
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা উত্তরার চাকচিক্যের আড়ালে অনেক সুবিধাবঞ্চিত শিশু বেড়ে ওঠে বস্তি বা অস্থায়ী ঝুপড়িতে। এই সব শিশুদের অন্ধকার জীবনে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে উত্তরা ফাউন্ডেশন স্কুল। একদল স্বপ্নবাজ তরুণ ও সমাজকর্মীদের হাত ধরে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি আজ এলাকার কয়েকশ দরিদ্র শিশুর জন্য আস্থার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে।
স্কুলটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, একটি টিনের ঘরে সারিবদ্ধভাবে বসে শিশুরা পড়াশোনা করছে। এদের বেশিরভাগেরই বাবা-মা রিকশাচালক, গৃহকর্মী বা দিনমজুর। অর্থাভাবে যাদের পড়াশোনা চিরতরে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, উত্তরা ফাউন্ডেশন স্কুল তাদের জন্য ফ্রিতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করছে।
স্কুলটি শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিনা মূল্যে শিক্ষা উপকরণ বই, খাতা, কলম এবং স্কুল ব্যাগ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। তাদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়। পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি আদব-কায়দা ও নৈতিক মূল্যবোধের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা জানান, “আমাদের লক্ষ্য কেবল তাদের শিক্ষিত করা নয়, বরং তাদের মধ্যে এই বিশ্বাস জাগানো যে—দারিদ্র্য তাদের স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না। আমরা চাই প্রতিটি শিশু যেন সম্মান নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।”
আগামীর স্বপ্ন আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও উত্তরা ফাউন্ডেশন স্কুল তার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। পর্যাপ্ত সাহায্য ও সহযোগিতা পেলে আরও বেশি শিশুকে এই শিক্ষার ছায়াতলে নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। উত্তরা ফাউন্ডেশন স্কুল প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, সদিচ্ছা থাকলে এক টুকরো টিনশেড ঘরও হতে পারে হাজারো স্বপ্নের সূতিকাগার।