• রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দখলে উত্তরা বিআরটিএ: ভোগান্তির শেষ নেই সেবাগ্রহীতাদের ৩ স্ক্যানারই অচল: ঢাকা বিমানবন্দরে কার্গো বিপর্যয়ের মুখে তৈরি পোশাক রপ্তানি, বাড়ছে ঘুষের বাণিজ্য উত্তরায় চীনা নাগরিকদের সন্দেহজনক ভ্লগিং: আড়ালে কী? শাহজালালে নিয়ম মানছে না কেউ: ভিড় নিয়ন্ত্রণে অসহায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের অব্যবস্থাপনা: যাত্রী দুর্ভোগ নিরসনে জরুরি সংস্কার দাবি তুরাগে ১ কেজি গাঁজাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক উত্তরায় অবরোধে স্থবির টঙ্গী-বিমানবন্দর সড়ক: কয়েক কিলোমিটার জুড়ে গাড়ির সারি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তরায় শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ ​ উত্তরা আব্দুল্লাহপুর মহাসড়কের বেহাল দশা ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনায় জলাবদ্ধতা: দায় এড়াতে বাসিন্দাদের ওপর দোষারোপ ডিএনসিসি প্রশাসকের

মেহেরপুরে র‍্যাব কনস্টেবল মামুনের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৭৫ Time View
Update : রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

মেহেরপুর জেলার গাংনী র‍্যাব ক্যাম্পের কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুনের (বিপি- ৯৭১৮২০৬৪৯৪) বিরুদ্ধে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি, শারীরিক নির্যাতন এবং চাঁদার টাকা না পাওয়ায় মিথ্যা মামলা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের কাছে র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে কনস্টেবল মামুন অস্ত্র, মাদকসহ মামলায় ফাঁসানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে হুমকি ধামকি এবং শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। কনস্টেবল মামুন বিভিন্ন ব্যবসায়ী, গরুর খামারি, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে টার্গেট করে চাঁদা দাবি করেন। আর দাবিকৃত চাঁদা না পেলেই শুরু করেন নানাভাবে হয়রানি ।

গাংনী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের গনজের আলীর ছেলে জসিম উদ্দিন। পেশায় গরুর খামারি জসিমের কাছে চাঁদা দাবি করেন র‍্যাব কনস্টেবল মামুন। বিষয়টি নিয়ে র‍্যাব-১২, সিপিসি-৩ গাংনী ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও তিনি কোনো বিচার পাননি। জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি একজন গরুর খামারী। হঠাৎ একটি মোবাইল নম্বর থেকে গত ৮ মে সন্ধ্যা ৭ টা ২০ মিনিটে র‍্যাব পরিচয়ে ফোন আসে। আমার অবস্থান জানতে চায় এবং আমার কাছে টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে গত ৯ মে সকাল ১০ টার সময় র‍্যাবের কনস্টেবল মামুন ও সাথে থাকা শুভঙ্কর আমার বসতবাড়ীতে আসে। গালাগালি করে এবং পিস্তল ঠেকিয়ে বলে তোকে মাদক দিয়ে চালান দেবো। এই বলে সেদিন চলে যায়। তারপর আবার ১১ মে বিকাল ৪ টা ৫৭ মিনিটে কল করে তোকে যেখানে পাবো মামলা দিয়ে চালান দিবো পঞ্চাশ হাজার টাকা দিবি বলে ফোন কেটে দেয়।’

একই উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে মিনজারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ করে তিনজন লোক আমার বাড়িতে প্রবেশ করে ডাক দেয়। বাইরে বের হলে র‍্যাবের পরিচয় দিয়ে আমাকে বলে তুই গাঁজার ব্যবসা করিস। আমি তখন বলি আমি চাকরি করি, ওসবের সাথে সম্পর্ক নেই। তখন তারা বলে আমাদের টাকা না দিলে গাঁজাসহ তোকে চালান করে দেব। মোশারফ নামের এক সোর্সের মাধ্যমে আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে মামুন। পরে ১৪ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং বাকি টাকার জন্য আবার আমার বাড়িতে আসলে টাকা দিতে না পারায় আমাকে প্রচণ্ড মারধর করে। শারীরিক নির্যাতনের পরে সোর্স মোশারফের কাছে থাকা ৬০ গ্রাম গাঁজা বের করে আমাকে বলে তোর কাছে থেকে পাওয়া গেছে। আমাকে ধরে নিয়ে র‍্যাব ক্যাম্পে যায়। তারপর মিথ্যা গাঁজার মামলা দিয়ে আমাকে চালান দেয়।’

 

জুগিন্দা গ্রামের পলিয়ারা বলেন, ‘আমার স্বামীর কাছ থেকে বাড়িতে এসে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মামুন একবার টাকা নিয়ে যায়। তারপর আবার এসে টাকা না পেয়ে মারধর করে নিয়ে যায়। আমি এসব অন্যায়ের বিচার চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা মনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘তিনজন ব্যক্তি এসে কোনো কথা ছাড়াই মারতে শুরু করে। বাড়ি ঘর এবং তাকে তল্লাশি না করেই গাঁজা ব্যবসায়ী বানিয়ে দেয়।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, গাংনী র‍্যাব ক্যাম্পের কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুন (বিপি- ৯৭১৮২০৬৪৯৪) গাংনী র‍্যাব ক্যাম্পের সাবেক দুই কোম্পানি কমান্ডারের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। কনস্টেবল মামুনের বিরুদ্ধে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন পশুহাটে কৌশলে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে।

একটি পশুহাটের ইজারাদার (নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘র‍্যাবের কনস্টেবল মামুন আমাদের পশুহাটে এসে আমার সাথে দেখা করেন। তিনি বলেন স্যারের নির্দেশে এসেছি, আমাদের জন্য একটি খাম রেডি করে রাখবেন। পরে আমরা বিভিন্নভাবে তাকে এড়িয়ে যাই।’

আরেকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘কনস্টেবল মামুন আমার সাথে দেখা করে বলে ভাইবেন না, র‍্যাব মারা গেছে। কথা না শুনলে বিপদে পড়বেন।’

গত রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সিভিল ড্রেসে আসামি ধরতে গিয়ে গুম করার হুমকি দেওয়ায় মেহেরপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পাশে কনস্টেবল মামুনসহ কয়েকজনের সঙ্গে জনগণের হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল হয়।

একাধিক ভয়াবহ অভিযোগের বিষয়ে জানতে র‍্যাব ক্যাম্পে কনস্টেবল আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে সাক্ষাতে ও মুঠোফোন যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি ছুটিতে আছেন।

র‍্যাব-১২, সিপিসি-৩ গাংনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ‘বিষয়টি যাচাই-বাছাই ও তদন্তে যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!