• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]

মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় যে পদক্ষেপের কথা জানালেন আবদুল আল-সাইয়েদ

Reporter Name / ২০ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতি ও সমাজে ইসলামবিদ্বেষের (ইসলামোফোবিয়া) মোকাবিলা, ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং ফিলিস্তিনসহ বৈশ্বিক পরিসরে নির্যাতিত মুসলিমদের অধিকার রক্ষায় সুনির্দিষ্ট ও আপসহীন পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন দেশটির নবনির্বাচিত প্রথম মুসলিম সিনেটর ডা. আবদুল আল-সাইয়েদ।সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের রাজনৈতিক অগ্রাধিকার এবং মার্কিন মুসলিমদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার সুসংহত করার বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন।প্রার্থনার ধরনে দানব বানানো প্রতিহতের ঘোষণানির্বাচনি প্রচারণায় তার মুসলিম পরিচয় নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান শিবিরের একের পর এক কটাক্ষ ও ‘জিহাদি’ তকমার জবাব দিয়ে আল-সাইয়েদ বলেন, মানুষ কীভাবে বা কোন ধর্মীয় পদ্ধতিতে প্রার্থনা করে—কেবল সেই কারণে কাউকে সমাজের চোখে অপরাধী বা দানব বানিয়ে ফেলার ঘৃণ্য অপচেষ্টা চিরতরে বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, সমাজে এমন এক নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যেখানে মুসলিম বা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের পরিবারকে তাদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা উপাসনালয়ে পাঠাতে গিয়ে আতঙ্ক বা সংশয়ে ভুগতে না হয়। প্রতিটি নাগরিক নিজ ধর্মীয় পরিচয়ে সমাজে সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকবে—এটাই হবে তার অন্যতম প্রধান লড়াই।ফিলিস্তিনের গণহত্যায় মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের পদক্ষেপমুসলিম বিশ্বের অধিকারের প্রশ্নে সিনেটর আবদুল আল-সাইয়েদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, মার্কিন করদাতাদের টাকায় গাজায় নির্বিচার অস্ত্র সরবরাহ, বর্ণবাদ এবং গণহত্যা চালানোর নীতি তিনি সিনেটের ফ্লোরে সরাসরি রুখে দাঁড়াবেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের করের টাকায় ফিলিস্তিনি শিশুদের ওপর বর্বর হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’ তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের যে অস্ত্র সহায়তা আন্তর্জাতিক আইন ও ‘লেহি নীতি’ লঙ্ঘন করে যুদ্ধাপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা পুরোপুরি বন্ধ করতে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসন যদি ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক চার বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা কাটছাঁট করতে চায়, তবে তিনি সেই পদক্ষেপকে নীতিগতভাবে সমর্থন জানাবেন।মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ ও কূটনৈতিক সমাধানের ডাকআন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মুসলিম দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করে আল-সাইয়েদ জানান, সিনেটে তাঁর প্রথম তিন অগ্রাধিকারের অন্যতম হলো ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী ও অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের অবসান ঘটানো। মার্কিন সামরিক বাহিনীকে অপ্রয়োজনীয় রক্তপাত থেকে রক্ষা করতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে তিনি সাবেক ওবামা প্রশাসনের মতো কূটনীতি ও পরমাণু আলোচনার পথে ফেরার জোর দাবি জানান।করপোরেট অর্থদাতার প্রভাবমুক্ত প্রতিনিধিত্বতিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলপন্থি লবি ও করপোরেট অস্ত্র ব্যবসায়ীদের অর্থায়নের কাছে সাধারণ নীতি জিম্মি হয়ে ছিল। সেই ভয় ও রক্তচক্ষু উপড়ে ফেলে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ এবং অধিকারবঞ্চিত মুসলিম কমিউনিটির সত্যিকারের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করাই হবে তাঁর মূল দায়িত্ব।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!