• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ঘর থেকে তুলে নিয়ে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, একজন গ্রেপ্তার মাদক ছাড়াতে বিদেশে-নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন বাবা, শেষে ছেলের লাঠির আঘাতেই নিহত ইমরান খানের শেষ ভরসা হয়ে উঠলেন ‘মাওলানা ডিজেল’ গাছপালা কীভাবে এত দক্ষভাবে সূর্যের আলো থেকে খাবার তৈরি করে জেন–জিরা কেন বিদ্রোহে ফেটে পড়ছে ‘গজনি’ থেকে আলোচনায়, আমিরের নায়িকা এখন কোথায় ২৬ দিনে তিন হ্যাটট্রিক, তাঁকে জার্মানি চায়, ইতালিও চায়—কে এই ত্রেসোল্ডি এশিয়া কাপ আর্চারির দুই ফাইনালে বাংলাদেশ হাতীবান্ধা সীমান্তে আলো জ্বেলে, ড্রোন দিয়ে রাতভর তল্লাশি, সেই ‘বাঘ’ কি পাওয়া গেল একটি আঙুল তুলে মুনতাহা বলল, ‘আমার বাবা স্কাই হয়ে গেছে’

ইমরান খানের শেষ ভরসা হয়ে উঠলেন ‘মাওলানা ডিজেল’

Reporter Name / ১০ Time View
Update : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

পাকিস্তানের দুই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ইমরান খান ও মাওলানা ফজলুর রহমান—এ দুজনের মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল ছিল অনেক গভীর। শেষ পর্যন্ত শাহবাজ শরিফ সরকারের ভুল পদক্ষেপই তাঁদের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। কীভাবে মাওলানা ফজলুর রহমান ইমরান খানের শেষ ভরসা হয়ে উঠলেন, তা নিয়ে লিখেছেন হামিদ মির

.

আমি কখনো কল্পনাও করিনি, মাওলানা ফজলুর রহমান (জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রধান এবং পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের সদস্য) ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগ দেবেন। কয়েক বছর আগে মাওলানা প্রকাশ্যেই ইমরান খানকে ‘জায়নবাদী এজেন্ট’ আখ্যা দিয়েছিলেন।

অন্যদিকে রাজনৈতিক সমাবেশে খান তাঁকে ‘মাওলানা ডিজেল’ বলে বিদ্রূপ করতেন (১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে বেনজির ভুট্টোর সরকারের আমলে মাওলানা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিজেল বা জ্বালানি তেলের পারমিট নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল)। অথচ আজ তিন বছর ধরে কারাবন্দী ইমরান খানের শেষ ভরসা হয়ে উঠেছেন সেই মাওলানা।

ইমরান খানের জনপ্রিয়তা এখনো গণ-আন্দোলনে রূপ নিতে পারেনি। এর পেছনে তাঁর নিজের দলের ভেতরে থাকা কিছু অন্তর্ঘাতকেরও ভূমিকা রয়েছে। তিনি জানেন, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে রাজপথে নামাতে পারেন একমাত্র মাওলানাই। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের দ্বিতীয় জনপ্রিয় নেতা তিনি।

.পাকিস্তান: খাইবারে জরুরি অবস্থা জারিতে কি সংকট কাটবে.

১৯৮৮ সাল থেকে এই দুই নেতাকেই আমি চিনি। সে বছর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউল হক দুর্নীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ খান জুনেজোকে বরখাস্ত করেন। জুনেজো পাকিস্তান মুসলিম লিগের নেতা ছিলেন। ১৯৮৫ সালের নির্দলীয় নির্বাচনের পর জিয়াউল হক নিজেই তাঁকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিয়েছিলেন।

কিন্তু পাঞ্জাবের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নিজের দলের প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন না করে জিয়াউল হকের পক্ষ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জুনেজোকে সরিয়ে দেওয়ার পর জিয়াউল হক নতুন সরকারে ইমরান খানকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেন।

ইমরান ১৯৮৭ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন। কিন্তু জিয়াউল হকের অনুরোধে তিনি আবার ক্রিকেটে ফিরে আসেন। জেনারেলের ধারণা ছিল, ইমরান খানকে পাশে পেলে ক্ষতিগ্রস্ত নিজের ভাবমূর্তি কিছুটা পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।

১৯৮৮ সালে আমি তখন সাংবাদিকতায় নতুন। একদিন খবর পেলাম, ইমরান খানকে সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আপনার কী মনে হয়, আমার কী করা উচিত?’

