• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দল হারলে কী হতে পারে

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (প্রতিনিধি পরিষদ) কিংবা সিনেট—কংগ্রেসের যেকোনো কক্ষের নিয়ন্ত্রণ যদি ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের হাতে নিতে পারেন, তবে তাঁরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার একাংশ ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হবেন।

এমন সাফল্যের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষমতা পাবেন ডেমোক্র্যাটরা। সরকারি ব্যয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাঁদের ভূমিকা বাড়বে। এমনকি, ট্রাম্পের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত বাতিল করার উদ্যোগও নিতে পারবেন। ট্রাম্প যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করে আসছেন, সে বিষয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও নিতে পারেন তাঁরা।

কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা নিজেদের অগ্রাধিকারের বিষয় তুলে ধরতে কয়েকটি দলীয় অবস্থাননির্ভর বিল পাস করতে পারেন। তবে বাস্তবে তাঁদের কাজ করার সুযোগ সীমিত থাকবে। নিজেদের মধ্যে ঐক্য ও দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখাও সহজ হবে না। কারণ, সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না ট্রাম্প। ফলে সরকার পরিচালনা সচল রাখতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতায় আসার আগ্রহ তাঁর কম থাকতে পারে।

.

ডেমোক্র্যাট সংখ্যাগরিষ্ঠ কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘তখন যা ঘটবে, তা হলো আমি সবকিছুতে ভেটো দেব। এরপর ডেমোক্র্যাটরা আসবে এবং তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইবে।’

ডেমোক্র্যাটরা যেসব পদক্ষেপকে সত্যিই আইনে রূপান্তর করতে চান, সেগুলো পাস করানোর জন্য সম্ভবত বার্ষিক বাজেট বরাদ্দের মতো ‘অবশ্যই পাসযোগ্য’ এমন সব বিলের অংশ করতে হবে। আর সে জন্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে—অন্তত সিনেটে তো বটেই। কারণ, জিওপির (গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি বা রিপাবলিকান পার্টি) ভোট ছাড়া এককভাবে বিল অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ওই কক্ষে ডেমোক্র্যাটরা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে না।

প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা কী ধরনের ক্ষমতা অর্জন করতে পারেন এবং তা দিয়ে তাঁরা কী করতে পারবেন—তার একটি রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:

ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার সংকট ও মূল্যস্ফীতির কারণেই মূলত ভোটাররা একসময় ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। আর এবার হয়তো সেই মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতার সংকটের কারণেই ভোটাররা ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট হতে পারেন। ডেমোক্র্যাটরা এখন সাধারণ মানুষের এই ক্রয়ক্ষমতার ওপর নতুন করে নজর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে থাকা অবস্থায় তাঁদের পক্ষে করার মতো হয়তো খুব বেশি কিছু থাকবে না। ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা নাকচ করে দেওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা ডেমোক্র্যাটরা পাবেন—এমন সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। এর অর্থ, ট্রাম্পের শুল্কনীতি কাটছাঁট করা কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধংদেহী অবস্থান বন্ধের যেকোনো প্রচেষ্টায় রিপাবলিকানদের সহায়তার প্রয়োজন পড়বে।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের শীর্ষ নেতা হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, তাঁদের দল পাঁচটি খাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উপায় খুঁজতে বিশেষ কর্মদল গঠন করছে। এগুলো হলো আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা, গ্যাস ও জ্বালানি পরিষেবা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্য।

.

তখন (ডেমোক্র্যাট–নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে) যা ঘটবে, তা হলো আমি সবকিছুতে ভেটো দেব। এরপর ডেমোক্র্যাটরা আসবে এবং তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে চাইবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প, মার্কিন প্রেসিডেন্ট

.

