
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রেস্টহাউজে নারীসহ ধরা পড়া মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ক্লোজড হয়েছেন। সোমবার (৭ জুলাই) তাকে ক্লোজড করে ঝিনাইদহ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। এছাড়া, তার বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইমরান জাকারিয়া সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও রেস্টহাউজ কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ৩০ জুন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পুরাতন রেস্টহাউজের কপোতাক্ষ কক্ষে ওঠেন পার্শ্ববর্তী জেলা ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম। এর ঘণ্টা দুয়েক পরে পাঁচ-ছয়জন সহযোগী নিয়ে রেস্টহাউসে হাজির হন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাসান সনি। দরজায় ধাক্কা দিতেই বাইরে বেরিয়ে আসেন ওসি সাইফুল। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা কক্ষে প্রবেশ করতে গেলে বাধা দেন তিনি। একপর্যায়ে টেনেহেঁচড়ে ধস্তাধস্তি করে ওসিকে সঙ্গে নিয়েই কক্ষে প্রবেশ করেন তারা। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতা সনি ও সহযোগীরা ভাঙচুর চালান ও তাঁদের ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় আনসার সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মচারীকে মারধরও করেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে হাজির হলে ছাত্রদলের নেতা সনি ওসি সাইফুল এবং ওই নারীকে পেছনের দরজা দিয়ে বের করে দেন।
জানা গেছে, স্ত্রী পরিচয়ে ওই নারীকে সঙ্গে নিয়ে ওসি সাইফুল রেস্টহাউজে ওঠেছিলেন। ধরা পড়ার পর ছাত্রদলের নেতাদের মোটা অংকের টাকা দিয়ে তিনি রক্ষা পান। টাকা লেনদেন দেখে ফেলায় রেস্টহাউজ দায়িত্বরত দুই কর্মচারিকে মারধরও করা হয়। এই ঘটনা জানাজানি হলে সোমবার রাতে সময়ের কন্ঠস্বরে ‘রেস্টহাউজে নারীসহ ওসি সাইফুল, কেলেঙ্কারি ফাঁস!’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ইমরান জাকারিয়া সাংবাদিকদের জানান, ‘মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা মিললে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উল্লেখ্য, ওসি সাইফুল ইসলামের দাবি ছিল, সেদিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্টহাউজে এক বান্ধবীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। কোন কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেনি। এটা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এক প্রশ্নে ওসি জানিয়েছিলেন, গোলাম হাসান সনি, রাজেদুর রহমান সাগর, জিসানসহ ছাত্রদলের কিছু ছোট তার সাথে দেখা করার জন্য রেস্টহাউজে গিয়েছিলেন। তারা স্বাভাবিকভাবে কথাবার্তা বলে চলেও যান। তাকে জিম্মি করে কেউ কোন টাকা পয়সা হাতিয়ে নেননি। ঘটনাটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিও চিত্র কি মিথ্যা প্রশ্ন করা হলে ওসি কোন মন্তব্য করতে নারাজ হন।