
গুরুদাসপুরে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসমাউল হকের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দেখা করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। মুঠোফোনেও তাকে পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত সদস্যরা ওসির কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সভায় অনাস্থা জানিয়ে তাকে দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সেবা প্রদান কার্যক্রমে জটিলতা এবং তথ্য সংগ্রহে বাধার বিষয়গুলো তুলে ধরে সভায় গুরুত্বপুর্ণ আলোচনা হয়।
আইন শৃঙ্খলা সভার নারী প্রতিনিধি অঞ্জলী আফছারী জানান, নারীদের নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করেন তিনি। সম্প্রতি ভুক্তভোগী এক নারীকে নিয়ে থানায় গিয়েছিলেন। থানার মূল ফটক পেরোলেও ওসির সঙ্গে দেখা করতে দেননি দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। বাধ্য হয়ে একই সমস্যা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যেতে হয়েছে।
তিনি বলেন, থানায় এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে যে, সাধারণ মানুষ ওসির সঙ্গে দেখা করতে পারেন না। সমস্যার কথা খুলে বলতে পারেন না। বাধ্য হয়ে এসব মানুষ ইউএনও’র কাছে যাচ্ছেন।
সভায় সংবাদকর্মীদের মধ্যে দিল মোহাম্মদ, আলী আক্কাছ, রাশিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও আব্দুস সালাম আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, সংবাদ সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও ওসি ফোন ধরেন না। বাধ্য হয়ে পুলিশ সুপারের কাছ থেকে বক্তব্য বা তথ্য সংগ্রহ করতে হয়।
এ সময় গণমাধ্যমকর্মী রাশিদুল ইসলাম বলেন, গত এক মাসে একই এলাকায় ১৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে অন্তত ১ হাজার বিঘার সেচ ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকরা অভিযোগ দেওয়ার পরও ট্রান্সফরমার উদ্ধার হয়নি। পুলিশ চোরচক্রকেও শনাক্ত করতে পারেনি। এছাড়া দিনমজুরদের অটোভ্যান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চুরি এবং মাদকের বিস্তার বেড়েই চলেছে। এভাবে মানুষ নিঃস্ব হলেও পুলিশ এসব অন্যায় রোধে কার্যত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলার এমন অবনতির ফলে তিনি ওসির প্রত্যাহার দাবি করেন।
সভার সদস্য উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুল খালেক বলেন, ওসি আসমাউল হক শক্ত খুটির জোর দেখিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। পুলিশ তো জনগণের সেবক, সেটা মনে করেই ওসি সাহেবকে চাকরি করতে হবে। ৫ আগস্টে অনেক কিছু বদলেছে। ওসি সাহেব নিজেকে বদলান অথবা বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যান।
সাংবাদিক দিল মোহাম্মদ ও আলী আক্কাছ বলেন, তথ্য চাওয়ায় আগের স্টেশন সিংড়ার এক সাংবাদিককে ডেভিল হান্টে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলে পাঠিয়েছিলেন এই ওসি। সাংবাদিকদের আন্দোলনে মুখে ওসিকে বদলি করে গুরুদাসপুরে দেওয়া হয়েছে। গুরুদাসপুরে এসেও ওসি অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেছেন। তিনি ওসির প্রত্যাহার দাবি করেন।
আইনশৃঙ্খলা সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ওসি আসমাউলের অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার তিনিও হচ্ছেন। মোবাইল কোর্টের জন্য সময় মতো পুলিশ চেয়েও পাচ্ছেন না। সচিব এবং জেলা প্রশাসক আসলে প্রটোকল দিচ্ছে না পুলিশ। ৮ মাসে তিনি পুলিশ নিয়ে কোনো সফল অভিযান করতে পারেননি। ১২ সেপ্টেম্বর প্রায় দেড় লাখ মানুষের সমাগমে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সচিব, ডিআইজি, ডিসি উপস্থিত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য সচিব ওসির কাছ থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী সহায়তা পাননি তিনি। এতে করে থানা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে দুরত্ব তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি তিনি উচ্চ পর্যায়ে জানিয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সভার সদস্য সচিব ওসি আসমাউল হক বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতেই তিনি কঠোর হতে বাধ্য হয়েছেন। তাকে ভুল বোঝা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি শাহজাহান আলী বলেন, অতি দ্রুত তাকে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে।