• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার রায় ১৯ নভেম্বর ইউরোপের সাতটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার হুমকি এবার এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের পল্লবী কার্যালয়ের সামনে ককটেলের বিস্ফোরণ তারেক-সির সমঝোতা বাস্তবায়নে ঢাকায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রী নিজের চেহারা ও কণ্ঠস্বর দিয়ে এআই অ্যাভাটার তৈরির সুযোগ জেমিনাইয়ে ঢাকায় জন্ম নেওয়া এই নির্মাতাকে কতটা চেনেন মোগল জাহাজে ডাকাতিতে জড়িত ব্যক্তির নামে নিউইয়র্কের সৈকত জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন বিষয়ে সরকার আন্তরিক আবেদন ছিল দুই কোটি টাকার, বড়দিনে তিন কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকার দরিদ্র এলাকায় ৮ স্থানে বসছে বায়ুদূষণ মাপার যন্ত্র

তারেক-সির সমঝোতা বাস্তবায়নে ঢাকায় চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মন্ত্রী

Reporter Name / ১৩ Time View
Update : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার লক্ষ্য নিয়ে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় এসেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং। তিন দিনের এই সফরে বিএনপি ও সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিসরে চীনের যোগাযোগ জোরদারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে লিউ হাইসিংয়ের সাক্ষাতের কথা রয়েছে। একই দিন দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে চীন-বাংলাদেশ রাজনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে একটি গোলটেবিল বৈঠকে বক্তৃতা দেবেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ–চায়না সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের উদ্বোধন করবেন। দিনের শুরুতে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল পরিদর্শন করে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।

.

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর দেশটি থেকে ঢাকায় আসা প্রথম জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা লিউ হাইসিং। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়। এর মধ্যে বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সমঝোতা স্মারকও ছিল। ফলে এবারের সফরে ওই সমঝোতার বাস্তবায়ন, দুই দলের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক পর্যায়ে সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

.

গত জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ ইশতেহারেও দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এতে দুই দেশের সরকার, আইনসভা ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো, উচ্চপর্যায়ের সফর অব্যাহত রাখা এবং সুশাসনসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে একমত হয় দুই পক্ষ।

.

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে বিএনপি ও সিপিসির সম্পর্ক নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেয়েছে। দুই দলের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সমঝোতা স্মারক সইয়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

লিউ হাইসিংয়ের এবারের সফরে সেই সমঝোতা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে দুই দলের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, প্রতিনিধিদল বিনিময়, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

সফরের অন্যতম কর্মসূচি বাংলাদেশ–চায়না সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের উদ্বোধন। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকার পরিচালনা, উন্নয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং সুশাসনবিষয়ক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল পরিদর্শনের কর্মসূচিও সফরের রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়িয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক দুই শীর্ষ নেতার প্রতি সিপিসির জ্যেষ্ঠ নেতার শ্রদ্ধা নিবেদন দলটির সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কের গুরুত্বের একটি প্রতীকী দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

.

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত গুরুত্বের কারণে চীনের কাছে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে সরকার পরিবর্তনের পরও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে বেইজিং আগ্রহী রয়েছে।

.

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের পর চীনের দলীয় কূটনীতিতেও নতুন তৎপরতা দেখা যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বিভিন্ন ইসলামি দলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায় বেইজিং।

২০২৪ সালের আগস্টে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সেপ্টেম্বরে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। একই মাসে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গেও চীনা প্রতিনিধিদের যোগাযোগ হয়।

.

লিউ হাইসিংয়ের সফরে শুধু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, বরং নতুন সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বাস্তব অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

.

এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বরে জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে ওই সফরে জামায়াতের পাশাপাশি অন্যান্য ইসলামি দলের নেতারাও অংশ নেন।

২০২৫ সালের এপ্রিলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার, উন্নয়ন অভিজ্ঞতা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয় সেখানে আলোচনায় আসে।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনের কমিউনিস্ট পার্টি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী। আওয়ামী লীগের বাধার কারণে বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে গত এক দশকে যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এসব ঘটনা থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর চীন শুধু নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনেই মনোযোগী হয়নি, বরং রাজনৈতিক অঙ্গনের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগের পরিসর বাড়িয়েছে। তবে এবার বিএনপি ও সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে নেওয়ার বিষয়টি লিউ হাইসিংয়ের সফরে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে।

.

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে চীনের যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়েও চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারত্বে উন্নীত হয়।

এরপর ২০১৯ সালের মার্চে আওয়ামী লীগ ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সমঝোতা স্মারক সই হয়। দুই দলের মধ্যে যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বিভিন্ন সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ ও প্রতিরক্ষা খাতে চীনের অংশগ্রহণও বাড়ে।

২০২৪ সালের মে মাসেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফর করে। ফলে ওই সময় দুই দেশের সম্পর্ক শুধু সরকার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল না; দলীয় পর্যায়েও তা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছিল।

তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চীন বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে যোগাযোগের পরিসর বিস্তৃত করে। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ধারাবাহিকতা তারই অংশ।

.

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারেও সক্রিয় ছিল বেইজিং। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চীনের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বেইজিং সফর এবং ২০২৫ সালের মার্চে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর দুই দেশের সম্পর্কের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে।

ওই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হয়। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, জ্বালানি ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং চীনা বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে নানা বিষয়ে টানাপোড়েন তৈরি হয়। সীমান্ত, বাণিজ্য, পানিবণ্টন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং প্রত্যর্পণ প্রশ্ন দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সংঘাত, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক নিরাপত্তার বিষয়েও বাংলাদেশের জন্য চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত গুরুত্বের কারণে চীনের কাছে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে সরকার পরিবর্তনের পরও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে বেইজিং আগ্রহী রয়েছে।

.

লিউ হাইসিংয়ের এবারের সফরে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো, প্রযুক্তি হস্তান্তর, শিল্পায়ন, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং চীনের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আলোচনায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও শিল্প খাতে চীনের বড় ধরনের অংশগ্রহণ রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজার, উৎপাদন সক্ষমতা, শ্রমশক্তি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের যে লক্ষ্য রয়েছে, তার সঙ্গে চীনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাকের বাইরে অন্যান্য শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

তবে এসব সহযোগিতা বাস্তবায়নে বিনিয়োগের শর্ত, প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা, প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিধি এবং বাংলাদেশের রপ্তানি স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

.

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—তিনটি মাত্রাই গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের ঘনিষ্ঠতার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং বিএনপির সঙ্গে দলীয় সহযোগিতার নতুন ভিত্তি তৈরি করা বেইজিংয়ের বিস্তৃত যোগাযোগনীতির অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এবার লিউ হাইসিংয়ের সফরে তারেক রহমান ও সি চিন পিংয়ের বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিএনপি ও সিপিসির সহযোগিতা এবং সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ কতটা এগোয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।

বাংলাদেশের জন্যও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখা ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

লিউ হাইসিংয়ের সফরে তাই শুধু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক নয়, বরং নতুন সরকারের সময়ে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ আর অর্থনৈতিক সহযোগিতার বাস্তব অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!