• বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
তুরাগে মাদক কারবারিদের আড়ালে মাদকসেবী আটক: অভিযানের নামে ‘রহস্যজনক বাণিজ্য’ দিয়াবাড়ীতে সরকারি খাল গিলে খাচ্ছে অবৈধ কাইকিং সিন্ডিকেট, প্রশাসন নির্বিকার উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি খালিদ মুনসুর টানা দ্বিতীয়বার ডিএমপির ‘সেরা’ সড়কবাতি ও সিসিটিভিহীন উত্তরা মডেল টাউন এখন ছিনতাইকারীদের কবলে! লাগেজ হাতে যাত্রী, কোলে বাচ্চা: মেট্রো স্টেশনগুলোতে রিকশার চিপায় রুদ্ধশ্বাস যাতায়াত সতর্ক না হলেই সর্বনাশ! উত্তরার অভিজাত এলাকায় সক্রিয় ‘হানি ট্র্যাপ’ বাণিজ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায় কর আরোপ: প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ ভোক্তার পকেটে শাহজালালে দুবাই ফেরত বিমানে ১৯ কেজি স্বর্ণ জব্দ, বাজারমূল্য ৪৫ কোটি টাকা দুবাই-ঢাকা স্বর্ণ চোরাচালান রুট: সাড়ে ৫ বছরে ৩ হাজার ৭০০ কোটির সোনা জব্দ গাড়ির নিচে ছিল শিশু ফাতেমা, মাথার চামড়া উপড়ে রক্তাক্ত; চালক আটক

ক্ষুদ্র ব্যবসায় কর আরোপ: প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ ভোক্তার পকেটে

Reporter Name / ৩৬ Time View
Update : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

 

মুদি দোকানসহ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং করব্যবস্থার আওতা সম্প্রসারণ করা। তবে উত্তরার মতো অভিজাত ও জনবহুল এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এই নতুন করের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তার পকেটে গিয়েই চাপবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। তবে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির হিসাবে দেশে খুচরা বিক্রেতার সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এই বাস্তবতায় মুদি দোকানসহ ১৬ থেকে ১৭ ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসাকে সুনির্দিষ্ট কর বা নির্ধারিত ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।

 

 

তবে সরকারের এই ঘোষণা ঘিরে উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরের মুদি দোকানি ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই সংবাদমাধ্যমে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য শুনলেও, কীভাবে কর আদায় হবে কিংবা কত টাকা কর দিতে হবে এসব বিষয়ে এখনও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই।

 

 

এনবিআর তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসার ধরন, অবস্থান ও আকার বিবেচনায় নিয়ে বছরে ১ হাজার, ৫ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্দিষ্ট কর নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেও বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন আয়সীমার দোকান করের আওতায় আসবে বা কী পদ্ধতিতে কর আদায় হবে, তার স্পষ্ট নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন উত্তরার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

 

 

উত্তরার ৩, ৭, ১১ ও ১৪ নম্বর সেক্টরের কাঁচাবাজার ও বিভিন্ন গলির ভেতরের দোকানে কথা বলে জানা গেছে, করের এই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপর গিয়েই আছড়ে পড়বে: উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টর বাজারের এক মুদি দোকানি বলেন, এমনিতেই উত্তরার মতো এলাকায় দোকান ভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী। তার ওপর যদি সরকার নতুন কর আরোপ করে, তবে অতিরিক্ত ব্যয়ের এই অংশ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গেই সমন্বয় করতে হবে। এতে সাধারণ ক্রেতারাই বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন।

 

উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের এক হাউজিং এলাকার ভেতরের দোকানদার আলী আকবর বলেন, বর্তমানে পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণ অনেক কমে গেছে। এর মধ্যে নতুন করে করের বোঝা চাপলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।

 

ব্যবসায়ীদের মতে, উত্তরায় জীবনযাত্রার ব্যয় বেশি হওয়ায় ক্রেতারা এমনিতেই হিসাব করে চলেন। এর মধ্যে নিত্যপণ্যের দাম আরেকটু বাড়লে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ আরও বাড়বে।

উত্তরার অধিকাংশ দোকানি কর ব্যবস্থার আওতায় আসতে নীতিগতভাবে আপত্তি না জানালেও, তারা একটি সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত কর ব্যবস্থা চান, যেন নতুন করে কোনো কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি বা কোনো কর্মকর্তা কর্তৃক বাড়তি হয়রানি না ঘটে।

 

 

প্রতিবেদকের ভাষ্যমতে করের আওতা বৃদ্ধি রাজস্ব আহরণের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

শুরুতে কর চাপানোর চেয়ে নিবন্ধন ও সঠিক তথ্যভান্ডার (Database) তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সহজে কর পরিশোধ পদ্ধতি এবং হয়রানিমুক্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা না গেলে ব্যবসার ব্যয় বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারে এর একটি বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।সব মিলিয়ে, সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর নতুন কোনো চাপ না বাড়িয়ে কীভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যায় তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের জন্য

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!