
ফাহাম আব্দুস সালাম রচিত ‘বাঙালির মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে’ বইটি নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি পাঠচক্রের আসর করেছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুসভা। ২৪ অক্টোবর রাতে গুগল মিটে এটি অনুষ্ঠিত হয়।
বাঙালি হিসেবে আমরা নিজেদের যতটা শ্রেষ্ঠ মনে করি, বাস্তবে আমাদের চিন্তাভাবনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা কি ততটাই সমৃদ্ধ? এমনই কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায় বইটি। এতে লেখক বাঙালির রাজনৈতিক বোধ, ঔপনিবেশিক মানসিকতা, পুঁজিবাদ, ভাষা ও সামাজিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। প্রচলিত বিশ্বাস ও চিন্তাধারাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে তিনি পাঠককে আত্মসমালোচনা করতে এবং সমাজকে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করতে উৎসাহিত করেন।
বইটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর সাবলীল উপস্থাপনা, প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে বিষয়গুলোকে দেখার চেষ্টা এবং পাঠকের মধ্যে প্রশ্ন জাগিয়ে তোলার ক্ষমতা। তবে বাঙালি সমাজের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে লেখকের কিছু বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণের সুযোগও রয়েছে। তাই বইটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে যুক্তি, বিচার-বিশ্লেষণ ও সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পড়াই শ্রেয়।
.
একটি জাতিকে ভালোবাসার অর্থ তার সবকিছুকে শ্রেষ্ঠ মনে করা নয়; বরং তার সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে উত্তরণের পথ খোঁজা। আত্মতুষ্টি নয়, আত্মসমালোচনা ও যুক্তিনির্ভর চিন্তাচর্চাই পারে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করতে।
‘বাঙালির মিডিয়োক্রিটির সন্ধানে’ এমন একটি বই, যা পাঠককে শুধু নতুন কিছু ভাবতে শেখায় না; বরং নিজের চিন্তা, বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গিকেও প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করে। আর সেখানেই বইটির বিশেষত্ব।
সাধারণ সম্পাদক সানজিদ মুনতাসীর বলেন, পাঠচক্রের সার্থকতা শুধু বই পড়ায় নয়, বরং বই থেকে জন্ম নেওয়া চিন্তা ও প্রশ্নের মধ্য দিয়ে নিজেদের সমৃদ্ধ করায়।
সভাপতি সৌরভ খান বলেন, আত্মসমালোচনা দুর্বলতা নয়; বরং নিজেদের সীমাবদ্ধতা বুঝে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।
সহসভাপতি, নোবিপ্রবি বন্ধুসভা