
চীনের উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এবং নানা নির্যাতন চালিয়ে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ১২ জন নারী ভিকটিমকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম ও ভাটারা থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাঁদের উদ্ধার করা হয়।
এসআরবি-১ সূত্র জানায়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারের একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর বিকেলে ডিএমপির উত্তরা পশ্চিম থানাধীন যমযম টাওয়ারসংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেমাচি মারমা (১৫) ও মাংশানু মগনি (১৮) নামের দুই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এবং চট্টগ্রাম জেলার বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি সাধারণ ডায়েরির (নং-১২৩৮, তারিখ: ১৮/১০/২০২৬) সূত্র ধরে গত ২৬ অক্টোবর রাত থেকে ২৭ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত ডিএমপির ভাটারা থানাধীন ব্লক-এল, রোড-৫৬, বাসা-২৯৪৫-এর সপ্তম তলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আরও ১০ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া অন্য ১০ জন নারী ভিকটিম হলেন—রেখা চাকমা (২৮), ক্যানচি চাকমা (২২), বিরুপতি চাকমা (২৮), পূণ্যরেখা চাকমা (২৮), চাইছাইও মার্মা (২২), কৃষ্টিনা রোয়ালময় বৈল্টুং (১৯), পুষ্পিতা চাকমা (২১), পিংকি চাকমা (১৫), ববিতা চাকমা (২৭) এবং আদর্শী চাকমা (২১)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত ভিকটিমরা জানিয়েছেন, চীনে নিয়ে গিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরি ও নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের ঢাকায় আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে কোনো বৈধ ভ্রমণ কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই অসৎ উদ্দেশ্যে বিদেশে পাচারের জন্য তাঁদের জোরপূর্বক একটি বাসায় আটকে রাখা হয়। এ সময় তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়ানোর জন্য প্রলোভন ও চাপ দেওয়া হয়।
প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার করা সব ভিকটিমকে তাঁদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভিকটিমদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে এসআরবি-১।