• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
এক বেলা মাংসের স্বাদে ভুলেছিল অভাব: সেই সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মানবিক গল্প” শাহজালালে ট্রলি সংকট চরম আকার: মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরও কেনা হয়নি নতুন ট্রলি পাঠাও চালক যখন ধর্ষক: রাইড শেয়ারিংয়ের পরিচয়ে তরুণীকে অফিসে নিয়ে ধর্ষণ ধোঁয়ায় মরে না মশা: লার্ভা ধ্বংস না করে লোকদেখানো কার্যক্রম উত্তরায় ৯৬১ বোতল ফেনসিডিল ও ২ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ আটক ১ সুবিধাবঞ্চিতদের স্বপ্ন পূরণে নীরবে এগিয়ে চলেছে ‘আমাদের উত্তরা ফাউন্ডেশন’ ক্ষমতা নয়, পাঠকের আস্থাই হোক গণমাধ্যমের আসল শক্তি লাইটার পিস্তল’ দিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব: জনমনে চরম আতঙ্ক বিমানের কর্মীরা কাজে নয়, ঘুমিয়ে পকেট ভরছেন ওভারটাইমের টাকা  তুরাগে মাদক কারবারিদের আড়ালে মাদকসেবী আটক: অভিযানের নামে ‘রহস্যজনক বাণিজ্য’

এক বেলা মাংসের স্বাদে ভুলেছিল অভাব: সেই সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মানবিক গল্প”

এলেন বিশ্বাস / ২২ Time View
Update : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

 

“পেট ভরে গোস্তের মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছি, খুব মজা লাগছে!”  কথাগুলো বলছিল উত্তরা ফাউন্ডেশন স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছোট্ট আয়াতুন নুসরাত। তার মতো আরও অর্ধশতাধিক শিশুর চোখেমুখে আজ ছিল আনন্দের ঝিলিক। যেখানে অনেক সময় নুন-ভাতে বা নামমাত্র পুষ্টিতে দিন কাটে, সেখানে এক বেলা গরুর মাংসের এই আয়োজনে যেন উৎসবের আমেজ লেগেছিল এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে।

 

রাজধানীর উত্তরা ফাউন্ডেশন স্কুলটি মূলত খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষের সন্তানদের জন্য এক বাতিঘর। অভিভাবকরা দিনমজুর বা ছোটখাটো পেশায় নিয়োজিত থাকায় পুষ্টিকর খাবার তাদের কাছে প্রায়ই বিলাসিতা। সেই শিশুদের এক বেলা পেটভরে খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই খুশির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর সংকট ও দীর্ঘশ্বাস।

 

শিশুদের চোখে তৃপ্তি ও অকৃত্রিম আনন্দ

দুপুরের খাবার শেষে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এনামুল ইসলাম বলে, মা আমাদের প্রতিদিন ভালো খাবার দিতে পারে না। আজ স্কুলের স্যারেরা আমাদের মাংস দিয়ে ভাত খাইয়েছেন। অনেকদিন পর এত পেট ভরে খেয়েছি, খুব ভালো লাগছে।আরেক শিক্ষার্থী সিয়ামের ভাষায়, মনে হচ্ছে আজ ঈদের দিন। শিশুদের এই তৃপ্তিময় চাহনিই যেন আয়োজকদের জন্য শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।

 

স্কুলটির শিক্ষকরা কেবল পাঠদানই করেন না, তারা শিশুদের অভিভাবক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাচ্চাগুলোর মলিন মুখ যখন তৃপ্তিভরে খাবার খায়, তখন আমাদের সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। কিন্তু এই আনন্দটুকু ধরে রাখা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা চাই আমাদের স্কুলের বাচ্চারা প্রতিদিন পেট ভরে পুষ্টিকর খাবার পাক। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন সেই সামর্থ্য আমাদের হয়। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন। আমাদের দাতা সদস্য খুব কম। অনেক সময় মাসের ২০ তারিখ পার হয়ে যায় শিক্ষকদের বেতন দিতে, তখন নিজেরাও অসহায় বোধ করি।

 

শিশুদের অভিভাবকরাও এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত। স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একজন অভিভাবক বলেন, আমরা গরিব মানুষ, সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও যা পাই তা দিয়ে সংসার চলে না। বাচ্চাকে ভালো কিছু খাওয়ানোর সাধ্য আমাদের নেই। স্কুলের স্যারেরা আমাদের বাচ্চাদের যে ভালোবাসেন, পেট ভরে খাওয়ালেন এতে আমরা তাদের কাছে চিরঋণী। দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের সাহায্য করার মতো সামর্থ্য দেন।

 

অনিশ্চয়তার পথে এক মানবিক উদ্যোগ

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা নিয়মিত এমন আয়োজনের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ করা প্রতিনিয়ত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। শিক্ষকদের বেতন বকেয়া রেখেও তারা যেটুকু সম্ভব করছেন, তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের একটাই আকুতি, আমাদের সাপোর্ট খুবই কম। আমরা খুব অসহায় বোধ করছি।

 

উত্তরা ফাউন্ডেশন স্কুলের এই শিশুরা আমাদেরই সমাজের অংশ। তাদের এই হাসিমুখ ধরে রাখতে এবং শিক্ষার আলো আরও ছড়িয়ে দিতে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা এখন সময়ের দাবি।

 

সহায়তার আবেদন:

আপনার সামান্য অনুদান এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দুপুরের খাবারের নিশ্চয়তা এবং শিক্ষকদের সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এই শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আপনার মানবিক হাতটি বাড়িয়ে দিন।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!