• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

ভারতের সিইসি জ্ঞানেশ জনতার দরবারে অভিশংসিত

Reporter Name / ১ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

ভারতীয় সংসদের দুই কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব গৃহীত না হলেও বিরোধী জনতার দরবারে তিনি অভিশংসিত হলেন। রাজ্যসভার বিরোধী নেতা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সরকারি বাসভবনের প্রশস্ত লনে আজ শনিবার সেই ‘গণ অভিশংসনপর্ব’ আয়োজন করা হয়।

জ্ঞানেশ কুমারকে মোট ৬টি অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ‘গণ অভিশংসন’ প্রস্তাব উল্লেখ করে মল্লিকার্জুন খাড়গে একে একে অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। তার আগে তিনি বলেন, সিইসির সঙ্গে তাঁদের কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। তাঁরা শুধু দেখতে চেয়েছিলেন তিনি তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু তা তিনি করেননি। সংবিধান প্রণেতারা গণতন্ত্র মজবুত করতে যা করে গিয়েছিলেন, নরেন্দ্র মোদি–অমিত শাহর হয়ে জ্ঞানেশ তা শেষ করে দিয়েছেন।

.

খাড়গে এরপর এক এক করে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। ১. সিইসি হিসেবে নিরপেক্ষতার ধারকাছ দিয়ে না হেঁটে তিনি শাসক দলের হয়ে ভোট চুরির চক্রান্ত করেছেন। ২. চক্রান্ত করতে গিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই ১৩ কোটি ৩০ লাখ ভোটারের নাম খসড়া তালিকা থেকে কেটে দিয়েছেন। ৩. সংসদের তোয়াক্কা না করে বেআইনিভাবে তিনি ‘ফর্ম ৬’ বদলে দিয়েছেন। ৪. ইসিআইনেটের মাধ্যমে ভোটার তালিকার কেন্দ্রীকরণ করেছেন। ৫. কমিশন ৩ সদস্যের হওয়া সত্ত্বেও অন্য দুই কমিশনারকে অন্ধকারে রেখে তিনি একা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ও তা চাপিয়ে দিয়েছেন। এবং ৬. নিরপেক্ষতা ভুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নির্দেশমতো কাজ করেছেন।

.এসআইআর নিয়ে কি ফেঁসে যেতে পারেন সিইসি জ্ঞানেশ, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট কী বলছেন.

প্রস্তাব উত্থাপন করে খাড়গে বলেন, নিরপেক্ষভাবে কাজ না করা এবং বিজেপিকে ভোটে জিততে সুবিধা করে দেওয়ার অপরাধে জ্ঞানেশ কুমারকে সিইসির পদ থেকে সরাতে ৭ মাস আগে ১৯৩ জন সদস্য সংসদের উভয় কক্ষে অভিশংসন নোটিশ জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নোটিশ বিবেচনা না করেই খারিজ করে দেওয়া হয়। খাড়গে বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকতে ২০১৪ থেকে বিজেপি একের পর এক ষড়যন্ত্র করে চলেছে। টাকা দিয়ে সংসদ সদস্য কিনেছে। বিরোধী দল ভাঙিয়েছে। বিরোধীদের সরকার ফেলে দিয়েছে। নির্বাচনী বন্ড মারফত টাকা তুলে দলে তহবিল বাড়িয়েছে। ইডি, সিবিআইসহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে। সেই সঙ্গে শুরু করেছে ভোট চুরি। আর এই জ্ঞানেশদের রক্ষাকবচ দিতে সংসদ থেকে শতাধিক সদস্যকে বহিষ্কার করে বিজেপি আইন পাস করেছে, যা দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতিরও নেই।

.

সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলা এই ‘গণ অভিশংসন’ আয়োজনে বিভিন্ন নেতা জ্ঞানেশ কুমারের সমালোচনা করেন। মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মহুয়া মৈত্র বলেন, বেছে বেছে মুসলমানদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছেন। পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়েন ভোটারদের মধ্যে ৭১ শতাংশ মুসলমান।

সবার শেষে বলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভোট চুরি ২০২৪–এর লোকসভা নির্বাচনটাই অবৈধ করে দিয়েছে। জ্ঞানেশ কুমার যা করেছেন তাতে তাঁকে শুধু ‘অভিশংসন’ করলেই হবে না। তিনি দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। দেশের বিরোধিতা করেছেন। তিনি যা করেছেন তা দেশদ্রোহ। দেশদ্রোহের শাস্তিও তাঁকে পেতে হবে। রাহুল বলেন, তাঁদের কাছে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে যা জ্ঞানেশকে সরানোর জন্য যথেষ্ট। আজ অথবা কাল তাঁকে যেতেই হবে। বিজেপি যদি তাঁকে নিয়ে জেদাজেদি করে তা হলে তাদের চরিত্রও পরিষ্কার হয়ে যাবে।

রাহুল বলেন, দেশের যুব, ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক সবাই বুঝে গেছে ভোট চুরি হলে কিছুই আর অবশিষ্ট থাকে না। এই আন্দোলনে তাই সবাই শামিল। এটা এখন আর কোনো দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন নয়। এটা মানুষের আন্দোলন হয়ে গেছে।

.জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেও বিপদ, রাখলেও বিপদ—নিজের পাতা ফাঁদে নিজেই পড়ল মোদি সরকার.

‘গণ অভিশংসন’ পর্ব শেষ হয় স্পিকার হিসেবে মীরা কুমার প্রস্তাবটি ভোটে দিলে। সবাই হাত তুলে প্রস্তাবের পক্ষে মত দেন। মীরা বলেন, পাঁচ বছর তিনি লোকসভার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন। কোনো প্রস্তাব এভাবে সর্বসম্মতিতে বিনা বিরোধিতায় পাস হতে দেখেননি। সংসদে যেমন হয়, তেমনই জাতীয় সংগীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে জ্ঞানেশের ‘গণ অভিশংসন’ শেষ হয়। অনুষ্ঠান শেষ হলেও ‘ভোট চোর গদ্দি ছোড়’ স্লোগান ওঠে।

উল্লেখ্য, অভিসংশিত করা মানে সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অপরাধের দায়ে কোনো উচ্চপদস্থ সাংবিধানিক কর্মকর্তাকে সংসদের বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপসারণ করা।

বিরোধীদের এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করতে বিজেপি ছাড়েনি। দলের মুখপাত্র সম্বিত পাত্র বলেন, সারা পৃথিবী বুঝে গেছে রাহুল গান্ধীর জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। ওই উপগ্রহ আর উড়বে না। নকল সংসদে নকল প্রধানমন্ত্রী হয়েই তাঁকে সারা জীবন কাটাতে হবে।

গতকাল শুক্রবার এই ‘গণ অভিশংসন’ আয়োজনের কথা ছিল। কিন্তু লাগাতার বৃষ্টির দরুন খোলা আকাশের নিচে তা করা যায়নি। আজ শনিবার দুপুরে দেখা গেল, প্রশস্ত লনটি পুরনো সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলের আদলে সাজানো হয়েছে। স্পিকারের আসনে বসেন ইউপিএ আমলে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করা বিহারের কংগ্রেস নেত্রী মীরা কুমার। তাঁর সামনে কয়েক সারি টেবিল ও বেঞ্চ, ঠিক যেমন সেন্ট্রাল হলে বসানো আছে তেমন। তার পেছনে চেয়ারের সারি। সংসদ ভবন ও সেন্ট্রাল হলে সদস্যরা যেমন টেবিল চাপড়ে বক্তব্য সমর্থন করেন, এখানেও দেখা যায় নেতাদের বক্তব্যকে সবাই তেমনভাবেই অনুমোদন করছেন। তবে সেই জমায়েতে বিরোধী সংসদ সদস্যদের মতো বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, ছাত্র–যুব নেতা এবং নাগরিক সমাজের মানুষজনও উপস্থিত ছিলেন। আক্ষরিক অর্থেই বিরোধীরা ওই মঞ্চকে ‘গণ অভিশংসন’–এর আসর করে তুলেছিলেন।

.পুলিশকে ফাঁকি দিয়েছেন ঠিকই, মোদির জন্য কি চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারবেন নেহা বোরা

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!