• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
যে গল্পের নায়িকা আমার মা ইসির পরীক্ষা হবে আগামীকাল: ১১–দলীয় ঐক্য সার্বিয়ায় সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে ব্যাংকার, বাস্কেটবল তারকা, চিকিৎসক ও অধ্যাপক ফ্রান্সে আন্দোলনে মুসলিমদের কেন ‘ভিলেন’ বানানো হচ্ছে আলভারেজ–কাণ্ডে ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা বার্সেলোনার, তবু আপিল করবে ক্লাবটি গায়ক ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার, কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ স্তন ক্যানসার মানেই অপসারণ নয়, দ্রুত শনাক্ত হলে নিরাময় সম্ভব অতিরিক্ত মানসিক চাপে কি মাথার চুল এক রাতে পেকে যেতে পারে ব্রাজিলের ফুটবলাররা কেন ব্যালন ডি’অর জিততে পারছেন না ধানখেত পাহারায় গিয়েছিলেন কৃষক, দুই হাত কেটে লাশ ফেলে রাখা হয় সড়কে

ফ্রান্সে আন্দোলনে মুসলিমদের কেন ‘ভিলেন’ বানানো হচ্ছে

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

প্যারিসসহ ফ্রান্সের শহরগুলোতে যে বিদ্রোহের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, তা প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর অধীন দেশটিকে গ্রাস করা সংকটের গভীরতাকেই স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। এটি ক্ষোভের কোনো সাময়িক বিস্ফোরণ নয়।

এর সঙ্গে ১৯৬৮ সালের মে মাসের সেই ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থানের বেশ মিল রয়েছে। একটি ছাত্রবিদ্রোহ শেষ পর্যন্ত একটি জাতীয় উত্তাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছিল এবং যার প্রভাব আজও ফ্রান্সের সমাজ ও রাষ্ট্রকে প্রভাবিত করে চলেছে।

মাখোঁর শাসনকালকে যদি একটিমাত্র শব্দে সংজ্ঞায়িত করতে হয়, তবে সেই শব্দ হলো ’ক্ষোভ’। ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন থেকে শুরু করে পেনশন সংস্কারের বিরুদ্ধে ধর্মঘট, কিংবা শহরতলিগুলোর দাঙ্গা থেকে আজকের এই বিক্ষোভ—ফ্রান্স যেন এক টানা অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

দেশের সব সমস্যার পেছনে যে মাখোঁ একাই দায়ী, তা নয়; তবে ফ্রান্সের জনগণের প্রতি, বিশেষ করে উত্তর আফ্রিকান ও আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ফ্রান্সের নাগরিক, এমনকি ফ্রান্সের আফ্রিকান অংশীদার দেশগুলোর প্রতি নিজের অহংকার ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিষাক্ত করে তুলেছেন।

.ফ্রান্স কেন আন্দোলনকারীদের ওপর এত সহিংস হয়ে উঠছে.

এই বিদ্রোহের শিকড় প্রোথিত রয়েছে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভ্যন্তরীণ সংকটে—ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, স্থবির বেতনকাঠামো, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং ছড়িয়ে পড়া দারিদ্র্য। মাখোঁর নব্য-উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতি ফ্রান্সের বৈষম্যকে আরও বাড়িয়েছে এবং সরকারি পরিষেবাগুলোর ধ্বংস ত্বরান্বিত করেছে।

ফ্রান্সের শিশুদের বিদ্যালয়ে স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের পবিত্র বাণী শেখানো হয়; কিন্তু বাস্তব জীবনে তারা যে ফরাসি সমাজের মুখোমুখি হয়, তা কেবল বৈষম্য আর অন্যায়ে ভরা।

মুহাম্মদ বা আয়েশা নামের একজন তরুণ বা তরুণী হয়তো জন্মসূত্রে, ভাষায় ও শিক্ষায় পুরোদস্তুর ফরাসি, এমনকি তাঁরা হয়তো ফরাসি পরিবারের তৃতীয় বা চতুর্থ প্রজন্ম, তবুও চাকরি, বাসস্থান কিংবা নাগরিক পরিষেবার আবেদন করতে গিয়ে তারা পদে পদে প্রত্যাখ্যাত হয়।

এর নির্মম পরিণতি হলো তরুণ নাগরিকদের এমন এক প্রজন্ম তৈরি হয়েছে, যাদের ফ্রেঞ্চ ছাড়া অন্য কোনো ভাষা জানা নেই; অথচ নিজ দেশেই তাদের প্রতিনিয়ত পরবাসী বা ‘বিদেশি’ অনুভূতির মুখোমুখি হতে হয়।

.

