• সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৫০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
তুরাগ দক্ষিনের যুব বিভাগের “প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫” অনুষ্ঠিত আমাদের উত্তরা ফাউন্ডেশন এর নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি আলী হোসেন, সম্পাদক এলেন বিশ্বাস নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া জনসাধারণের জন্য হুমকির মুখে – দাবী ঠিকাদারদের জামায়াত-শিবিরের কারণে গণঅধিকার-এনসিপি ক্ষতিগ্রস্ত: রাশেদ খান পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুঁশিয়ারি ভারতের সেনাপ্রধানের সমঝোতা হলে ১০০ আসন ছেড়ে দিতে পারে জামায়াত’ টাঙ্গাইলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবি, থানায় জিডি বিএনপি শিগগিরই ‘গ্রিন সিগন্যাল’ দেবে: সালাহউদ্দিন এনসিপি নেতা মাহিন তালুকদারের ছবি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার উত্তরায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে “আমাদের উত্তরা ফাউন্ডেশন”

তুরাগে ওলামার দলের নেতার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীর নিকট চাঁদা দাবির অভিযোগ

আলী হোসেন (শ্যামল), এলেন বিশ্বাস / ৪২৮ Time View
Update : শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫

রাজধানীর তুরাগ থানাধীন বাদালদি এলাকায় মামলায় নাম ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকি, পুলিশি হয়রানি ও এলাকার লোকজন এর হয়রানির ভয় দেখিয়ে এক পানি ব্যবসায়ীর নিকট হইতে আপোষ মীমাংসার কথা বলে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে এমন অভিযোগ পাওয়া যায় ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এম এম আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে। এতে করে হান্নান মিয়ার পরিবারের প্রতি নেমে আসে চরম আতঙ্ক ও হুমকি, এমনকি ঘর ছাড়া, ব্যবসা ছাড়া, পরিবার স্বজন ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে হান্নান মিয়া।

জানা যায়, তুরাগের বাদালদি এলাকার পানি ব্যবসায়ী হান্নান মিয়ার কাছ থেকে জোরপূর্বক ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন আশরাফুল আলম। শুধু চাঁদা দাবি করেই থেমে থাকেনি এই চক্রটি; বরং হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, চাঁদা না দিলে হান্নান মিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় নাম ঢুকিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া, পুলিশি হয়রানী করা, এলাকার লোকজন দিয়ে হয়রানি করা হবে বলে এমন ভয় দেখানো হয়। আর ২ লক্ষ্য টাকা দিলে কোনো মামলায় নাম দেওয়া হবে না, বরং থানা পুলিশ, এলাকার লোকজন সব ম্যানেজ করে আপোষ মীমাংসার করে দিবে আশরাফুল। চাঁদার টাকা চাওয়ার একটি কল রেকর্ড ও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়।

অভিযোগ অনুসারে, আশরাফুল আলম ও তার সহযোগীরা হলেন শামিম, রোকোন, ইসমাইল, জুয়েল, হযরত এবং শামসু।

ধারাবাহিকভাবে হান্নান মিয়ার বাসায় অচেনা লোকজন পাঠিয়ে তার স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়দেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে চলেছেন। দিনভর বাসার সামনে অবস্থান করা, কটূক্তি করা, এবং সময়সীমা বেঁধে টাকা চাওয়ার মাধ্যমে তারা পুরো পরিবারকে মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলেছে। হান্নান মিয়ার স্ত্রী বলেন, “প্রতিদিনই আমাদের বাসার সামনে ওরা লোক পাঠায়, টাকার জন্য চাপ দেয়।

আমাদের ছোট ছেলে মেয়েরা পর্যন্ত ভয়ে কাঁদে। রাতেও ঘুমাতে পারি না, যদি কেউ কিছু করে ফেলে!” এলাকার একজন প্রবীণ বলেন, “হান্নান মিয়া সব সময় মানুষের পাশে থাকে। যে কোনো ভালো কাজে প্রথম এগিয়ে আসে। ওকে ভয় দেখানো, চাঁদা দাবি করা— এটা শুধু অন্যায় নয়, সমাজবিরোধী কাজ।” যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা নিজেদের জাতীয়তাবাদী ওলামা দল নামক রাজনৈতিক সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা রকম ভয়ভীতি ও দখলদারিত্বে লিপ্ত আছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায় ।

তবে সাধারণ মানুষ সাহস না পাওয়ায় আগের অনেক ঘটনাই ধামাচাপা পড়ে গেছে। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। হান্নান মিয়ার মতো একজন সাধারণ পানি ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে এমন হুমকি ও হয়রানি অনেকের সহ্যের বাইরে চলে গেছে। অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ ও নিরাপত্তার দাবি, এলাকাবাসী এবং হান্নান মিয়া প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, এই ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো এলাকাকেই নিরাপত্তাহীন করে তোলে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আজ হান্নান ভাইয়ের কাছে টাকা চাইছে, কাল হয়তো আমাদের কাছেও আসবে। প্রশাসন এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

হান্নান মিয়ার আবেদন, শান্তিতে থাকতে চাই নিজের অবস্থান থেকে কোনো উত্তেজনা না তৈরি করেই, হান্নান মিয়া অনুরোধ জানিয়েছেন প্রশাসন যেন দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনে। “আমি শুধু চাই, আমার পরিবারকে নিয়ে শান্তিতে থাকতে। আমি কারও সাথে শত্রুতা করিনি। বরং যতটুকু পেরেছি, মানুষের উপকার করেছি। এখন এইভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আমার জীবন দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে।”

একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং এলাকাবাসীর ভালোবাসায় ঘেরা মানুষের প্রতি এমন হীন চাঁদাবাজির ঘটনা সত্যিই নিন্দনীয়। প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে এ ধরনের অপরাধ চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে বলে দাবি জানান এলাকাবাসী। সবার দাবি একটাই অপরাধী যেই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় যাই থাক, আইনের শাসন যেন নিশ্চিত হয়।

এ ঘটনায় আমাদের প্রতিনিধির সাথে মুঠোফোন কথা হলে অভিযুক্ত আশরাফুল আলম বলেন, আমি নিজের জন্য টাকা চাই নাই, আমি আপোষে মীমাংসা করার জন্য টাকা চাইছি, এলাকার লোকজন, এবং থানা পুলিশ ভুক্তিভুগির সাথে আওয়ামীলীগের লোকজনের একসাথে থাকা একটি ছবি নিয়ে অনেক ঝামেলা করতেছে, আমি উনাদের সাথে মীমাংসা করিয়ে দেওয়ার জন্য এই টাকা চাইছি। আমি আমার নিজের জন্য চাই নাই।

 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোঃ সেলিম রেজা বলেন, অন্যায় করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, যেই অপরাধ করুক, অপরাধ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!