করদাতাদের অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, সেটিই হবে ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকা সবচেয়ে বড় ক্ষমতার জায়গা। অর্থাৎ, ট্রাম্পকে কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দ বন্ধ বা কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে পারবেন তাঁরা। সরকারকে সচল রাখতে কংগ্রেসের কাছ থেকে আইনগত অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন হবে ট্রাম্পের। তবে তাঁর দুই মেয়াদেই একাধিকবার দীর্ঘ সময়ের জন্য সরকারি অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেছে। এসব অচলাবস্থা ছিল ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়।

ডেমোক্র্যাটদের বাধা এড়াতে রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের অভিবাসননীতির অর্থায়ন নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। এ জন্য ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি—ডিএইচএস) ব্যয় মেটানোর অর্থ অনুমোদন করেছেন তাঁরা। ডেমোক্র্যাটরা এ অর্থ বরাদ্দ বাতিলের চেষ্টা করতে পারেন। তবে ট্রাম্পের ভেটো ঠেকানোর মতো ভোট তাঁদের হাতে না-ও থাকতে পারে। বিপুল অর্থ পাওয়ার পর ডিএইচএস কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়েও তাঁদের নিয়ন্ত্রণ সীমিত হতে পারে।

আরেকটি বড় বিরোধের বিষয় হতে পারে সরকারি ঋণের সর্বোচ্চ সীমা। ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’ পাসের সময় রিপাবলিকানরা এ ঋণসীমা পাঁচ ট্রিলিয়ন (পাঁচ লাখ কোটি) ডলার বাড়িয়েছিলেন। করছাড়ের এ আইন জাতীয় ঋণের পরিমাণও অনেক বাড়িয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে আবার ঋণসীমা বৃদ্ধি করতে হবে।

ট্রাম্পের ওয়াশিংটন ডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ আটকে দিতে বা বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটরা তাঁদের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন। ট্রাম্প এসব প্রকল্পকে রাজধানীর সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের চোখে এগুলো তাঁর ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের প্রকল্প। সম্ভবত এ কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুতগতিতে বিজয়তোরণ নির্মাণ এবং চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যায়ের গলফ কোর্স তৈরির মতো প্রকল্প এগিয়ে নিতে চাইছে। এসব নির্মাণে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করতে চান ট্রাম্প।

তবে ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’-এ থাকা বড় ধরনের কিছু ব্যয়সংকোচন বাতিল বা সংশোধন করতেও ডেমোক্র্যাটদের বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন (৪০ লাখ কোটি) ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় দলের অনেক নেতার কাছেও এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

.

‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’–এর আওতায় স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি প্রিমিয়াম ভর্তুকি চালু রাখার বিষয়টি দুই বছর ধরে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। এই ভর্তুকি বাড়ানোর দাবিতে গত বছর তাঁরা রেকর্ড ৪৩ দিন সরকার অচল করে রেখেছিলেন। রিপাবলিকান নেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বাড়তি সহায়তা চালু রাখা ছিল তাঁদের লক্ষ্য। তবে গত বছরের শেষ দিকে ওই সহায়তার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

বাড়তি ভর্তুকির মেয়াদ শেষ হওয়ায় চলতি বছর স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম বা কিস্তির পরিমাণ ৫৮ শতাংশ বেড়েছে। বিমার আওতা থেকেও বাদ পড়েছেন কয়েক মিলিয়ন মানুষ।

তবে শুধু এ ভর্তুকি চালু রাখতেই বিপুল অর্থ প্রয়োজন হবে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ভর্তুকির মেয়াদ স্থায়ীভাবে বৃদ্ধি করতে ১০ বছরে ৩৫০ বিলিয়ন (৩৫ হাজার কোটি) ডলার ব্যয় হতে পারে।

.

