
ভাদ্রের আবছা নীলাভ জীবনানন্দীয় আকাশ
চুমকি ছড়ানো ঝিকিমিকি রাত
হাওয়ায় হাওয়ায় মেঘের শুভ্র রুমাল..
ডানা মেলে জোনাকি
নিজের আলো আড়াল করে ভেসে চলে একাকী!
হাওয়ায় হাওয়ায় চমকানো রাত ঘেমে একাকার
যেন একটু দমখোলা হাওয়া দরকার!!
নলেয়া নদীর ঘাটে উদবেড়ালরা উঠে এসেছে
মাছ খাবে না শুধু—কচি পাঠা চাই এবার!
ইয়ামাহার তীব্র হেডলাইটে ফিকে হলো লুব্ধক
জমল বাজার; শরতের শিমের দরে বেচাকেনা জেরবার
তবুও তো কয়েক নিশ্বাস বুকভরা মুক্ত বাতাস!!
রাতারাতি কারবারি হয়ে উঠল একদল বেকার
ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বাতাস খাওয়ানো—রোজগার জোরদার
.
ভোরের হাওয়ায় হাওয়ায় হেমন্ত খুলছে দোপাট্টা
ঘুমভাঙা উদল গায়ে শিফন শীতলতা
দূরের কাশবন হারাতে শুরু করেছে নিজস্ব শাদা
সেদিনের ঝড়ো মেঘে মিলে গেছে শরতের শুভ্রতা
পড়ন্ত আশ্বিন কুয়াশা কুয়াশা…
শিশমহলে-মহলে সেজে ওঠে তেপান্তরের তৃণলতা
পুবের আকাশ কুসুম কুসুম, শান্ত নদীর ঢেউয়ে ভেজা—
বুনো কুলের ফুলে ফুলে বাড়ছে বুলবুলির আনাগোনা
.
মনে হচ্ছে শরতের দুপুরজুড়ে রূপখোলা স্নিগ্ধ আকাশ
সাঁই সাঁই করে ছোপ ছোপ সাদা মেঘ উড়ে যাচ্ছে
মন কেড়ে নিচ্ছে গাছের পাতার শব্দমাখা শীতল বাতাস
অথচ, ঝিকিমিকি তারার এই মধ্যরাত তুমুল শ্রাবণের;
উতলা জোছনায় ভেসে যাচ্ছে জীবনের যত সব রাগ।
জাদুর শহর ঢাকায় গৃহত্যাগীরাই শুধু জীবনের মধু পায়
বাকিরা ঘরবন্দী, বেঁচে থাকে আজীবন বাঁচার আশায়।
.
ভালো লাগার চেয়ে ভালো অনুভূতি আর কিছু নেই
যেমনটি নেই খারাপ লাগার চেয়ে খারাপ
তুমি যেমনটি ভাবছ, আমি হয়তোবা তার উল্টো
অথবা ঠিক তেমনটিই—জানি না কিছুই!
অস্থির এক প্রেমিক আমি
যে শুধু প্রেমই চেয়ে গেছে, কখনো প্রেমিকা চায়নি।
আসলেই কি চাইনি?
নাকি অতটা সাহসই ছিল না কখনো আমার?
ছিল শুধুই সামর্থ্যের অভাব; প্রচণ্ড অভাব!
.
মনের বনে ডুবে থাকা সরোবর তুমি
লোমকূপে ভেসে ওঠা জলেশ্বরী
হৃদয়থলিজুড়ে
থরোথরো স্পন্দন
তুমুল রোদের দুপুরে টপটপ শিশির ঝরো
কাঠফাটা ভূমিতে আর্তনাদ হয়ে বেঁচে আছ বহুকাল
বহুকাল বেঁচে থাকো তুমি মাটির পরতে পরতে
তোমাদের কণ্ঠ নীরব, না পাওয়ার অনুযোগ নেই কোনো
অনাহারি চোখেও সুখের দোলাচলে চকচকে দ্যুতি
শেষ বিকেলের শোভা বাড়ায় জলদি পায়ের হাটমুখী গতি
রোদে পোড়া চামড়ার আলাদা সৌন্দর্য থাকে
ঘামে ভেজা মাটিমাখা শরীরের রূপ অনবদ্য
নন্দনকলা এর সংজ্ঞা দিতে ব্যর্থ
কোনো কোনো দিন তোমাদের পেট ভরে না
উতলা বাতাসে প্রাণ ভরাও তোমরা
তারার রাজ্যে খুঁজে ফেরো নিজের কালপুরুষ
অমলিন চিত্তজুড়ে জ্বালাও পূর্ণিমা
পোড়া ঠোঁট ছুঁয়ে যায় অনাদরে পড়ে থাকা অন্তরনারীর গ্রীবা—
মুষড়ে পড়া বেদনায় প্রাণভরে ডাকো ‘আলতাবানু’
তোমাদের কবরের কোনো নিশানা থাকে না
ভালোবাসার থাকে না প্রমাণ
তবু ওই ধ্রুপদি চাহনি বেঁচে থাকে হাজার বছর
অনবদ্য সেই (পরিশ্রান্ত, তৃপ্ত) অমর অবয়ব
জেনেটিকস ব্যর্থ এখানে—
বৃষ্টি তোমার বন্ধু, রৌদ্রের সখা তুমি,
ধরিত্রী হাসে তোমার মুখে, কিষাণ রূপে কে তুমি, জানে অন্তর্যামী!