• শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
পার্লামেন্টে প্রথম দিনই স্পিকারকে হটাতে একমত আরব দলসহ নেতানিয়াহু বিরোধীরা কুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত বিজ্ঞাপনে এআইয়ের ধাক্কা, গুগলের বাজারমূল্য কমল ৫০০ বিলিয়ন ডলার মুল্ডার–রিকেলটনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৮ রানের লক্ষ্য দিল দক্ষিণ আফ্রিকা গ্যাসের আগুন জ্বলছেই, ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর রিলিফ কূপ খননের পরিকল্পনা পেট্রোবাংলার লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে পুলিশ জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন তাহসিফের মৃত্যু: ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কি মাদক কারবারি, নাকি পুলিশ—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা যাত্রাবাড়ীতে মাদক অভিযানে এসআরবি-পুলিশের ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ২৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ নেতানিয়াহুকে হটিয়ে সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা

কুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত

Reporter Name / ৮ Time View
Update : শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

প্রাণী পালন নিয়ে একটি কথা খুব প্রচলিত—‘কুকুর পোষা পাপ, আর বিড়াল পোষা সুন্নত’। সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা এতটাই বদ্ধমূল যে অনেকেই কুকুরকে ঘৃণার চোখে দেখেন, আবার বিড়ালকে পরম আদরে ঘরে স্থান দেন।

ইসলাম মূলত সব সৃষ্টির প্রতি দয়া ও সহমর্মিতার ধর্ম। প্রাণী পালনের ক্ষেত্রে ইসলামের সুস্পষ্ট কিছু ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা রয়েছে। প্রচলিত এই কথার ভিত্তি এবং কুকুর ও বিড়াল পালনের প্রকৃত ইসলামি বিধান কী, তা বিশ্লেষণ করা হলো।

.

বিনা প্রয়োজনে শুধু শখ করে বা আভিজাত্য প্রকাশ করতে ঘরের ভেতর কুকুর পোষা ইসলামে নিষিদ্ধ। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ঘরে কুকুর বা প্রাণী ও মানুষের ছবি থাকে, সে ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২২৫)

হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি শিকার করা বা গবাদিপশু পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া কুকুর পোষে, তার আমল থেকে প্রতিদিন দুই ‘কিরাত’ পরিমাণ পুণ্য কমে যায়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৭৫)

মূলত কুকুরের লালা অপবিত্র এবং এর থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়ানোর ঝুঁকির কারণে ইসলাম একে মানুষের বাসস্থানে রাখতে নিরুৎসাহিত করেছে।

.

ঘরে রাখা নিষিদ্ধ হওয়ার অর্থ এই নয় যে কুকুরকে ঘৃণা করতে হবে বা অকারণে কষ্ট দিতে হবে। পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে এক পাপী নারীর বেহেশত লাভের বিখ্যাত ঘটনা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

.ইসলামি চিন্তাধারায় প্রাণী নিয়ে গবেষণা.

কুকুর পোষা মানেই পাপ—এ ঢালাও ধারণা সঠিক নয়। ইসলামে আত্মরক্ষা, ফসল পাহারা, গবাদিপশুর নিরাপত্তা, অপরাধী শনাক্ত করা এবং শিকারের মতো যৌক্তিক ও বিশেষ প্রয়োজনে কুকুর পোষার সুস্পষ্ট অনুমতি রয়েছে।

পবিত্র কোরআনে শিকারি কুকুরের কথা সম্মানের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তোমরা যেসব শিকারি প্রাণীকে আল্লাহর দেওয়া জ্ঞান থেকে শিক্ষা দিয়ে শিকার করা শিখিয়েছ, তারা তোমাদের জন্য যা ধরে আনে, তা থেকে তোমরা খাও।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৪)

নিরাপত্তা, শিকার বা পাহারার মতো যৌক্তিক প্রয়োজনে কুকুর পালন করা ইসলামে সম্পূর্ণ বৈধ; তবে এসব ক্ষেত্রেও কুকুরকে মানুষের থাকার ঘরের বাইরে আলাদা স্থানে রাখতে হবে। (ইবনে আবিদিন, রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররিল মুখতার, ৬/৩৮৭, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৯৯২)

.

ঘরে রাখা নিষিদ্ধ হওয়ার অর্থ এই নয় যে কুকুরকে ঘৃণা করতে হবে বা অকারণে কষ্ট দিতে হবে। পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে এক পাপী নারীর বেহেশত লাভের বিখ্যাত ঘটনা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩২১)

অর্থাৎ, সৃষ্টির অংশ হিসেবে কুকুরের প্রতি দয়া দেখানো সওয়াবের কাজ।

.প্রাণীর প্রতি নবীজির মমত্ববোধ: ৭ হাদিস থেকে শিক্ষা.

বিড়াল পালনের অনুমতি থাকলেও এর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন ইসলামে অপরাধ। একটি বিড়ালকে আটকে রেখে অনাহারে মেরে ফেলার কারণে এক নারীর দোজখে যাওয়ার ঘটনা মহানবী (সা.) বর্ণনা করেছেন।

.

বিড়াল পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন প্রাণী। নবীজির প্রিয় সাহাবি আবদুর রহমানের একটি বিড়ালছানা ছিল, যে কারণে তিনি তাঁকে আদর করে ‘আবু হোরাইরা’ বলে ডাকতেন। বিড়ালের এঁটো বা লালা অপবিত্র নয়।

মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘বিড়াল অপবিত্র নয়; এরা তো তোমাদের আশপাশেই ঘোরাফেরা করে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৭৫)।

তবে ‘বিড়াল পোষা সুন্নত’—এমনটি কোথাও বলা হয়নি। ইসলামি ফিকহের পরিভাষায় বিড়াল পোষা বৈধ (মোবাহ) কাজ। ইমাম নববি লিখেছেন, বিড়াল পালন করা বৈধ এবং এটি পবিত্র প্রাণী; কেউ যদি বিড়াল পোষে এবং তাকে পর্যাপ্ত খাবার ও পানি দিয়ে দয়া প্রদর্শন করে, তবে সে এর বিনিময়ে সওয়াব লাভ করবে। (নববি, আল-মিনহাজ শারহু সহিহ মুসলিম, ৩/২১৩, দারুল ইহইয়াইত তুরাস আল-আরাবি, বৈরুত, ১৩৯২ হি.)

তবে একে ধর্মীয় ইবাদত বা ‘সুন্নত’ মনে করার কোনো ভিত্তি নেই।

.

বিড়াল পালনের অনুমতি থাকলেও এর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন ইসলামে অপরাধ। একটি বিড়ালকে আটকে রেখে অনাহারে মেরে ফেলার কারণে এক নারীর দোজখে যাওয়ার ঘটনা মহানবী (সা.) বর্ণনা করেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৮২)

তাই শখ করে বিড়াল পুষলে তার খাবার, পানি ও চিকিৎসার সঠিক যত্ন নেওয়া মুমিনের ওপর আবশ্যক।

সুতরাং শখ করে ঘরের ভেতর কুকুর রাখা নিষেধ হলেও প্রয়োজনে বাইরে পালন করা বৈধ। অন্যদিকে বিড়াল পোষা বৈধ হলেও এটি সরাসরি কোনো সুন্নত নয়। ইসলাম প্রতিটি প্রাণীর অধিকার ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় মুমিনকে সচেতন হওয়ার শিক্ষা দেয়।

.রুমির মুদিদোকানি ও তোতা পাখির গল্প

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!