রিপাবলিকানদের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর কারণে মেডিকেইডে (নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি) যে ঐতিহাসিক ব্যয়সংকোচন করা হয়েছে, তা বাতিলের ক্ষেত্রেও ডেমোক্র্যাটদের ঠিক করতে হবে, কোন কোন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাঁরা অবস্থান নেবেন। প্রথমবারের মতো চালু হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত শর্তের (কাজের বাধ্যবাধকতা) কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্বাস্থ্যসেবার আওতা হারাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বাধ্যবাধকতা বাতিল করা কঠিন হবে। অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা। আইনের কয়েকটি ধারা ও বিধান কার্যকর হওয়ার সময় পিছিয়ে দেওয়া বা সেগুলো শিথিল করার চেষ্টা করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা।

এর অর্থ অবশ্য এ নয় যে মেডিকেইডে ব্যয়সংকোচন কার্যকর হওয়ার সময় ডেমোক্র্যাটরা চুপচাপ বসে থাকবেন। এসব বিধান কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা তাঁরা সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সুবিধাভোগী, সাধারণ মানুষ, হাসপাতাল ও অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর এর প্রভাবও তুলে ধরবেন তাঁরা।

ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ (এমএফএন) চুক্তি সম্পর্কেও আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। এসব চুক্তিকে আইনে পরিণত করতে চান ট্রাম্প। তবে চুক্তিগুলোর শর্ত কী, সেগুলো কীভাবে কাজ করছে এবং এর ফলে রোগীদের ওষুধের খরচ সত্যিই কমেছে কি না—এসব বিষয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

নির্বাচনী প্রচারে কিছু প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সবার জন্য মেডিকেয়ার চালুর পক্ষে কথা বলেছেন। তবে আগামী কংগ্রেসের মেয়াদে আরও বেশি মানুষের জন্য মেডিকেয়ার কর্মসূচি সম্প্রসারণে ডেমোক্র্যাটরা উদ্যোগ নেবেন, এমনটা আশা করা যাচ্ছে না।

.

ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট পদে থাকা অবস্থায় ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে করার মতো হয়তো খুব বেশি কিছু থাকবে না। ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা নাকচ করে দেওয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা ডেমোক্র্যাটরা পাবেন—এমন সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। এর অর্থ, ট্রাম্পের শুল্কনীতি কাটছাঁট করা কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর যুদ্ধংদেহী অবস্থান বন্ধের যেকোনো প্রচেষ্টায় রিপাবলিকানদের সহায়তার প্রয়োজন পড়বে।

.

শুরুতেই ট্রাম্পের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ট্রিলিয়নিয়ার (লাখ কোটিপতি) ইলন মাস্ককে নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্পের সম্মতিতে মাস্ক যে কথিত সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি—ডিওজিই) চালু করেছিলেন, তা নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়েছে। মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া সরকারি চুক্তিগুলোও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

কংগ্রেসের আইনে প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি সংস্থা কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ট্রাম্প যে উদ্যোগ নিয়েছেন, সেগুলোও প্রথমবারের মতো আইনপ্রণেতাদের কঠোর নজরদারির মুখে পড়তে পারে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি), কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরো ও শিক্ষা বিভাগ।

প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ট্রাম্পের সন্তানদের অর্থ উপার্জনের কর্মকাণ্ডও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে ট্রাম্প নিজেই ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি আয় করেছেন। অথচ এ খাতের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণের দায়িত্বও তাঁর হাতে থাকতে পারে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ব্যাপক হারে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহিষ্কার এবং দেশে দেশে শুল্ক আরোপের মতো ট্রাম্পের সবচেয়ে বিতর্কিত নীতিগুলোও খতিয়ে দেখা হবে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চের মতো মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও জনসমক্ষে শুনানিতে অংশ নিতে আরও বেশি সময় দিতে হবে। তাঁদের মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোও কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটির কঠোর নজরদারির মুখে পড়বে।

.

