
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীর উত্তরায় সড়ক দখল করে বিক্ষোভ করছেন একদল শিক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার দুপুরের দিকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ফলে টঙ্গী-বিমানবন্দর মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিমানবন্দরগামী যাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
অবরোধে অংশ নেওয়া আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাজমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা উত্তরের একটি কলেজের শিক্ষার্থী ফাহিম হোসেন বলেন, “আমরা বারবার আল্টিমেটাম দিয়েছি, কিন্তু আমাদের দাবি মানা হচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রী যতক্ষণ না পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ছি না। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, রাজপথ ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে দুর্ভোগের শিকার সাধারণ যাত্রীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গাজীপুর থেকে অফিসগামী যাত্রী মো. আসলাম হোসেন বলেন, “অফিসের জরুরি কাজে বের হয়েছি। সকাল থেকেই রাস্তায় যে পরিস্থিতি, তাতে মনে হচ্ছে না আজকে অফিস পৌঁছাতে পারব। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করতেই পারে, কিন্তু এভাবে সাধারণ মানুষের রাস্তা বন্ধ করে জনজীবন স্থবির করে দেওয়াটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
বিমানবন্দরগামী আরেক যাত্রী সুমনা আক্তার বলেন,আমি বিদেশে যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। সিএনজি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই জায়গায় বসে আছি। ফ্লাইট মিস হওয়ার শঙ্কায় আছি। প্রশাসনকে অনুরোধ করব দ্রুত কোনো একটা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
এদিকে, দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় উত্তরা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় গাড়ির বিশাল সারি তৈরি হয়েছে। তীব্র গরমে আটকা পড়া যাত্রীদের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, তারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার চেষ্টা করছেন। যানজট নিরসনে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন, তবে শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, টঙ্গী-বিমানবন্দর মহাসড়কে যান চলাচল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। হাজার হাজার মানুষ যানজটে আটকা পড়ে চরম অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এলেন বিশ্বাস