• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে অনিয়মের অভিযোগ

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এখনই বিষয়টি গুরুত্ব না দিলে সরকারের প্রায় পৌনে ২০০ কোটি টাকা গচ্চা যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে লাভবান হবে দুর্নীতিবাজরা আর ভুক্তভোগী হয়ে থাকবে এই অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ।জানা গেছে, দেশের শীর্ষ স্থানীয় নির্মাণাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্ট ট্রেডিং অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড কর্তৃক সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক প্রশস্তকরণ, আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় এক মাস আগে। গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কে দুই লেন ও সেখান থেকে ছাতকবাজার পর্যন্ত চার লেনের কাজ চলছে। দুই অংশে কাজের জন্য ব্যয় হচ্ছে- ১৭৪ কোটি টাকা। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহারের জন্য মাধবপুর লালপুল এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ ব্লক তৈরির টার্গেট নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ইতোমধ্যে শারফিনটিলার মরা লাল পাথরের সঙ্গে বিল্ডিং ভাঙার কংক্রিট, নিম্নমানের বালু ও সিমেন্ট দিয়ে ২০ হাজার ব্লক তৈরির অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে কাজের মান নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।এছাড়া সড়ক সম্প্রসারণে কাদাযুক্ত মাটি দিয়ে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সাইট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নদী থেকে মাটি উত্তোলন করে সড়কে সাপ্লাই দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে । শুধু তাই নয়, সড়কের পাশে ময়লার ওপর ভিটমাটি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। যা সামান্য বৃষ্টি কিংবা পানির সামান্য ধাক্কায় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব কাজের তদারকি কিংবা কোনো সাইনবোর্ড নেই। সচেতন মহলের অভিযোগ, শুকনো মাটির পরিবর্তে কাদামাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে সড়কের প্রশস্তকরণ কাজ। যা টেকসই রাস্তার জন্য মোটেও উপযোগী নয়। ব্লক তৈরির কাজে জড়িত শ্রমিকরা বলছেন, ঠিকাদারের নির্দেশনা মতোই তারা কাজ করছেন। এদিকে, অবৈধভাবে কৃষিজমি ও সরকারি জমি থেকেই আনা হচ্ছে কাদামাটি। অন্যদিকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সুরমা নদী থেকে ভিটবালু উত্তোলন করে রাখা হচ্ছে সিলেট সুনামগঞ্জ সড়কের কাজীবাড়ী এলাকায়। এসব ভিটমাটি সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে সরবরাহ করে অবৈধ ফায়দা হাসিলের অভিযোগ উঠেছে। সিলেট সদর উপজেলার বাসিন্দা চমক আলীর বিরুদ্ধে সিলেট, ছাতক কোম্পানিগঞ্জ, জালালাবাদ অংশ থেকে অবৈধভাবে ভিটমাটি উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে । ২০২৫ সালে ছাতকের লালপুল এলাকা থেকে তার একটি ড্রেজারসহ ড্রেজারের মালিক হাবিবকে আটক করেছিলেন ছাতক উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম। পরে তাকে তদবীর করে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। সম্প্রতি কাজীবাড়ী এলাকায় ভিটমাটিতে অভিযান করেন বিশ্বনাথের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিহাব বিন আমিন। শেষ পর্যন্ত সেটাও ধামাচাপার অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে বিশ্বনাথের ভূমি কর্মকর্তা জানান, উপস্থিত কাগজপত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি, অন্য কোথা থেকে ভিটমাটি এনে এখানে রাখা হচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।অন্যদিকে চমক আলী বিভিন্ন বৈধ-অবৈধ ওয়ার্ক অর্ডার জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নদী থেকে এসব ভিটমাটির ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সড়কের সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত দুই লেনের মাটি ভরাট কাজ ও ভিটমাটিও তিনি সাপ্লাই দিচ্ছেন। তার মাধ্যমে কৃষিজমি থেকে কাদাযুক্ত মাটি সরবরাহ করছেন অনেকেই। অভিযোগ উঠেছে, এই কাজকে ঘিরে চমক আলীর নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।এ বিষয়ে চমক আলী তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত শুধু মাটি ভরাটের কাজ তিনি করছেন। ভিজা মাটির কারণ দেখিয়ে গত সোমবার রাত থেকে কর্তৃপক্ষ তার মাটিভরাট কাজ কয়েকদিনের জন্য স্থগিত করেছেন। অগ্রহায়ণ মাসের পর আবার মাটিভরাট কাজ শুরু করবেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওটিবিএলের ডিপিএম, গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক সুরমা সেতুর চত্বর পর্যন্ত দুই লেন কাজের সাইট ইঞ্জিনিয়ার সজল হাওলাদার বলেন, সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে ব্লক তৈরির বিষয়ে বলেন, যে সিঙ্গেল ধরা আছে, সে সিঙ্গেল দিয়ে কাজ চলছে। ছাতক সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সাদাৎ হোসেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ব্লক তৈরির বিষয়ে তিনি বলেন, ভোলাগঞ্জের কোয়ারী বন্ধ। এছাড়া সুনামগঞ্জে সাদাপাথর না পাওয়ায়, শারফিনের পাথর দিয়ে ব্লক তৈরি হচ্ছে।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!