান না। তবে আমাদের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সাইনবোর্ড বা ঘোষণা দিয়ে এই বিশৃঙ্খলা কমানো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন ক্যানোপি এলাকায় কঠোর নজরদারি, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম।
এলেন বিশ্বাস