
রাজধানীর উত্তরায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আবাসিক ভবনে সুযোগ বুঝে চুরি ও গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করে আসা এক পেশাদার চোরকে অবশেষে হাতেনাতে আটক করেছে ভবনের ম্যানেজার ও নিরাপত্তা প্রহরীরা। আটককৃত ওই মহিলার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম ও তুরাগ থানাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে।
ঘটনার দিন উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের ‘অপরাজিতা’ ভবনে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে ওই মহিলা। চুরির পর সটকে পড়ার চেষ্টা করলেও ভবনবাসীর সতর্কতা ও দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অপরাধ অস্বীকার করলেও, পরবর্তীতে তীব্র জেরার মুখে চুরির কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও সে ১৮ নম্বর সেক্টরের সন্ধ্যা মালতি, কপোতাক্ষ, করতোয়া এবং কুঞ্জলতা সহ বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবনে চুরি সংঘটিত করেছে। তার প্রধান লক্ষ্য ছিল নগদ টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার, যার মধ্যে এক স্থান থেকেই প্রায় ১২ ভরি ও ৭ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনায় সে এক ৮ মাসের গর্ভবতী মহিলাকে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খাইয়ে চুরি করে, যার ফলে ওই ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েন।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে পূর্বের ভুক্তভোগী পরিবারসমূহ ও উত্তেজিত জনতা ‘অপরাজিতা’ ভবনের সামনে জমা হয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ঘটনার ভয়াবহতা ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দিতে তুরাগ থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে নেয় এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ এর সঙ্গে অন্য কোনো সিন্ডিকেট জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।