
মিষ্টি কথা আর চটকদার ব্যক্তিত্বের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর প্রতারক। নাম তার ‘হিরা’। ট্রাভেল এজেন্সি থেকে শুরু করে বালুর ব্যবসা কিংবা ইন্টেরিয়র ঠিকাদারি—এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে তিনি প্রতারণার জাল বিছাননি। ব্যবসার নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই যেন তার মূল পেশা। দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে এই প্রতারক।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হিরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে বিনিয়োগের নামে অর্থ সংগ্রহ করেন। একবার টাকা হাতে পাওয়ার পরেই বদলে যায় তার রূপ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিনি সটকে পড়েন। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ব্যবসায়িক লেনদেন নয়, বাসা ভাড়ার নামেও তিনি একই প্রতারণার আশ্রয় নেন। বাসা ভাড়া নিয়ে এক-দুই মাস অতিবাহিত করেন, কিন্তু ভাড়া না দিয়ে কৌশলে পালিয়ে যান। এভাবে বিভিন্ন বাড়ির মালিকের প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বকেয়া রেখে তিনি উধাও হয়েছেন।
নারীদের টার্গেট করে অমানবিক নির্যাতন
হিরার প্রতারণার সবচেয়ে অন্ধকার দিকটি হলো অসহায় নারীদের টার্গেট করে বিয়ের ফাঁদে ফেলা। প্রেমের অভিনয় করে বিয়ে করার পর যৌতুক হিসেবে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার। বিয়ের সময় মোটা অংকের দেনমোহর ধার্য করলেও, ডিভোর্সের সময় সেই টাকা যাতে দিতে না হয়, সেজন্য শুরু করেন অমানবিক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। তার নির্যাতনে অনেক নারীই আজ নিঃস্ব এবং বিপর্যস্ত। দেনমোহর ফাঁকি দিতে হেনস্তার কোনো পথ বাকি রাখেন না এই প্রতারক।
গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে পলাতক
২০২৫ সালে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় হিরার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। আইন অনুযায়ী তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার কথা থাকলেও, তিনি এখনো পলাতক। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও হিরাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই সুযোগে তিনি স্থান পরিবর্তন করে নতুন নতুন এলাকায় নতুন পরিচয়ে একই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ
ভুক্তভোগীদের পরিবারগুলোর দাবি, হিরা একজন ধূর্ত ও পেশাদার প্রতারক। তার প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকে এখন পথে বসার উপক্রম। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, হিরাকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে তার এই প্রতারণার তালিকা আরও দীর্ঘ হবে এবং আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।