যে তরুণেরা ফ্রান্সের হাইস্কুলগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা খুব ভালো করেই জানতেন যে কেন তাঁরা প্রতিবাদ করছেন—শিক্ষক–সংকট, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন এবং মা-বাবার বর্তমান অবস্থার চেয়েও এক অনিশ্চিত ও দরিদ্র ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে তাঁদের এই লড়াই। অথচ তারা রাজপথে নামতে না নামতেই অন্য পক্ষ হাজির হলো, তাদের প্রতিবাদের আসল অর্থ কী, তা শেখাতে!

এই তালিকায় প্রথমেই ছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ তিনি দাবি করেন, ‘এ আন্দোলন স্কুলের জন্য নয়; বরং একসময়ের এই মহান দেশটিকে ইসলাম দখল করতে চাইছে বলেই এসব হচ্ছে!’

তাতেও ট্রাম্প থামেননি। হোয়াইট হাউসের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেন, ‘প্যারিস খুব শিগগির একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে।’

কৌশলটা খুবই সহজ। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট করে বলছেন, তারা কেন পথে নেমেছেন, আর ট্রাম্প তাঁদের শোনাচ্ছেন অন্য কথা। সেখানে স্কুল, মজুরি আর জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নগুলো একনিমেষে গায়েব হয়ে গেল। তার জায়গায় সামনে নিয়ে আসা হলো উগ্র-ডানপন্থীদের সেই বহু পুরোনো জুজু ‘সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মুসলিম আক্রমণকারী’।

.ফ্রান্সে কেন বারবার সহিংস দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটে.ফ্রান্সে স্কুলশিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কেন ঐতিহাসিক.

এরপর এলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ইউরোপের মুসলমানদের হুমকি বানানোর কোনো সুযোগই হাতছাড়া করেন না।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ফ্রান্স ‘উগ্র ইসলামের আগ্রাসনের কাছে নতি স্বীকার করেছে’ এবং হুঁশিয়ারি দেন যে ‘তারা ফ্রান্সকে গিলে খাবে, পুরো ইউরোপকে গিলে খাবে।’ এরপর তিনি তাঁর আসল উদ্দেশ্য হাসিল করতে গিয়ে দাবি করেন—২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর তিনি নাকি মাখোঁকে সতর্ক করেছিলেন যে গাজায় হামাসকে ধ্বংস করা না হলে প্যারিসেও হামাস ঢুকে পড়বে; আর এখন নাকি ঠিক সেটিই ঘটছে!

এটি কোনো আকস্মিক মন্তব্য ছিল না। এটি ছিল এক সুচিন্তিত ও বহু পুরোনো কৌশলের অংশ।

২০১৭ সালে মাখোঁর পাশে দাঁড়িয়েও নেতানিয়াহু সতর্ক করেছিলেন যে ‘রাজনৈতিক ইসলাম ইসরায়েল ও ইউরোপীয় দেশ—উভয়কেই ধ্বংস করতে চায়।’ এমনকি তিনি ব্রিটেনকেও একটি ‘ইসলামিক রিপাবলিক’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

নেতানিয়াহুর এই সমীকরণ কখনোই বদলায় না—ফিলিস্তিন, অভিবাসন ও ইসলামকে একটি একক হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করো; ইসরায়েলকে সভ্যতার যুদ্ধের ফ্রন্টলাইন হিসেবে তুলে ধরো; আর ইউরোপীয়দের বোঝাও যে তাদের মধ্যকার মুসলিম নাগরিকেরাই আসলে ঘরের শত্রু বিভীষণ।

.

