
সড়কবাতি ও সিসিটিভিহীন উত্তরা মডেল টাউন এখন ছিনতাইকারীদের কবলে!
এক সময়ের বিস্তীর্ণ ফাঁকা প্রান্তর রাজউকের উত্তরা তৃতীয় পর্যায় (উত্তরা মডেল টাউন ৩য় পর্ব) প্রকল্পটি এখন রাজধানীর অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল আবাসিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বিশেষ করে মেট্রোরেল চালুর পর উত্তরার এই নতুন সেক্টরগুলোতে জনবসতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। গড়ে উঠেছে অসংখ্য বহুতল ভবন, দোকানপাট ও রেস্টুরেন্ট। তবে উন্নয়নের এই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পর্যাপ্ত সড়কবাতির অভাবে পুরো এলাকা রাতের বেলায় অন্ধকারে ডুবে থাকে। আর এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সড়কে ছিনতাই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে চরম ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল এবং বসবাস করছেন উত্তরার ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দারা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, দিয়াবাড়ী গোলচত্বর থেকে মিরপুর ডিওএইচএস পর্যন্ত মেট্রোরেলের নিচের সড়কে কোনো সড়কবাতি নেই। সেন্ট্রাল স্টেশন থেকে বউবাজার পর্যন্ত কিছু বাতি থাকলেও তার অধিকাংশই অকেজো। এছাড়া উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে তুরাগ থানা রোডেও কোনো বাতি নেই। ১৫, ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন সড়ক রাতের বেলায় ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে থাকে। স্থানীয়দের রাতের বেলা চলাচল করতে হয় আশপাশের রেস্টুরেন্ট বা দোকানের আলোর ওপর ভরসা করে।
এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই দু-একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তবে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা অহরহ ঘটলেও হয়রানির ভয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ বা মামলা করতে যান না। ফলে নিরাপত্তাহীনতার এই প্রকৃত চিত্রটি পুলিশি রেকর্ডে উঠছে না।
উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
অফিস থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার সময় চরম ভয়ে থাকি। চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার, কোথাও পর্যাপ্ত আলো নেই। প্রায়ই এখানে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেন ১৫ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা আহমেদ আলী। তিনি বলেন, “রাজউক বলেছিল এটি একটি আধুনিক আবাসিক এলাকা হবে। সড়কে খানাখন্দ থাকবে না, পর্যাপ্ত সড়কবাতি থাকবে এবং প্রতিটি মোড়ে নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা ও কল্যাণ সমিতির নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী থাকবে। কিন্তু বাড়িঘর নির্মাণ হলেও এসব নাগরিক সুবিধা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সড়কের এই বেহাল দশায় ঝুঁকিতে আছেন চালকরাও। উত্তরা এলাকার অটোরিকশাচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “মেট্রোর নিচের রাস্তায় রাতে আলো না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। অন্ধকারে রাস্তার গর্ত বোঝা যায় না। যাত্রী নিয়ে যাওয়ার সময় সবসময় ছিনতাইয়ের আতঙ্কে থাকতে হয়। এছাড়া মাদকসেবীদের কারণেও বাড়তি সতর্ক থাকতে হয়।
বর্তমানে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল পর্যন্ত রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মেট্রোরেল চলাচল করছে। বিপুল সংখ্যক নগরবাসী এই আধুনিক গণপরিবহনের সুবিধা নিচ্ছেন। তবে মেগাপ্রজেক্টের স্টেশনগুলোতে আলোর ঝলকানি থাকলেও, নিচের সড়কে পর্যাপ্ত সড়কবাতির কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।
এলাকার সার্বিক নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “গত দেড় মাসে ৭০০-এর বেশি বিভিন্ন ক্যাটাগরির অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র একটি চুরির মামলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন সেক্টরগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যে চারটি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতিগুলোর সঙ্গে সভা করে তাদের নিজ নিজ সেক্টরে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এলেন বিশ্বাস