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের সমর্থন থাকতে পারে। তবে ট্রাম্পকে এ যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করা জটিল হবে।

ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু ট্রাম্প এরই মধ্যে আইনের এ–সংক্রান্ত বিধান এড়িয়ে চলার পথ বের করেছেন।

এ ছাড়া কোনো ইস্যুতে ট্রাম্পের দেওয়া ভেটো বাতিল করতে প্রয়োজন হবে ৬৭টি ভোট। এ জন্য রিপাবলিকানদের সহযোগিতা লাগবে।

নির্বাচনের পর থেকে নতুন আইনপ্রণেতারা আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে (বিদায়ী কংগ্রেসের সময়) ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকানরা ইরান যুদ্ধের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে একটি বিল পাস করার ব্যাপক চেষ্টা চালাবেন। ডেমোক্র্যাটরা হয়তো চেষ্টা করবেন পেন্টাগন বা যুদ্ধের বাজেট আটকে দিয়ে নীতিতে পরিবর্তন আনতে। তবে সরকারি ব্যয় অনুমোদনে যে বার্ষিক বাজেট বিল পাস করতে হয়, সেটির ভেতরে শর্ত বসিয়ে যুদ্ধের নীতি বা অর্থ আটকে দেওয়া সম্ভব কি না—তা নিয়ে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হবে।

ট্রাম্প যদি একা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান, কিন্তু যুদ্ধ যদি মার্কিন নাগরিকদের কাছে অজনপ্রিয় হয়ে ওঠে, তবে নিজের দল (রিপাবলিকান), কংগ্রেস এবং সাধারণ মানুষের সেই প্রবল চাপ ট্রাম্পের পক্ষে বেশি দিন উপেক্ষা করা কঠিন হবে।

.

রিপাবলিকানদের ঐতিহাসিক ব্যয়সংকোচনের প্রভাব কমাতে ডেমোক্র্যাটরা ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর একটি বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারেন। ওই বিধান অনুযায়ী, কোনো অঙ্গরাজ্যে খাদ্যসহায়তার অর্থ বিতরণে ভুলের হার বেশি হলে সুবিধার খরচের একটি অংশ সেই অঙ্গরাজ্যকে বহন করতে হবে। বর্তমানে পুরো ব্যয় বহন করে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে আগামী অক্টোবর থেকে অনেক অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রে এ নিয়ম পরিবর্তিত হবে।

ফার্ম বিলের অংশ হিসেবে এ বিধান কার্যকরের সময় দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটের কৃষিবিষয়ক কমিটি ইতিমধ্যে এক বছর সময় বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে একই সঙ্গে যেসব অঙ্গরাজ্যে ভুলের হার বেশি, তাদের জন্য জরিমানার হার বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর বিরোধিতা করছেন ডেমোক্র্যাটরা।

খাদ্যসহায়তা বিতরণে ভুলের হারসংক্রান্ত এ বিধানের কারণে কয়েকটি অঙ্গরাজ্য আবেদন ও সহায়তা নবায়নের প্রক্রিয়া কঠোর করেছে। বাড়ানো হয়েছে কাগজপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও। এর ফলে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্প বিলটিতে স্বাক্ষর করার পর থেকে ৫৫ লাখের বেশি মানুষ খাদ্যসহায়তা হারিয়েছেন বলে জানিয়েছে ফুড রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন সেন্টার।

তবে আগামী বছর এ বিধানের কারণে অঙ্গরাজ্যগুলোর বাজেটে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। এমনিতেই অনেক অঙ্গরাজ্যের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। এ পরিস্থিতিতে তারা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, যার ফলে খাদ্যসহায়তা পাওয়া মানুষের সংখ্যা আরও কমতে পারে।

.

আমেরিকান কাউন্সিল অন এডুকেশনের সরকারি সম্পর্কবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জন ফ্যানস্মিথ বলেন, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ঋণের পরিমাণ কমানো এবং অনেক ঋণগ্রহীতার জন্য ঋণ শোধের সুযোগ-সুবিধা কমানোর ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের সঙ্গে নিজেদের পার্থক্য তুলে ধরতে চাইবেন ডেমোক্র্যাটরা।

এ জন্য কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের কঠোর নিয়মগুলো বহাল রাখার পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। অন্যথায় প্রস্তাবিত প্যাকেজে ট্রাম্পকে ভেটো দিতে বাধ্য করার পথও নিতে পারেন।

