
রাজধানীর উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ভবনটিতে আগুন ধরে যায় এবং দুর্ঘটনার সময় সেখানে ক্লাস চলছিল বলে জানা গেছে। যেখানে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাইলস্টোন কলেজের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগের সামনে উপস্থিত এ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের কতজন শিক্ষার্থী এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে- আমি তার খোঁজখবর নিতে এসেছি। যে ভবনটিতে বিমান বিধ্বস্ত হয় সেখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস হতো। ভেতরে শতাধিক শিক্ষার্থী ছিল। অনেকে হতাহত হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন মারা গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ ৫০ জনের বেশি। বিকেলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের সিনিয়র স্টাফ অফিসার মো. শাহজাহান শিকদার এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, ৯টি ইউনিট ও ৬টি অ্যাম্বুলেন্স কাজ করছে। উদ্ধার কাজ এখনো চলমান আছে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজে প্রথম শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণির ক্লাস চলছিল। হঠাৎ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা দিশেহারা হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে, কেউ কেউ আশেপাশের রুম থেকে দৌড়ে মাঠে ছুটে যায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিভাবক-স্বজনরা ছুটে আসেন সন্তানদের খোঁজ নিতে। কলেজের প্রবেশপথে ও আশপাশে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা গেছে। ভিডিওতে দুর্ঘটনাস্থলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়।
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় আগামীকাল মঙ্গলবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।