• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline

শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিতে রাষ্ট্রের আন্তরিকতা জরুরি

Reporter Name / ১৫ Time View
Update : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের আন্তরিক ভূমিকা জরুরি বলে মনে করছেন শ্রমবিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও অন্যান্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় শ্রমিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কনভেনশনে বক্তারা এসব কথা বলেন।পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, জীবনমানের উন্নয়ন ও শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চ এ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম সংস্কার কমিশন ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।মঞ্চের সদস্য সোহেল রানা মিঠুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গার্মেন্টস শিল্প সেক্টরের ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের সদস্য বাবুল আক্তার।প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, শ্রমিকের রক্তের দাগ রাজপথে লেগে গেছে। ফলে মজুরি বোর্ডের ওপর শ্রমিকের রক্তের একটি দায় তৈরি হয়েছে। এই দায় শুধু ক্ষতিপূরণ দিয়ে শেষ হবে না। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই এ দায়ের যথাযথ প্রতিফলন ঘটাতে হবে।তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।সরকারের পর্যায়ক্রমে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আদায়ের লক্ষ্যেও তাঁরা কাজ করছেন। তবে ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ লক্ষ্য অর্জনে ভিন্নমতের শ্রমিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবিকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় জীবনমান ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের আন্তরিক ভূমিকা থাকা জরুরি। কিন্তু অতীতের কোনো সরকারই শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রত্যাশিত আন্তরিকতা দেখিয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন না।দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকদের দুর্বিষহ জীবনযাপনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নবম পে-স্কেল ঘোষণার পরও বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দামসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ—সবাই জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে রয়েছেন। এর সঙ্গে বাড়িভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পোশাকশ্রমিকদের জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আবাসন সংকটের কথা তুলে ধরে আতিকুর রহমান বলেন, শিল্পশ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় সরকারি উদ্যোগে আবাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাঁরা ন্যায্য ভাড়ায় বসবাস করতে পারেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ন্যায্যমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা হলেও কমবে।তিনি শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সম্মানজনক জীবনমান ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।আতিকুর রহমান আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সবাইকে এক মঞ্চে দাঁড়াতে হবে। দেশের পোশাকশিল্প ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিতে হবে।অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খান, বাংলাদেশ শ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া, ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিম, শ্রমিক সংহতির সভাপতি রুহুল আমীন, গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের নারায়ণগঞ্জের সভাপতি আব্দুল মমিন, মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, সবুজ বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু, বাংলাদেশ লেবার কংগ্রেসের সভাপতি শামীমা আক্তার, প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি রুজিনা আক্তার, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন শহীদ, প্রগতিশীল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রামের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ দর্জি শ্রমিক কেন্দ্রের সভাপতি শাহিদা সরকার, জাতীয় গার্মেন্টস সোয়েটার শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ রফিক, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ও টেক্সটাইল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বাছির, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম, বাংলাদেশ ট্রাস্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি এফ এম আবু সাঈদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস টেক্সটাইল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সুমাইয়া ইসলাম এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সহসাধারণ সম্পাদক শফিউল আলমসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!