.

আমি সঙ্গে সঙ্গে বললাম, ‘প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করুন।’

তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে, আমি প্রত্যাখ্যান করব। কিন্তু আমার প্রত্যাখ্যানের খবর প্রকাশ করবেন না। তাহলে আমি বড় ধরনের সমস্যায় পড়ব।’

খবরটি বেশি দিন চেপে রাখতে পারিনি। একদিন তা প্রকাশ করে দিলাম। এতে ইমরান খান আমার ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। তবে ১৯৮৮ সালে তিনি যদি সরকারে যোগ দিতেন, তাহলে হয়তো ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতানোর নেতৃত্ব দিতে পারতেন না।

প্রায় একই সময়ে ‘সিল্ক লেটার মুভমেন্ট’ বা ‘তেহরিক-ই-রেশমি রুমাল’ নিয়ে একজন জার্মান পণ্ডিতের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় উপমহাদেশের দেওবন্দি আলেমরা আফগানিস্তান, তুরস্ক ও জার্মানির সহায়তায় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ‘বার্লিন পরিকল্পনা’ প্রণয়ন করেছিলেন। সিল্ক লেটার মুভমেন্ট ছিল সেই পরিকল্পনারই অংশ। পরিকল্পনাটি সফল হলে ১৯১৬ সালেই ভারত স্বাধীনতা অর্জন করতে পারত।

.ইমরান খান কি ভুট্টোর ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছেন.

লাহোরে একবার মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে দেখা হলে তিনি আমার সেই সাক্ষাৎকারটির ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরে একজন সহযোগীর মাধ্যমে তিনি আমাকে মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ মিয়ানের চার খণ্ডের বই উলামায়ে হিন্দ কা শানদার মাজি পাঠিয়ে দেন। বইটির ইংরেজি অর্থ ‘ভারতের আলেমদের গৌরবময় অতীত’। তিনি চেয়েছিলেন, আমি যেন এ বিষয়ে আরও জানতে পারি। এভাবেই মাওলানা ফজলুর রহমানের সঙ্গে আমার শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল।

১৯৯০ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন কুয়েত আক্রমণ করেন। কুয়েতকে রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে সেনা পাঠায়। পাকিস্তানজুড়ে সাদ্দামপন্থী বিক্ষোভ শুরু হয়। একদিন লাহোরের দৈনিক জং-এর ক্রীড়া প্রতিবেদক শহীদ শেখ ইমরান খানের একটি বক্তব্য নিয়ে এলেন।

ইমরান বলেছিলেন, ‘যে সাদ্দামের পক্ষে নয়, সে মুসলমান নয়।’ বক্তব্যটি পাকিস্তানে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। কারণ, পাকিস্তান সরকার সাদ্দামের পক্ষ না নিয়ে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেই প্রথম আমি মাওলানা ফজলুর রহমানকে ইমরান খানের প্রশংসা করতে শুনি। সাদ্দাম সম্পর্কে আমার নিজের মতামত অবশ্য ভিন্ন ছিল। তবে এটা স্পষ্ট ছিল যে দুজনই যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচক।

.

 ২০০২ সালে আরেক সামরিক শাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁর অসাংবিধানিক শাসনকে সাংবিধানিক বৈধতার আবরণ দিতে চাইলেন। সে সময় ইমরান খানের দল থেকে জাতীয় পরিষদের একমাত্র সদস্য ছিলেন ইমরান নিজেই। রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে আসিফ আলী জারদারি মাওলানা ফজলুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার উদ্যোগ নেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি মোশাররফের মনোনীত প্রার্থী মির জাফরউল্লাহ খান জামালির বিরোধিতা করছিলেন।

দুবাইয়ে নির্বাসিত জীবন কাটানো বেনজির ভুট্টো যুক্তরাষ্ট্রের চাপে মাওলানাকে সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে সৌদি আরবে নির্বাসিত নওয়াজ শরিফের সামনে আর কোনো বিকল্প না থাকায় তিনি মাওলানাকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেন। মাওলানার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন শুধু পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন)-এর সদস্যরা নন, ইমরান খানও তাঁর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

আমার মনে আছে, সে সময় কেউ বেয়াদবি করে মাওলানাকে ‘মাওলানা ডিজেল’ বলে ডাকলে ইমরান খান তাঁর সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়তেন। তখন জাতীয় পরিষদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে ছিলেন মাওলানা।

.

মাওলানার ভাষ্য, ইমরান খানকে কারাবন্দী করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সব নারী সদস্যকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে গভর্নরের শাসন জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’

.

‘মাওলানা ডিজেল’ বিদ্রূপাত্মক নামটি চালু করেছিলেন নওয়াজ শরিফের সমর্থকেরা, ১৯৯৫ সালে। তখন মাওলানা ছিলেন বেনজির ভুট্টোর মিত্র। বেনজির সরকার আফগানিস্তানে তালেবানকে সমর্থন দিচ্ছিল। অথচ সেই ইমরান খানই ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে মাওলানাকে একই নামে বিদ্রূপ করতে শুরু করেন। তাঁদের শত্রুতা এতটাই তিক্ত হয়ে উঠেছিল যে ২০১৯ সালে জিও টেলিভিশনের জন্য নেওয়া আমার এক সাক্ষাৎকারে মাওলানা ইমরান খানকে ‘জায়নবাদী এজেন্ট’ বলে আখ্যা দেন।

সেই বছরই মাওলানা ইমরান খানের সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের ঘোষণা দেন। তখন সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া। তিনি প্রায়ই সাংবাদিকদের সেনা সদর দপ্তরে ডেকে বলতেন, মাওলানা ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইসিক্সের হয়ে কাজ করেন।

একবার আমি জেনারেল বাজওয়াকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি কেন এ অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করছেন না এবং আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে প্রসঙ্গ পাল্টে ফেলেন। বিষয়টি ছিল অদ্ভুত এক স্ববিরোধিতা। একদিকে বাজওয়া ইসরায়েলের সঙ্গে বন্ধুত্বের উপকারিতা তুলে ধরতেন, অন্যদিকে মাওলানাকে ব্রিটিশ এজেন্ট বলে আখ্যা দিতেন।

এরপর পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টি ইমরান খানের বিরুদ্ধে মাওলানাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২০ সালে তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম) গঠিত হয় এবং ইমরান খানের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।

ইমরান খান মাওলানার দুর্নীতির প্রমাণ খুঁজে বের করতে সব গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো–ন্যাবকে কাজে লাগান। আইএসআইপ্রধান জেনারেল ফয়েজ হামিদ ব্যক্তিগতভাবে তাঁর পছন্দের সাংবাদিকদের দিয়ে মাওলানার বিরুদ্ধে মিথ্যা খবর প্রচার করান। শুরু হয় গণমাধ্যমে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রচার অভিযান।

.

কিন্তু এসবের কোনো প্রভাব মাওলানার ওপর পড়েনি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ খুঁজে পায়নি। সে সময় আইএসআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল নুসরাত নাইম আমাকে জানিয়েছিলেন, একবার তিনি জেনারেল মোশাররফের পক্ষে মাওলানার সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন। এ জন্য মাওলানাকে টাকাভর্তি একটি ব্যাগও দিয়েছিলেন। কিন্তু মাওলানা সেই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান।

আমি যখন একটি কলামে এ তথ্য প্রকাশ করি, তখন ইমরান খানের সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে প্রচার অভিযান শুরু করেন। এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলার ব্যাপারে জেনারেল বাজওয়ার আগ্রহ তাঁর সঙ্গে ইমরান খানের দূরত্ব তৈরি করে।

