• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

বছরের শুরুর দিনই পাঠ্যবই পৌঁছানো হোক

Reporter Name / ২০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী শিখনঘাটতি নিয়ে পরবর্তী শ্রেণিতে উঠছে। শিক্ষক ও শিক্ষা উপকরণের ঘাটতি এর বড় কারণ হলেও শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো পাঠ্যবই তুলে দিতে না পারার ব্যর্থতাও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে। গত দুই শিক্ষাবর্ষের অভিজ্ঞতা তার বড় দৃষ্টান্ত। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সময়মতো পাঠ্যবই ছাপা না হওয়ায় ক্ষতি হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এবারেও নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। ফি বছর এমন মন্দ দৃষ্টান্তের পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রথম আলোর খবর জানাচ্ছে, আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি বই ছাপা হচ্ছে। প্রাথমিকের ক্ষেত্রে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক। ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৮৬ শতাংশের বেশি বই ছাপা হয়েছে, সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ শতাংশ। কিন্তু মাধ্যমিকের চিত্র ভিন্ন। ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের প্রায় অর্ধেক ছাপা হলেও সরবরাহ হয়েছে মাত্র ৪০ শতাংশ। আরও উদ্বেগের বিষয়, নবম-দশম শ্রেণির মাত্র ৩ শতাংশের মতো বই সরবরাহ করা হয়েছে।

.

এনসিটিবি বলছে, ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপা শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর লক্ষ্য রয়েছে। জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা সব বই পাবে বলে তারা জানিয়েছে। অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতায় এনসিটিবির এই বক্তব্যে আশ্বস্ত হওয়ার সুযোগ নেই। চলতি শিক্ষাবর্ষে শতভাগ বই সরবরাহ করতে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় লেগেছিল। তার আগের বছর লেগেছিল প্রায় তিন মাস। প্রশ্ন হচ্ছে, বই ছাড়া শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যে ক্ষতি হয়, তার দায় কে নেবে?

এবার নতুন করে আরেকটি উদ্বেগ তৈরি করেছে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির চারটি বই। ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘খেলাধুলা’, ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বই চারটির অনুমোদনই হয়েছে ২৫ অক্টোবর। শিক্ষাবর্ষ শুরুর মাত্র দুই মাস আগে নতুন বইয়ের অনুমোদন ও কার্যাদেশের প্রক্রিয়া চলতে থাকা পরিকল্পনার ঘাটতিকেই সামনে আনে। বছরের শেষভাগে পাঠ্যবই অনুমোদন কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়।

.

পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ইতিহাস ও স্বাধীনতার ঘোষণাসহ কয়েকটি বিষয়ে এবার পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের ভাষ্য ও ব্যাখ্যা বদলে যাওয়ার প্রবণতা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। বিষয়বস্তুর পরিবর্তন হতে হবে গবেষণা, ঐতিহাসিক তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে; রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়। একই সঙ্গে সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ যথেষ্ট আগে শেষ করতে হবে, যাতে মুদ্রণ ও সরবরাহের সময় কমে না যায়। শেষ মুহূর্তে বিষয়বস্তু বদলানো হলে ভুলের ঝুঁকি বাড়ে, আবার মুদ্রণকারীদের ওপরও চাপ পড়ে। 

.

শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো বই পৌঁছে দিতে গিয়ে ছাপা, কাগজ ও বাঁধাইয়ের মানে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে অতীতে নিম্নমানের কাগজ, ঝাপসা ছাপা ও দুর্বল বাঁধাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ বছর এর পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে। আমরা মনে করি, নির্দিষ্ট সময়ে বই ছাপানো ও বইয়ের ছাপার মান ঠিক রাখার  দায়িত্ব এনসিটিবির। কোনো মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে থাকলে এখনই কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিদিনের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে তদারক করতে হবে। কোথাও কোনো সমস্যা তৈরি হলে দ্রুত তার সমাধান করতে হবে।

আমরা মনে করি, শিক্ষাব্যবস্থায় যে শিখনঘাটতি নিয়ে শিক্ষার্থীরা বেড়ে উঠছে, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি উপায় হলো বছরের শুরুর দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছানো। এখানে এনসিটিবির ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। 

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!