
রাজধানীর তুরাগ থানাধীন ১২ নম্বর সেক্টর পাসপোর্ট অফিসের পশ্চিম পাশে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪:৩০ এর দিকে মারমা কোম্পানির একটি দ্রুতগামী গাড়ির চাকার নিচে পড়ে ফাতেমা নামে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় শিশুটির মাথার একপাশের চামড়া উঠে গেছে।
উৎসুক জনতার গণধোলাই ও পুলিশি উদ্ধার
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারমা কোম্পানির ওই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন চালক আনোয়ার, যিনি নিজে ওই কোম্পানির একজন স্টাফ। ঘটনার পরপরই স্থানীয় উৎসুক জনতা ধাওয়া করে চালক আনোয়ারকে ধরে ফেলে এবং উত্তেজিত হয়ে তাকে গণধোলাই দেয়।
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ফাতেমার মা এক রিকশাচালকের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে। খবর পেয়ে তুরাগ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে চালক আনোয়ারকে উদ্ধার করে এবং গাড়িটিসহ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন বলেন: পাসপোর্ট অফিসের এই রাস্তাটিতে গাড়িগুলো প্রায়ই বেপরোয়া গতিতে চলে। আজ চালকের অসতর্কতার কারণেই এতটুকু বাচ্চার এই অবস্থা হলো। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই এবং মারমা কোম্পানির মতো বড় প্রতিষ্ঠানের চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।
আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান: বাচ্চাটার অবস্থা দেখে আমাদের বুক কেঁপে উঠেছে। মাথার চামড়া উঠে পুরো রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছিল। আমরা চাই পুলিশ যেন চালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে তুরাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজ বলেন:
ঘটনাটি আমি শুনেছি এবং ঘটনাস্থল থেকে গাড়িসহ গাড়ির ড্রাইভারকে আটক করা হয়েছে। তবে সেই শিশুটির পরিবার থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। তারা যদি লিখিত অভিযোগ করেন, তবে আমরা আইন মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বর্তমানে চালক ও গাড়ি উভয়ই পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।