
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্কুলের সামনে থেকে পিস্তল ঠেকিয়ে শিক্ষার্থী ফেরদৌসকে (১৩) ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে দেড় ঘণ্টা পর ওই শিক্ষার্থীকে ফেরত দিয়েছে।
এ ঘটনায় স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কাওসার আহমেদকে (২৮) আটক করেছে।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপরে কাউসারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের হাজী প্রী-ক্যাডেট স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্কুল ছাত্রকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি এদিন সন্ধ্যার পর ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনায় আলোচনার জন্ম দেয়।
ভুক্তভোগী স্কুল ছাত্র ফেরদৌস উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
অভিযুক্ত কাওসার আহমেদ একই ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। এসময় কাওসারের চাচা এমদাদুল হক এবং তার সহযোগী নূরুল হকসহ কয়েকজন ওই ছাত্রকে ধরে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, ভুক্তভোগী ফেরদৌস হাজী প্রী-ক্যাডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এবং অভিযুক্ত কাওসার আহমেদের ভাগিনা ওবায়দুল একই স্কুলের নবম শ্রেনীর শিক্ষার্থী। ফেরদৌস এবং ওবায়দুল ওই স্কুলের এক শিক্ষার্থীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়ে পড়ে। ওবায়দুল তার মামাতো ভাই সদ্য এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া আরাফাতকে তাদের বিষয়টি জানায়। পরে তারা দুইজন ফেরদৌসকে জিজ্ঞাসা করার জন্য বিকেলে স্কুলের সামনে গিয়ে অপক্ষো করে। স্কুল ছুটির পর এ বিষয় নিয়ে ফেরদৌসের সাথে ওবায়দুল এবং আরাফাতের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে আরাফাত তার বাবা এমদাদুল হককে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন। এ খবর পেয়ে তার ভাতিজা অভিযুক্ত কাওসার আহমেদও ঘটনাস্থলে আসে এবং ফেরদৌসকে মারধর করতে করে ধরে নিয়ে যায়। এসময় স্কুলের শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে চাইলে কাওসার পিস্তল বের করে তাদেরকে গুলি করার হুমকি দেয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ২২ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ড্রেস পড়া এক শিক্ষার্থীকে কয়েকজন যুবক মারতে মারতে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন। স্কুল শিক্ষক রুবেলসহ শিক্ষার্থীরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে টি-শার্ট পড়া কাওসার আহমেদ পিস্তল দিয়ে শিক্ষক রুবেল হোসেনের দিকে তাক করে ভয় দেখান।
শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুল ছুটি হওয়ার পর আমরা বাইরে যাই। কয়েকজন লোক হঠাৎ করে এসে ফেরদৌসকে ধরে মারতে শুরু করে। আমরা চিৎকার দিলে স্যারেরা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করতে চেষ্টা করলে একজন রুবেল স্যারের দিকে পিস্তল তাক করে। পরে ভয়ে সবাই দৌড়ে চলে যাই।