এর উদ্দেশ্য একেবারেই পরিষ্কার। শিক্ষকদের জন্য রাজপথে নামা ফরাসি শিক্ষার্থীদের যদি প্যারিসের ‘হামাস’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া যায়, তবে ইউরোপের রাজপথে উড়তে থাকা প্রতিটি ফিলিস্তিনি পতাকাই নিরাপত্তা হুমকিতে পরিণত হয়; আর গাজার ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রতিবাদই ‘অনুপ্রবেশের প্রমাণ’ হিসেবে গণ্য হয়।

এভাবেই ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতিকে ‘উগ্রবাদ’ বানিয়ে দেওয়া হয়; আর ইউরোপের মুসলিম নাগরিকেরা নিজ দেশেই সন্দেহভাজন অপরাধী হয়ে ওঠেন। ভয় তৈরি করাটা নেতানিয়াহুর রাজনীতির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটিই তাঁর রাজনীতির প্রধান পণ্য।

এর পেছনে একটি পুরোনো হিসাব মেটানোর বিষয়ও আছে, যা নিয়ে নেতানিয়াহু তাঁর আনন্দ গোপন করতে পারেননি। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের নিন্দা জানিয়েছিল ফ্রান্স। গাজায় ইসরায়েলের ত্রাণ অবরোধকে মাখোঁ ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলেছিলেন এবং গত বছর ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যা ইসরায়েলকে চরম ক্ষুব্ধ করে।

.

কৌশলটা খুবই সহজ। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট করে বলছেন, তারা কেন পথে নেমেছেন, আর ট্রাম্প তাঁদের শোনাচ্ছেন অন্য কথা। সেখানে স্কুল, মজুরি আর জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নগুলো একনিমেষে গায়েব হয়ে গেল। তার জায়গায় সামনে নিয়ে আসা হলো উগ্র-ডানপন্থীদের সেই বহু পুরোনো জুজু ‘সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মুসলিম আক্রমণকারী’।

.

কৌশলটা খুবই সহজ। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট করে বলছেন, তারা কেন পথে নেমেছেন, আর ট্রাম্প তাঁদের শোনাচ্ছেন অন্য কথা। সেখানে স্কুল, মজুরি আর জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নগুলো একনিমেষে গায়েব হয়ে গেল। তার জায়গায় সামনে নিয়ে আসা হলো উগ্র-ডানপন্থীদের সেই বহু পুরোনো জুজু ‘সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মুসলিম আক্রমণকারী’। ট্রাম্প কথা বলছিলেন আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন ভোটারদের উদ্দেশে, আর নেতানিয়াহু সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন ইসরায়েলের আগাম নির্বাচন সামনে রেখে; কিন্তু তাঁদের ছোড়া কথাগুলো এসে আঘাত করল ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে, যেখানে আর মাত্র ছয় মাস পরেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।

ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুর এই গল্প আসলে মারিন ল্য পেনের উগ্র-ডানপন্থী ইশতেহারেরই অন্য এক সংস্করণ—যেখানে অভিবাসনের অর্থ হলো আক্রমণ, ইসলাম একটি হুমকি এবং শহরতলিগুলো শত্রুর ঘাঁটি।

এই ক্ষোভের আসল কারণগুলো মোকাবিলা করার বদলে মাখোঁর প্রধানমন্ত্রী আঙুল তুললেন বামপন্থীদের দিকে। সেবাস্টিয়ান ল্যাকোর্নু চরম বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সহিংসতা আয়োজনের অভিযোগ তোলেন।

.লুলার বিজয় ইউরোপের আন্দোলনে যে কারণে উদ্দীপনা ছড়াল.

এই অভিযোগ বেশ সাদরে গৃহীত হলো—ল্য পেনও একইভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে যুক্তিসংগত সামাজিক দাবিগুলোকে হাইজ্যাক করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনেন। মধ্যপন্থী এবং চরম ডানপন্থী—উভয়েই যেন একই চিত্রনাট্য দেখে দেখে কথা বলছিলেন।

এমনকি এবার মাখোঁর নিজেকে বাঁচাতে অভিবাসীদের দোষ দেওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি; কারণ বহু বছর ধরে এই দোষারোপের সংস্কৃতিকে তিনিই একটি গ্রহণযোগ্য রূপ দিয়েছেন। অভিবাসন, ইসলাম ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে তিনি প্রায়ই সেই ডানপন্থীদের থেকে আলাদা কিছু ছিলেন না, যাঁদের তিনি বিরোধিতা করার দাবি করেন।

