• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ফিফার নতুন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ, কী এই টুর্নামেন্ট, কেমন খেলছে ছেলেরা

Reporter Name / ২৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬

ফিফার একটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ। শুধু অংশ নেওয়াই নয়, টানা দুই ম্যাচে টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠেছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব–১৫ ফুটবল দল। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে চলছে ফিফা অনূর্ধ্ব–১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের প্রথম আসর। এতে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশসহ মোট ১৮৯টি দেশের কিশোর ফুটবল দল।

তবে এই টুর্নামেন্টের ধরন প্রচলিত বিশ্বকাপের চেয়ে আলাদা। এখানে শুধু একটি দলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেই আয়োজন শেষ হচ্ছে না, ছয়টি স্তরে আলাদা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সব দলকে শেষ দিন পর্যন্ত খেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

ফিফার নতুন এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য কম বয়সী ফুটবলারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ বাড়ানো। সে জন্য ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমানো হয়েছে, ছোট করা হয়েছে মাঠ এবং ১১ জনের বদলে খেলছে ৮ জনের দল। সবচেয়ে বড় পার্থক্য, বাছাইপর্বে দলের অবস্থানের ভিত্তিতে পরের ধাপে ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে অংশগ্রহণকারীদের। বাংলাদেশ এখন সেই স্তরভিত্তিক প্রতিযোগিতার পঞ্চম স্তর বা টিয়ার ই-তে খেলছে।

.

বাছাইপর্ব থেকে ছয় স্তরে

২৪ অক্টোবর শুরু হওয়া টুর্নামেন্টটি দুই ধাপে হচ্ছে—বাছাইপর্ব ও মূল প্রতিযোগিতা পর্ব। বাছাইপর্বে দলগুলো বিভিন্ন গ্রুপে খেলেছে। প্রতিটি দল চার থেকে পাঁচটি করে ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছে। গ্রুপগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে বিভিন্ন অঞ্চলের ও বিভিন্ন মানের ফুটবল খেলা দেশগুলোর মুখোমুখি হতে পারে।

বাছাইপর্বের ফলই ঠিক করেছে কোন দল পরের ধাপে কোন স্তরে খেলবে। গ্রুপে প্রথম হওয়া দলগুলো জায়গা পেয়েছে টিয়ার এ-তে, দ্বিতীয় হওয়া দলগুলো টিয়ার বি-তে। এভাবে গ্রুপে অবস্থান অনুযায়ী দলগুলোকে ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে—টিয়ার এ, বি, সি, ডি, ই এবং এফ। অর্থাৎ গ্রুপে শীর্ষে থাকা দলগুলো এক স্তরে, পরের অবস্থানে থাকা দলগুলো অন্য স্তরে খেলছে। এর ফলে পরের ধাপে তুলনামূলক কাছাকাছি মানের দলগুলোর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।

বাছাইপর্ব শেষে বাংলাদেশ গ্রুপে পঞ্চম হয়েছিল। সে কারণে তাদের জায়গা হয়েছে টিয়ার ই-তে। এই স্তরে এখন নিজেদের সমান অবস্থানে থাকা অন্য গ্রুপের দলগুলোর বিপক্ষে খেলছে বাংলাদেশ।

.

ছয় স্তরে ছয় চ্যাম্পিয়ন

দ্বিতীয় ধাপে প্রতিটি স্তরে আলাদা টুর্নামেন্টের মতো করে চলছে। এখানে জয়ী দল পরের রাউন্ডে ওঠে, হারলেও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় না। বরং একই স্তরে হারা দলগুলোও পরবর্তী ম্যাচে অন্য পরাজিত দলের মুখোমুখি হয়। এভাবে প্রতিটি দলকে শেষ দিন পর্যন্ত খেলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি স্তরের জন্য আলাদা চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হবে। তবে ছয় স্তরের ছয় চ্যাম্পিয়নের মধ্যে শুধু টিয়ার এ-এর বিজয়ী দলই ফিফা অনূর্ধ্ব–১৫ বিশ্বকাপ ও ফেস্টিভ্যালের মূল চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। তাই টিয়ার ই-তে চ্যাম্পিয়ন হলে সেটি হবে বাংলাদেশের ওই স্তরের শিরোপা, মূল বিশ্বকাপের শিরোপা নয়।
এই পদ্ধতিতে কোনো দল বাছাইপর্বে পিছিয়ে পড়লেও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ হারাচ্ছে না। ফিফার লক্ষ্য, কিশোর ফুটবলারদের বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা দেওয়া এবং তাদের উন্নতির সুযোগ তৈরি করা।

