
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন বিএনএস টাওয়ারে অবস্থিত ‘উআইসিসি ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট’ ও ‘উত্তরা ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ার কাউন্সিল’ নামক প্রতিষ্ঠানে তালা ভেঙে প্রায় সোয়া ৪ কোটি টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ চুরির ঘটনায় ৩ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোসাঃ লাকী আক্তার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আতিফুল হক গত ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালীন এই চুরির ঘটনা ঘটে। তারা জামিনে মুক্ত হয়ে গত ১৭ জুলাই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখেন মেইন গেটের তালা ভাঙা এবং ভিতরের বিপুল পরিমাণ আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও নগদ টাকা উধাও।
মামলায় অভিযুক্ত ৩ নম্বর আসামি হলেন সাহাবুদ্দিন রানা (৫৫)। তিনি গাজীপুর জেলার টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন মধ্যপাড়া মুন্নুনগর এলাকার মৃত সাহেদ আলীর ছেলে। বর্তমানে তিনি উত্তরা পশ্চিম থানার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডের ১২ নম্বর বাসায় বসবাস করছিলেন। পুলিশ তাকে এই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে।
চুরিকৃত মালামালের তালিকা:
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাদীরা যোগসাজশ করে প্রতিষ্ঠান থেকে নিম্নলিখিত মালামালসহ মোট ৪,২৫,০৯,৮৫৭ (চার কোটি পঁচিশ লক্ষ নয় হাজার আটশত সাতান্ন) টাকা মূল্যের সম্পদ চুরি করেছে:
নগদ অর্থ: আলমিরায় থাকা ৮৮,৩৩,৫০৭ টাকা।ইলেকট্রনিক্স: ১৮টি এসি, ৩২টি ডেস্কটপ পিসি, ৩০টি ল্যাপটপ, ৫টি সার্ভার পিসি, ৮টি স্মার্ট টিভি, ৪টি সনি আলফা ক্যামেরা এবং ৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা।আসবাবপত্র ও ডেকোরেশন: ৩০০টি ক্লাস চেয়ার-টেবিল, ২০টি কাঠের ফাইল ক্যাবিনেট, সোফা সেট এবং প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকার অফিস ডেকোরেশন সামগ্রী। বই: জাপান, কোরিয়ান ও আইইএলটিএস ভাষার প্রায় ১২০০টি মূল্যবান বই।
প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রহরী পারভেজ ও অফিস সহকারী কুতুব উদ্দিন জানান, গত ১ জুলাই থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে বিবাদীরা বিভিন্ন সময়ে তালা ভেঙে মালামালগুলো সরিয়ে নেয়। মালামাল চুরির সময় নিরাপত্তা প্রহরী তার মোবাইল ফোনে কিছু ভিডিও ফুটেজ ধারণ করতে সক্ষম হন। উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ জানায়, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।