
ঢাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে হাঁটু সমান পানি জমে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নালা পরিষ্কার না করার ফলে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলেও, দায় নিতে নারাজ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। উল্টো, জলাবদ্ধতার জন্য উল্টো নগরবাসীর দিকেই আঙুল তুলেছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল।
নগরবাসীর অভিযোগ:
রাজধানীর মিরপুর, শেওড়াপাড়া, কাফরুল ও বাড্ডার মতো এলাকাগুলোতে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন থেকে ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণেই ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। ফলে বৃষ্টির পানি নামতে না পেরে রাস্তায় জমে যাচ্ছে, যা পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।
প্রশাসকের বক্তব্য:
জলাবদ্ধতার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল দায় স্বীকার না করে উল্টো বাসিন্দাদের দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, নগরবাসী সচেতন নন এবং তারা যেখানে-সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলেন। তার দাবি, ড্রেনের ভেতর পলিথিন ও গৃহস্থালির বর্জ্য ফেলার কারণেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শুধু সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে শহরকে জলমুক্ত রাখা সম্ভব নয় যদি না নাগরিকরা সচেতন হন।
বিপরীত চিত্র ও বিশেষজ্ঞ মতামত:
তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, কেবল বাসিন্দাদের দোষ দিয়ে সিটি করপোরেশন দায়িত্ব এড়াতে পারে না। শহরের প্রাকৃতিক জলাধারগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া এবং ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের নকশাগত ত্রুটি জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। তাদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের আইনি দায়িত্ব। বাসিন্দাদের ওপর দোষ চাপানোর পরিবর্তে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও কার্যকর ড্রেনেজ পরিষ্কার অভিযান জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বর্তমানে নগরীর জলাবদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ দেখা না যাওয়ায় ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এখন দেখার বিষয়, ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে কবে নাগাদ কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে।