• রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সৌদির বিমানবন্দরে বিধিনিষেধ: বাতিল-স্থগিত ১৪৪ ফ্লাইট, ভোগান্তিতে ২২ হাজার যাত্রী ওপেনিংয়ের পুরনো দুশ্চিন্তা নিয়েই স্পিন সামলানোর প্রস্তুতি বাংলাদেশের কলকাতা বিমানবন্দরে পরপর দুই দিন ভুয়া খবরে বোমাতঙ্ক ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে গৃহপরিচারিকাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ‎বিএসপিএ অ্যাওয়ার্ডে প্রথম আলোর ৫ পুরস্কার কক্সবাজারে অপ্রাপ্তবয়স্কদের হোটেল ভাড়া দিলেই ব্যবস্থা, বললেন নারী সংসদ সদস্য সামার অ্যাথলেটিকসের দুই দিনে সাত জাতীয় রেকর্ড সাদপন্থীদের টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি এইচএসসির ফল প্রকাশ হবে ২৯ অক্টোবর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করলেন বন্ধুরা

দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বিষয়ে ৬ প্রশ্নের জবাব চেয়ে সৌদি আরবের কাছে চিঠি বাংলাদেশের

Reporter Name / ১০ Time View
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের অপরাধ কী ছিল, দণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে, মরদেহ এখন কোথায় এবং বিচারে তাঁদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় পাঠানো এক কূটনৈতিক পত্রে এসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোর কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে তিনি কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করেন।

জানা গেছে, মক্কা অঞ্চলে বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় ১৪ অক্টোবর। বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ প্রসঙ্গে কনস্যুলেট সংক্ষেপে ছয়টি বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব তা জানানোর অনুরোধ করেছে।

.

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া চিঠিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই নাগরিকের দণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ছয়টি প্রশ্ন করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি কী, কবে ও কোথায় তা ঘটেছিল এবং তাঁদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশের দুই নাগরিককে শাস্তিদানের বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত রায়ের কপি। মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছে। এটি কি প্রকাশ্যে তলোয়ারের আঘাতে শিরশ্ছেদ, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে হয়েছে।

.সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, গোপনীয় নথিতে যা উঠে এসেছে.

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এরপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর দুজনের মরদেহ কোথায় আছে? মরদেহ কি বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার চলাকালে দুই অপরাধীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং দুজনের কেউ আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না।

ঢাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, মৃত্যুদণ্ডের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে ঢাকায় কিংবা জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই। বিশেষ করে বিচারের সময় দুজনের আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না, তা মিশন নিশ্চিত নয়।

.

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাংলাদেশকে কারাবন্দী ও দণ্ডিত বাংলাদেশিদের তালিকা দেয়। সেপ্টেম্বরের তালিকায় এই দুজনের নাম ছিল। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল ‘ব্যভিচার’, অন্যজনের ‘আইসিটি’ বা তথ্যপ্রযুক্তি–সংক্রান্ত অপরাধ। কিন্তু তালিকায় শাস্তির তথ্য ছিল না। ফলে মৃত্যুদণ্ডের কথা না জেনে তাঁদের কনস্যুলার সেবা দিতে পারেনি বাংলাদেশ।

.সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের দিন মেয়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা হয় বাবার.

সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তালিকার অভিযোগ আর এই বিবৃতি কীভাবে মেলে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কনস্যুলেটের প্রথম প্রশ্নটি তাই শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, অসংগতি পরিষ্কার করার চেষ্টাও।

.

১৯ অক্টোবরের বৈঠকে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির কাছে জানতে চান, কেন তথ্য অসম্পূর্ণ রাখা হলো। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য জানা থাকলে মিশন তাঁদের সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে পারত। এ ধরনের মামলায় সাধারণত আইনি সহায়তা, আপিল ও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত সপ্তাহে ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হতাশার। সৌদি আরব থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আদালত ও আপিল আদালতের বিচার শেষে এ মাসে দণ্ড কার্যকর হয়েছে।

.

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর তালিকা পাঠিয়েছিল। এতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনসহ ২২ জন বাংলাদেশিকে দণ্ড দেওয়ার কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়ি তাঁদের কী ধরনের শাস্তি হয়েছে। তাই ওই ২০ জনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ কূটনৈতিক পত্রের জবাব এখনো দেয়নি। তাঁরা জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।

.সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আছে বাংলাদেশিও

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!