.

আটজনের দল, ৪০ মিনিটের ম্যাচ

টুর্নামেন্টের খেলার নিয়মেও আছে কিছু ব্যতিক্রম। প্রতি দলে মাঠে খেলছে গোলকিপারসহ আটজন। ম্যাচের দুই অর্ধ ২০ মিনিট করে, অর্থাৎ নির্ধারিত সময় মোট ৪০ মিনিট। মাঠও প্রচলিত ফুটবল মাঠের চেয়ে ছোট। খেলোয়াড় বদলের ক্ষেত্রে আছে রোলিং সাবস্টিটিউশনের নিয়ম, ফলে বদলি হওয়া খেলোয়াড় আবার মাঠে ফিরতে পারে। থ্রো-ইনের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে কিক-ইন।

ছোট মাঠ, কম খেলোয়াড় ও কম সময়ের ম্যাচের উদ্দেশ্য হলো খেলোয়াড়দের বলের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া। এতে বল নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং একের পর এক আক্রমণ গড়ে তোলার অনুশীলন হয়। এই বয়সে খেলোয়াড়দের বিকাশের কথা মাথায় রেখেই ফিফা নিয়মগুলো সাজিয়েছে।

৩০ অক্টোবর শেষ হতে চলা এই টুর্নামেন্টে প্রায় এক হাজার ম্যাচ হবে। বেশির ভাগ খেলা হচ্ছে হোভসান কমপ্লেক্সে। টিয়ারগুলোর ফাইনাল হবে বাকু ক্রিস্টাল হলে।

.

বাংলাদেশ কেমন খেলছে

বাছাইপর্বে গ্রুপ জি-তে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। শুরুটা হয়েছিল ওয়েলসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে। এরপর পর্তুগালের বিপক্ষে ৩–১ গোলে হারে দলটি। ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে পরের ম্যাচে ১–১ গোলে ড্র করে বাংলাদেশ। এরপর বুরুন্ডির কাছে ২–০ গোলে হারলেও শেষ ম্যাচে ফিজিকে ৩–১ গোলে হারিয়ে বাছাইপর্ব শেষ করে কিশোরেরা।

পাঁচ ম্যাচে একটি জয়, দুটি ড্র ও দুটি হারে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৫। গ্রুপে পঞ্চম হওয়ায় পরের পর্বে দলটির জায়গা হয়েছে টিয়ার ই-তে। তবে একই গ্রুপে থাকা দলগুলোর পরের পর্বের পথ আলাদা হয়েছে।

গ্রুপ জি-তে শীর্ষে থাকা ওয়েলস পাঁচ ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টিয়ার এ-তে উঠেছে, যেখানে নির্ধারিত হবে মূল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। চারটি জয় পেলেও একটি ম্যাচে হেরে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হওয়া পর্তুগাল খেলছে টিয়ার বি-তে।

বাছাইপর্বের পর টিয়ার ই–তে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ছিল শেষ বত্রিশে। প্রতিপক্ষ ছিল সেশেলস। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১–১ গোলে ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪–২ গোলে জিতে পরের রাউন্ডে ওঠে বাংলাদেশ। গতকাল শেষ ষোলোতে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও নির্ধারিত সময়ের খেলা ১–১ গোলে শেষ হয়। এবার টাইব্রেকারে ৪–৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশের কিশোরেরা।

এখন লক্ষ্য সেমিফাইনাল।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!