• সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ফিটনেস টেস্টও বাধা হতে পারে লিটনের জন্য বিচ্ছেদের পর জাস্টিন ট্রুডোর প্রেমে কেটি পেরির নতুন জীবন ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে; এগিয়ে যাচ্ছে চীন, ভারত ও ভিয়েতনাম জীবিকায় নতুন শুরু হাতীবান্ধা সীমান্তে বন্য প্রাণীর আক্রমণে তিনজন আহত, ভুক্তভোগীরা বলছেন, ‘বাঘ’ এসেছে চার বইয়ের অনুমোদন, নতুন যুক্ত হওয়া এসব বইয়ে কী থাকছে সিটি গ্রুপকে ঋণখেলাপি না করার পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিটি গ্রুপকে ঋণখেলাপি না করার পরামর্শ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চরের শিশুদের জন্য রংপুর বন্ধুসভার ‘আলোর লাইব্রেরি’ প্রতিষ্ঠা বিশ্ব কাঁপানো ‘১০ দিন’ বদলে দিয়েছিল বিশ্বরাজনীতির গতিপথ

ইউরোপে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে; এগিয়ে যাচ্ছে চীন, ভারত ও ভিয়েতনাম

Reporter Name / ১২ Time View
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে (জানুয়ারি–আগস্ট) বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি কমেছে। তার বিপরীতে প্রতিযোগী দেশ চীন, মিসর, ভিয়েতনাম ও ভারতের রপ্তানি দ্রুত হারে বাড়ছে।

ইইউর পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ২৯৫ কোটি ইউরোর ডেনিম পোশাক আমদানি করেছে ইইউর দেশগুলো। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ কম।

.

ইইউর সামগ্রিক আমদানির তুলনায় বাংলাদেশ থেকে ডেনিম নেওয়ার পরিমাণ বেশি কমেছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশ ৮৭ কোটি ইউরোর ডেনিম রপ্তানি করেছে। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। ইইউর ডেনিম পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা এখন ২৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।

ইইউয়ে দ্বিতীয় শীর্ষ ডেনিম পোশাক রপ্তানিকারক পাকিস্তান। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ৫৩ কোটি ইউরোর ডেনিম রপ্তানি করেছে দেশটি। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ কম। এখন ইইউর ডেনিম পোশাকের বাজার হিস্যার ১৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ দেশটির দখলে রয়েছে।

এই বাজারে তৃতীয় ও চতুর্থ শীর্ষ ডেনিম পোশাক রপ্তানিকারক যথাক্রমে তুরস্ক ও তিউনিসিয়া। চলতি বছরের আট মাসে তুরস্কের ডেনিম পোশাকের রপ্তানি কমেছে ২১ শতাংশ। দেশটি রপ্তানি করেছে ৪৪ কোটি ইউরো। অন্যদিকে আফ্রিকা মহাদেশের তিউনিসিয়া রপ্তানি করেছে ২২ কোটি ইউরোর ডেনিম। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

.

ইইউয়ে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের ঠিক পেছনে থাকা তিন দেশের অবস্থা দেখলে পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। কারণ, প্রতিযোগী চারটি দেশের ডেনিম পোশাক রপ্তানি দ্রুত বাড়ছে। যেমন: চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৬ শতাংশ কমলেও ভিয়েতনামের বেড়েছে ৪৫ শতাংশ।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চীন থেকে ইইউর ডেনিম রপ্তানি চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ রপ্তানি বেড়ে ২০ কোটি ইউরো। বর্তমানে বাজারটিতে চীনের হিস্যা ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যদিকে গত জানুয়ারি–আগস্টে মিসরের ডেনিম পোশাক রপ্তানি ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়ে ২০ কোটি ইউরো হয়েছে। বর্তমানে বাজারটিতে মিসরের হিস্যা ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

তারপরের অবস্থানে থাকা কম্বোডিয়া ও মরক্কোর ডেনিম পোশাক রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে কম্বোডিয়া ১৪ কোটি ইউরো ও মরক্কো ৬ কোটি ইউরোর ডেনিম রপ্তানি হয়েছে।

এদিকে ইইউয়ে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পাঁচ কোটি ইউরোর ডেনিম তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে ভিয়েতনাম। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ভারত গত জানুয়ারি–আগস্ট সময়ে তিন কোটি ডলারের ডেনিম পোশাক রপ্তানি করেছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ১৮ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

.

ইইউর বাজারে চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকলেও আগস্টে ডেনিম পোশাকের রপ্তানি ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ১৩ কোটি ৪১ লাখ ইউরো। অবশ্য ইইউর সামগ্রিক ডেনিম আমদানিও বেড়েছে। আগস্টে তাদের আমদানি ১১ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে ৪৩ কোটি ইউরো হয়েছে।

বাংলাদেশের চেয়ে পাকিস্তানের রপ্তানি বৃদ্ধির গতি বেশি। আগস্টে পাকিস্তানের ডেনিম রপ্তানি প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৮ কোটি ৭৭ লাখ ইউরো। এই সময়ে তুরস্কের রপ্তানি ১৩ শতাংশ কমলেও তিউনিসিয়ার বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ।

অন্যদিকে আগস্টে চীনের রপ্তানি বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া মিসরের রপ্তানি বেড়েছে সাড়ে ৫৯ শতাংশ। কম্বোডিয়ার রপ্তানি প্রায় ১১ শতাংশ বাড়লেও ভিয়েতনামের বেড়েছে ৫৬ শতাংশ। আর ভারতের রপ্তানি বেড়েছে ৫২ শতাংশ।

.

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও বাংলাদেশ ডেনিম এক্সপার্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মহিউদ্দিন রুবেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ক্রয়াদেশ কম থাকলেও পরের তিন মাস কিছুটা ভালো হয়। সে জন্য রপ্তানি কমার হার কমে আসছে। তবে প্রতিযোগী দেশগুলো রপ্তানিতে আমাদের চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি করেছে। তার অন্যতম কারণ, আমরা ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে ভালো দাম অফার করতে পারছি না। গ্যাস–বিদ্যুতের উচ্চ মূল্যের পাশাপাশি সংকটে ভুগছে কারখানাগুলো। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। তা ছাড়া আমাদের পণ্যে বৈচিত্র্য প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে কম।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‘ইইউর সঙ্গে ভিয়েতনাম মুক্ত বাণিজ্য (এফটিএ) চুক্তি করেছে। ভারতও এফটিএ করার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। সে কারণে ক্রেতাদের মধ্যে দেশ দুটি থেকে ডেনিম পোশাক কেনার আগ্রহ বাড়ছে। এলডিসি উত্তরণ হয়ে গেলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর রপ্তানিতে অগ্রাধিকারমূলক বাজারের সুবিধা বা জিএসপি থাকবে না। তখন শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য আমাদেরও এফটিএ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!