• শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
তুরাগের ১৫ নং সেক্টরে রাজউকের জমি দখল করে অবৈধ ট্রাক স্ট্যান্ড তুরাগ দক্ষিন যুব বিভাগের শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠিত রেডিক্যাল হাসপাতালের ‘ভয়ঙ্কর’ বিল! তুলা-স্যাভলনের ছোঁয়ায় ৫০০ টাকা! উত্তরা ফাউন্ডেশন স্কুল: দরিদ্র শিশুদের স্বপ্নের পাঠশালা তুরাগ দক্ষিনের যুব বিভাগের “প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫” অনুষ্ঠিত আমাদের উত্তরা ফাউন্ডেশন এর নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি আলী হোসেন, সম্পাদক এলেন বিশ্বাস নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া জনসাধারণের জন্য হুমকির মুখে – দাবী ঠিকাদারদের জামায়াত-শিবিরের কারণে গণঅধিকার-এনসিপি ক্ষতিগ্রস্ত: রাশেদ খান পাকিস্তানকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুঁশিয়ারি ভারতের সেনাপ্রধানের সমঝোতা হলে ১০০ আসন ছেড়ে দিতে পারে জামায়াত’

রেডিক্যাল হাসপাতালের ‘ভয়ঙ্কর’ বিল! তুলা-স্যাভলনের ছোঁয়ায় ৫০০ টাকা!

আলী হোসেন (শ্যামল) / ৩৮১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

রাজধানীর উত্তরার বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতে অরাজকতা যেন থামছেই না। এবার উত্তরার রেডিক্যাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে সামান্য কাটা বা ক্ষতস্থানে তুলা দিয়ে একটু স্যাভলন লাগিয়ে দেওয়ার বিপরীতে ৫০০ টাকা বিল আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসার নামে এমন ‘গলাকাটা’ বাণিজ্যে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি ছোটখাটো আঘাত বা ক্ষত নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য যারা এই হাসপাতালে যাচ্ছেন, তারা বিল দেখে রীতিমতো আকাশ থেকে পড়ছেন। কোনো জটিল ব্যান্ডেজ বা সেলাই নয়, বরং ঘরোয়াভাবে করা সম্ভব এমন সামান্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার (Dressing) জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫০০ টাকা ‘সার্ভিস চার্জ’ হিসেবে আদায় করছে।

এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, “আমার হাতে সামান্য একটু ঘষার মতো ক্ষত হয়েছিল। তারা শুধু তুলায় স্যাভলন লাগিয়ে একটু মুছে দিয়েছে। ওষুধের খরচ বাদ দিলেও শুধু এইটুকু হাতের ছোঁয়ার জন্য ৫০০ টাকা বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা চিকিৎসা নয়, রীতিমতো ডাকাতি।”

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রেডিক্যাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব ট্যারিফ চার্ট বা সেবার মূল্যের বিষয়ে রোগীদের আগে থেকে কিছুই জানায় না। চিকিৎসা শেষে কাউন্টারে গেলে রোগীদের সামনে ধরিয়ে দেওয়া হয় দীর্ঘ বিল। যেখানে সাধারণ তুলা, স্যাভলন বা সামান্য গজ কাপড়ের দাম বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ধরা হয়, আর তার সাথে যোগ করা হয় চড়া ‘নার্সিং বা সার্ভিস ফি’।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থায় সেবার মূল্য থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু তুলা-স্যাভলনের মতো তুচ্ছ উপকরণ দিয়ে ৫০০ টাকা আদায় কোনোভাবেই নৈতিক চিকিৎসার পর্যায়ে পড়ে না। এটি মূলত রোগীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে এক ধরনের

উত্তরা এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোর ওপর তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন স্থানীয়রা। রেডিক্যাল হাসপাতালের এই ‘পকেটমারি’ বাণিজ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়। অনেকে বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যথাযথ নজরদারি না থাকায় এই হাসপাতালগুলো সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার সাহস পাচ্ছে।

এই অযৌক্তিক বিল আদায়ের বিষয়ে রেডিক্যাল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল কারো বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানান, হাসপাতালের নির্ধারিত ফি অনুযায়ীই বিল করা হয়।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই ‘বিল বাণিজ্য’ বন্ধে এবং উত্তরার রেডিক্যাল হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
error: Content is protected !!