
বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন
∎ কবিতা: আবার আসিব ফিরে
ধনধান্য পুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা;
তাহার মাঝে আছে দেশ এক—সকল দেশের সেরা;
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা;
এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রাণী সে যে আমার জন্মভূমি।
প্রশ্ন:
ক. ‘সুদর্শন’ কী?
খ. ‘জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার যে বিশেষ দিকের ইঙ্গিত রয়েছে, তা আলোচনা করো।
ঘ. উদ্দীপকে ফুটে ওঠা দিকটি ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার সামগ্রিক রূপ নয়। মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
.
উত্তর:
ক. ‘সুদর্শন’ হলো শকুনি।
খ. ‘জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলা’ বলতে নদীমাতৃক বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে।
কবি এখানে নদীকে জলাঙ্গী বলে অভিহিত করেছেন। বাংলাদেশে অসংখ্য নদ–নদী জালের মতো ছড়িয়ে–ছিটিয়ে রয়েছে। তাই বাংলার সব স্থানের মাটিই যেন অসংখ্য নদীর জলে বিধৌত হয়েছে। এ কারণেই কবি বাংলাকে জলাঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলা বলেছেন।
গ. ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতার মতো গভীর দেশপ্রেমের স্বরূপ উদ্দীপকের কবিতাংশে ফুটে উঠেছে।
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় দেশের প্রতি কবির মমত্ববোধ ও অকৃত্রিম দেশপ্রেম ফুটে উঠেছে। কবি নিজের দেশকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাই তো জন্মভূমির ক্ষুদ্র জিনিসগুলোও তাঁর কাছে অসাধারণ রূপে ধরা পড়েছে। কবি মৃত্যুর পরও বাংলার প্রকৃতির মধ্যে নিজেকে ফিরে পেতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি বাংলাদেশকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর স্থান বলে মনে করেছেন। ফুলে-ফলে ভরা বাংলাকে তিনি সব দেশের রানি বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই দেশ যেন স্বপ্ন দিয়ে তৈরি। দেশের প্রতি প্রগাঢ় মমত্ব ও ভালোবাসা কবির এই মনোভাবের পেছনে কাজ করেছে। অন্যদিকে আলোচ্য কবিতায় কবি চান না মৃত্যুর পরও দেশের সঙ্গে তাঁর ভালোবাসার বন্ধন ছিন্ন হোক। তাই তো মৃত্যুর পরও প্রকৃতিতে নানা রূপে ফিরে আসার অভিলাষ ব্যক্ত করেছেন। মূলত উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতায় দেশপ্রেমের গভীর অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
.
ঘ. জন্মভূমির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা ও কবিহৃদয়ের অন্তিম আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সমগ্রভাবের ধারক নয়।
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় কবি স্বদেশের প্রতি নিজের তীব্র মমত্ববোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। দেশের সঙ্গে চিরকাল মমতার বাঁধনে জড়িয়ে থাকার বাসনা ব্যক্ত করেছেন। তাঁর এই বাসনাকে রূপ দিতে তিনি মৃত্যুর পরেও প্রকৃতিতে ফিরে আসতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি নিজের দেশ বাংলাদেশকে সব দেশের সেরা বলেছেন। তাঁর কাছে বাংলাদেশকে পৃথিবীর সব দেশের রানি মনে হয়। কবির এমন মনে করার পেছনে কাজ করেছে দেশের প্রতি তাঁর প্রগাঢ় মমত্ববোধ। দেশপ্রেমের এই দিক আলোচ্য কবিতায়ও ফুটে উঠেছে। তবে এটিই কবিতার সামগ্রিক রূপ নয়।
‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় বাংলার প্রকৃতির অপূর্ব রূপের চিত্রটি ফুটে উঠেছে। বাংলার নদী, মাঠ, ফসলের খেত, কাক ডাকা ভোর, কলমির গন্ধে ভরা বিল—সবই যেন এক অদ্ভুত সৌন্দর্যে ঘেরা। সন্ধ্যার বাতাসে উড়ে বেড়ানো সুদর্শন, শিমুলের ডালে বসা লক্ষ্মীপেঁচার মতো ক্ষুদ্র জিনিসও যেন এই কবিতার সৌন্দর্যকে আরও বেশি সৌন্দর্যমণ্ডিত করে তুলেছে। এই সুন্দর বাংলা থেকে কবি বিছিন্ন হতে চান না। তাই তো তিনি মৃত্যুর পরও ফিরতে চেয়েছেন প্রকৃতির কোনো না কোনো রূপে। কবির দেশপ্রেমের রূপটি এখানে ব্যক্ত হয়েছে বাংলার অপূর্ব সৌন্দর্যকে অনুষঙ্গ করে। একই সঙ্গে এখানে ফুটে উঠেছে বাংলার সঙ্গে কবির জন্ম-জন্মান্তরের মমতার বাঁধনে সংযুক্ত থাকার তীব্র বাসনা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এমন বর্ণনা ও স্বদেশের বুকে স্থায়ী অবস্থানের আকাঙ্ক্ষার স্বরূপ। উদ্দীপকের ক্ষুদ্র পরিসরে সার্থকভাবে ফুটে ওঠেনি। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
মাহফুজা হোসনে আরা, প্রভাষক
ঢাকা আইডিয়াল কলেজ, তেজগাঁও, ঢাকা