সেনাপ্রধান হিসেবে বাজওয়াকে আরেক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ইমরান খান জেনারেল ফয়েজকে সেনাপ্রধান করার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২২ সালে সেনাপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার বিরোধকে কাজে লাগিয়ে বিরোধী দলগুলো অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

ক্ষমতা হারানোর পর ইমরান খান মাওলানার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন এবং তাঁর সঙ্গে জোট গড়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু সফল হননি। তত দিনে আইএসআইয়ের নতুন প্রধান জেনারেল নাদিম আনজুম পাকিস্তান মুসলিম লিগ (এন) ও পাকিস্তান পিপলস পার্টিকে মাওলানার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলেন।

.

এই সেই মাওলানা, যিনি ২০১০ সালে লাহোরের জামিয়া আশরাফিয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আলেমদের একত্র করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সর্বসম্মত ঘোষণা গ্রহণে তাঁদের রাজি করিয়েছিলেন। অথচ এখন তাঁকেই সন্ত্রাসীদের সমর্থক বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ওই ঘোষণা দেওয়ার পর সোয়াবি, চারসাদ্দা ও কোয়েটায় পরপর আত্মঘাতী হামলার শিকার হয়েও তিনি রাজনীতিতে জঙ্গিবাদের বিরোধিতা থেকে সরে আসেননি। পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এটাই ছিল তাঁর বড় অবদান।

এ কথা সত্য যে ইমরান খান ও মাওলানা—দুজনই আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের সঙ্গে আলোচনার পক্ষে ছিলেন। তা সত্ত্বেও মাওলানা ইমরান খানের রাজনৈতিক মিত্র হতে চাননি। ২০২৪ সালের নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে কারাগার থেকে ইমরান খান তাঁকে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তাতে বলা হয়েছিল, ‘জোট গঠনের জন্য আপনারা যত শর্ত দিতে চান, দিন। আমি চোখ বন্ধ করে সেসব মেনে নেব।’

কিন্তু মাওলানা বিনয়ের সঙ্গে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন। একদিন তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘ইমরান খানের সঙ্গে চুক্তিতে সই করতে আমি অস্বীকৃতি জানিয়েছি। কারণ, একসময় আমিই তাঁকে জায়নবাদী এজেন্ট বলেছিলাম।’

দুজনের মধ্যে অবিশ্বাসের দেয়াল ছিল অনেক গভীর। শেষ পর্যন্ত শাহবাজ শরিফ সরকারের ভুল পদক্ষেপই তাঁদের কাছাকাছি নিয়ে আসে। এখন ইমরান খান কারাগারে। তাঁর দলের মুখ্যমন্ত্রী ও সংসদের অনেক সদস্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে শাহবাজ শরিফ সরকারের কর্তৃত্ববাদী কৌশলের বিরুদ্ধে জোরালো কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন মাওলানা।

.

মাওলানার ভাষ্য, ইমরান খানকে কারাবন্দী করার পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সব নারী সদস্যকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে গভর্নরের শাসন জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’

ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মাওলানার বিরুদ্ধে সরকার-সমর্থিত ভুয়া ভিডিও ও ভিত্তিহীন অভিযোগে সয়লাব হয়ে গেছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১১ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন। এবার দ্বাদশবার গ্রেপ্তার হতেও তিনি প্রস্তুত।

মাওলানা ও ইমরান খানকে কাছাকাছি নিয়ে আসার কৃতিত্ব শাহবাজ শরিফের। ইমরান খান যেমন ক্ষমতা হারানোর পর মাওলানার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন, তেমনি পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন)-ও ক্ষমতা হারানোর পর তাঁকে মনে করবে। তবে এবার হয়তো মাওলানা আর তাদের পাতা ফাঁদে পা দেবেন না।

  • হামিদ মির পাকিস্তানের খ্যাতনামা সাংবাদিক।

  • অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!