এদিকে শিক্ষা বিভাগের একটি বিতর্কিত বিধান পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। এটি কার্যকর হলে নার্স, চিকিৎসা সহকারী, ফিজিক্যাল থেরাপিস্টসহ স্বাস্থ্যসেবা খাতের কয়েকটি পেশার মানুষ চিকিৎসকদের তুলনায় কম শিক্ষাঋণ নিতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সংকট থাকায় এ বিধান পরিবর্তনের বিষয়ে দুই দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে সমর্থন তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন শিক্ষা বিভাগ ভেঙে দেওয়া এবং এর দায়িত্ব অন্য সরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তরের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা নিয়েও নজরদারিমূলক শুনানি করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। এসব পদক্ষেপে শিক্ষার্থী ও তাঁদের শিক্ষার পরিবেশের উন্নতি হচ্ছে, নাকি ক্ষতি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা।

.

শুরুতেই ট্রাম্পের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ট্রিলিয়নিয়ার (লাখ কোটিপতি) ইলন মাস্ককে নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্পের সম্মতিতে মাস্ক যে কথিত সরকারি দক্ষতা বিভাগ (ডিওজিই) চালু করেছিলেন, তা নিয়ে এখনো অনেক প্রশ্ন রয়েছে। মাস্কের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া সরকারি চুক্তিগুলোও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

.

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও মেডিকেয়ারের ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ ফুরিয়ে আসার যে আশঙ্কা রয়েছে, তা মোকাবিলায় আগামী এক বছরে ডেমোক্র্যাটরা বড় কোনো পদক্ষেপ নেবেন—এমনটা আশা করা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকে এ দুই কর্মসূচির ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে সময়সীমা ঘনিয়ে আসার আগে এই জটিল ও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কোনো দলই বড় ধরনের উদ্যোগ নেবে বলে মনে হচ্ছে না।

তবে কর্মসূচি দুটির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটরা কিছু বিলের প্রস্তাব দিতে পারেন। এর মাধ্যমে তাঁরা সমস্যার সমাধানে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে চান, তা স্পষ্ট করতে পারবেন। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ক্ষেত্রে তাঁদের সাধারণ অবস্থান হলো, বেতন থেকে কর কাটার ক্ষেত্রে আয়ের যে সর্বোচ্চ সীমা রয়েছে, তা বাড়ানো। এতে উচ্চ আয়ের মানুষের বেতনের আরও বড় অংশের ওপর কর আরোপ করা যাবে। কেউ কেউ কর্মসূচির সুবিধাও বৃদ্ধি করার পক্ষে। যেমন জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতি রেখে বার্ষিক ভাতা বাড়ানো কিংবা সর্বনিম্ন মাসিক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি করা।

মেডিকেয়ারের আর্থিক সংকট মোকাবিলা আরও জটিল হবে। ডেমোক্র্যাটরা এ কর্মসূচির আওতায় দাঁত ও চোখের চিকিৎসা এবং শ্রবণসংক্রান্ত সেবা যুক্ত করে সুবিধা বৃদ্ধি করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে কর্মসূচির ব্যয় কমানোর উপায়ও খুঁজছেন। এর একটি হলো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজের আওতায় বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া অর্থের পরিমাণ কমানো।

.

এ বছর ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর ডেমোক্র্যাটদের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন হাকিম জেফরিস। দুই পক্ষের মধ্যে যেসব বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করতে তাঁরা বৈঠক করেছিলেন। আবাসন ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে কথা বলেন তাঁরা। বিশেষ করে আবাসন খাত এমন একটি বিষয়, যেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে।

নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গেও আবাসন ও অবকাঠামো প্রকল্প নিয়ে কথা বলেছেন ট্রাম্প। নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দ্বিদলীয় সাফল্য ছিল ‘ফার্স্ট স্টেপ অ্যাক্ট’ পাস। আইনটি প্রণয়নে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের সদস্যরাই একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরের কয়েক মাসে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

.যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কী, কেন গুরুত্বপূর্ণ, কী কী জানা দরকার

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!