বলির পাঁঠা হয়তো আলাদা; কিন্তু উদ্দেশ্য একই—আসল জায়গায় দায় না রেখে অন্য যেকোনো স্থানে তা চাপিয়ে দেওয়া।

মুসলিম, অভিবাসী আর বামপন্থী—সবাইকে ব্যবহার করা হচ্ছে সরকারের দিকে শিক্ষার্থীদের তোলা প্রশ্নগুলোকে ধামাচাপা দিতে। স্কুলগুলোকে কে জরাজীর্ণ হতে দিলেন? সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কে কেড়ে নিলেন? কার শাসনকালে একটি পুরো প্রজন্ম মা-বাবার চেয়েও দরিদ্র জীবনযাত্রার প্রত্যাশায় বাঁচতে বাধ্য হলো?

ফ্রান্সের এই সংকট কেবল তাদের সীমান্তের ভেতরেই আটকে নেই। একসময়ের সুবিশাল সাম্রাজ্যটি আজ এক ক্ষীয়মাণ ও সংকটগ্রস্ত মধ্যম শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

.

আনুষ্ঠানিক ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর কয়েক দশক ধরে প্যারিস তার সাবেক উপনিবেশগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে আফ্রিকায় রাজনৈতিক, সামরিক, আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের এক সুবিশাল জাল বজায় রেখেছিল। ‘ফ্রাঁসাফ্রিক’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার দৌলতে ফ্রান্স তার জনসংখ্যা বা অর্থনীতির আকারের তুলনায় অনেক বেশি বৈশ্বিক প্রভাব খাঁটাতে পেরেছিল।

কিন্তু সেই ব্যবস্থার তাসের ঘর এখন ভাঙতে শুরু করেছে। মালি, নাইজার, চাদ এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র থেকে নিজেদের সামরিক বাহিনী গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে ফ্রান্স। আলজেরিয়া, সেনেগালসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও সম্পর্ক দিন দিন তিক্ত হচ্ছে। আফ্রিকান সরকারগুলো এখন ফ্রান্সের বদলে চীন, রাশিয়া, তুরস্ক ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ফ্রান্সের বর্তমান সংকট কোনো সাময়িক মন্দা নয়। এটি এক গভীর ও কাঠামোগত সমস্যা। আগামী নির্বাচনে যদি উগ্র ডানপন্থীরা জয়ী হয়, তবে এই সমস্যা আরও তীব্র রূপ ধারণ করবে।

.এক ভয়ংকর মুসলিমবিদ্বেষের দিকে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য.যুক্তরাজ্যের রাজনীতিকেরা যেভাবে মুসলিমবিদ্বেষ তাতিয়ে তুলছেন.

আর চরম পরিহাসটি লুকিয়ে আছে ঠিক এই জায়গাতেই। ২০২০ সালে মাখোঁ ঘোষণা করেছিলেন যে বিশ্বজুড়েই ‘ইসলাম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে’। ঔপনিবেশিক মাতবরি খাটিয়ে তিনি নিজেকে সেই চিকিৎসকের ভূমিকায় দাঁড় করিয়েছিলেন, যিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর সেসব প্রশাসকের মতো অন্যদের রোগ সারাবেন।

আজ ফ্রান্স যখন তীব্র সংকটে পর্যুদস্ত, তখন মাখোঁ নিজেই সাহায্যের খোঁজে ছুটে গেছেন সেই মুসলিম বিশ্বের প্রাণকেন্দ্রে। জীবনযাত্রার তীব্র ব্যয়–সংকটের মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে তিনি দোহা থেকে কথা বলছিলেন।  
কখনো হয়তো প্রশ্নটা এটা ছিলই না যে তথাকথিত সংকটে থাকা ইসলামকে কে সুস্থ করবে। আসল প্রশ্ন হলো, সংকটগ্রস্ত ফ্রান্সকে কে আরোগ্য দান করবে?

  • সুমাইয়া গানুশি ব্রিটিশ তিউনিসীয় লেখক ও মধ্যপ্রাচ্য–বিশেষজ্ঞ। মিডল ইস্ট আই থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!