
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রকৌশল বিভাগের হ্যাঙ্গার ইউনিটে চলছে ‘তুঘলকি কাণ্ড’। ওভারটাইম ডিউটির নামে এসে অনেকে দিনের পর দিন কাজ না করে রেস্ট রুম কিংবা মসজিদে ঘুমিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ হাজিরা দিয়ে সরাসরি কর্মস্থল ত্যাগ করছেন। এই অনিয়মের ফলে প্রতি মাসে বিমানের প্রায় দেড় কোটি টাকা গচ্চা যাচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ল ‘ঘুমের দৃশ্য’
সম্প্রতি বিমানের হ্যাঙ্গারের প্রকৌশল শাখার সিসিটিভি ফুটেজে কর্মীদের ডিউটি ফাঁকি ও ঘুমের দৃশ্য ধরা পড়ে। এর কিছু স্থিরচিত্র বিমানের কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি গ্রুপে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, রাতের শিফটে কাজের পরিবর্তে অনেক কর্মী বিমানের ভেতরে থাকা রেস্ট রুম ও মসজিদে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বছরের পর বছর ধরে একটি অসাধু চক্র এই অনিয়ম টিকিয়ে রেখেছে। এই জালিয়াতির প্রধান দিকগুলো হলো:
রাতের শিফটে কর্মরতদের অনেকেই ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের পর শুধু ফিঙ্গার প্রিন্ট দিয়ে আবার গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান। যারা কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন, তাদের বেশিরভাগই দায়িত্ব পালনের বদলে রেস্ট রুম বা মসজিদে ঘুমিয়ে সময় পার করেন। হ্যাঙ্গার ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন কর্মী এই অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন।
প্রতি কর্মীর ওভারটাইম বিল বাবদ মাসে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকার মতো অর্থ বিমানে গচ্চা যাচ্ছে। গত জুন মাসের ওভারটাইমের অস্বাভাবিক বিল দেখে বিমানের উপ-মহাব্যবস্থাপক ও চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার সৈয়দ মইন উদ্দীন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তার আপত্তিতে বিল কিছুটা কমানো হয়।
বিমানের একাধিক কর্মকর্তা এই ঘটনাকে সরকারি অর্থের ‘জ্বলন্ত অপচয়’ হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে সরকার যখন কৃচ্ছ্রসাধনের ওপর জোর দিচ্ছে, তখন এমন জালিয়াতি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, বিমানের প্রত্যেক বিভাগে কন্ট্রোলিং অফিসার আছেন। যেহেতু এ ধরনের একটি বিষয় সামনে এসেছে, সেহেতু সেখানকার কর্মকর্তারা এটি দেখবেন। সর্বোপরি আমাদের ম্যানেজমেন্ট এ বিষয়ে সঠিক সি
দ্ধান্ত নেবেন।