
দেশের বাজারে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে সুগন্ধি বা পোলাও চালের দাম। গত ছয় মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে ব্র্যান্ডভেদে প্যাকেটজাত পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩০ টাকায়, আর খোলা পোলাও চাল কোথাও কোথাও ২০০ টাকা স্পর্শ করেছে। আকস্মিক এই দাম বাড়ার নেপথ্যে দুই দফায় বিপুল পরিমাণ চাল রপ্তানির সরকারি অনুমোদন নাকি মিল মালিক ও সিন্ডিকেটের ‘কৃত্রিম সংকট’ তৈরির চক্রান্ত তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
উত্তরাও এর আশেপাশের খুচরা বাজারগুলোতে। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের কাঁচাবাজারে চাল কিনতে আসা বাসিন্দা রেহান পারভেজ চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কয়েকদিন আগেও যে চিনিগুঁড়া চাল ১৬০-১৭০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটি ২০০ টাকা চাইছে। শুনছি ইলিশের মতো নাকি পোলাও চালও বিদেশে চালান হচ্ছে, আর সেই অজুহাতে দেশে দাম বাড়ানো হচ্ছে। কৃষিনির্ভর দেশে সাধারণ মানুষের পাত থেকে চাল কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না।
উত্তরা জসীমউদ্দীন অ্যাভিনিউয়ের পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়ী আল-আমিন রাইস এজেন্সির স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম জানান, “পাইকারি বাজার থেকেই আমাদের চড়া দামে চাল কিনতে হচ্ছে। উত্তরা এলাকার খুচরা দোকানগুলোতে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। মিল মালিকেরা চাল সরবরাহ কম দেওয়ায় বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম এক মাসেই প্রায় ২ হাজার টাকা বেড়ে এখন সাড়ে ৯ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। রপ্তানির খবরের পর থেকেই বাজারে একটি সিন্ডিকেট দাম বাড়িয়ে চড়া মুনাফা লুটছে।
প্রতিবেদনে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গত জুন ও চলতি জুলাই মাসে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ৩২০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই রপ্তানির সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। রপ্তানির অনুমোদন মেলার পর থেকেই মূলত দেশীয় বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে চালের দাম।
তবে চাল রপ্তানিকারক সমিতির মতে, দেশে বার্ষিক ১০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উৎপাদনের বিপরীতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মাত্র চার লাখ টন। ফলে ছয় লাখ টন উদ্বৃত্ত থাকে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র দুই হাজার টনের মতো রপ্তানি হওয়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি হওয়ার যৌক্তিক কোনো কারণ নেই। মূলত কিছু মিল মালিক চাল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামানও চালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে সম্পূর্ণ ‘কৃত্রিম সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা এটাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে মন্তব্য করেছেন।
উত্তরা এলাকার ভোক্তারা দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
এলেন বিশ্বাস