• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
এক বেলা মাংসের স্বাদে ভুলেছিল অভাব: সেই সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মানবিক গল্প” শাহজালালে ট্রলি সংকট চরম আকার: মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরও কেনা হয়নি নতুন ট্রলি পাঠাও চালক যখন ধর্ষক: রাইড শেয়ারিংয়ের পরিচয়ে তরুণীকে অফিসে নিয়ে ধর্ষণ ধোঁয়ায় মরে না মশা: লার্ভা ধ্বংস না করে লোকদেখানো কার্যক্রম উত্তরায় ৯৬১ বোতল ফেনসিডিল ও ২ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ আটক ১ সুবিধাবঞ্চিতদের স্বপ্ন পূরণে নীরবে এগিয়ে চলেছে ‘আমাদের উত্তরা ফাউন্ডেশন’ ক্ষমতা নয়, পাঠকের আস্থাই হোক গণমাধ্যমের আসল শক্তি লাইটার পিস্তল’ দিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের তাণ্ডব: জনমনে চরম আতঙ্ক বিমানের কর্মীরা কাজে নয়, ঘুমিয়ে পকেট ভরছেন ওভারটাইমের টাকা  তুরাগে মাদক কারবারিদের আড়ালে মাদকসেবী আটক: অভিযানের নামে ‘রহস্যজনক বাণিজ্য’

শাহজালালে ট্রলি সংকট চরম আকার: মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরও কেনা হয়নি নতুন ট্রলি

এলেন বিশ্বাস / ১৭ Time View
Update : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ বহনের ট্রলি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। একদিকে ওমরাহ ও ফিরতি হজ ফ্লাইট, অন্যদিকে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের চাপ সব মিলিয়ে ট্রলির জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে বিমানবন্দরে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ট্রলি না পেয়ে অনেক যাত্রীকে মালামাল মাথায় করে নিয়ে বিমানবন্দর ছাড়তে দেখা যাচ্ছে।

 

ভুক্তভোগী যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিমান থেকে নেমে লাগেজ সংগ্রহ করে বিমানবন্দর ছাড়তে সাধারণ যাত্রী ও হাজিদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট নিরসনে সম্প্রতি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত ট্রলি কেনা এবং মশক নিয়ন্ত্রণের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

 

মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনার পর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ক্রয় বিভাগ ৫০০টি নতুন ট্রলি কেনার একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সদর দফতরে পাঠায়। তবে অভিযোগ উঠেছে, বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস) মেহবুব খান ওই প্রস্তাবটি বাতিল করে দেন। শত শত কোটি টাকার বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও, সাধারণ যাত্রীদের অতি প্রয়োজনীয় ৫০০টি ট্রলি কেনার এই খামখেয়ালিপনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খোদ বেবিচকেরই বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি আমলে নেননি। বর্তমানে হাজিরা বিমানবন্দরে নেমে ভোগান্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার পর টনক নড়েছে কর্তৃপক্ষের। এখন তড়িঘড়ি করে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের অন্য বিমানবন্দর থেকে ট্রলি ধার করে এনে জোড়াতালি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

 

হজ পালন শেষে দেশে ফেরা হাজি আনসার আলী নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

আমরা সুন্দরভাবে হজ পালন করে দেশে ফিরেছি। কিন্তু বিমানবন্দরে নেমে ট্রলির জন্য দীর্ঘ লাইনে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে। সামান্য ট্রলির জন্য কেন এমন সংকট হবে? এটি কিনতে তো শত কোটি টাকা লাগে না।

 

আরেক হাজি ওসমান গনি বলেন, এই অব্যবস্থাপনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তার লাইনে থাকা বিদেশি যাত্রীরাও বাংলাদেশের এই দশা দেখে নেতিবাচক ধারণা নিয়ে ফিরছেন।

 

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বলেন, একসঙ্গে অনেক ফ্লাইট অবতরণ করলে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যায়। তখন সাময়িকভাবে ট্রলির ঘাটতি দেখা দেয়। সংকট মোকাবিলায় আপদকালীন ব্যবস্থা হিসেবে সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ২৫০টি ট্রলি এনে বুধবার শাহজালাল বিমানবন্দরে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

তবে নতুন ট্রলি কেনার প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যাওয়ার অভিযোগটি অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, ট্রলি কেনার প্রক্রিয়া বাতিল হয়নি, এটি এখনও চলমান রয়েছে।

 

যাত্রীদের দাবি, ধার করা ট্রলি দিয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও, স্থায়ী সমাধানের জন্য অবিলম্বে নতুন ট্রলি কেনা এবং এই খামখেয়ালিপনার পেছনে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

 

 

 

এলেন বিশ্বাস

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!