
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৭ নং সেক্টরের বিএনএস টাওয়ারে অবস্থিত দুটি শিক্ষা ও ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং প্রতিষ্ঠানে তালা ভেঙে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মালামাল চুরির অভিযোগে এ কে এম আবু রায়হান (৫৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি ওই ভবনের ১০ তলার একটি ফ্লোর উপ-ভাড়া (সাবলেট) নিয়ে প্রতারণা ও লুটপাটের মূল পরিকল্পনাকারী বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজহার সূত্রে জানা যায়, ‘উআইসিসি ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট’ ও ‘উত্তরা ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ার কাউন্সিল’ নামক প্রতিষ্ঠান দুটির অনুকূলে ফ্লোর ভাড়া নেওয়ার কথা বলে এ কে এম আবু রায়হান প্রতারণার আশ্রয় নেন। প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোসাঃ লাকী আক্তারের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের নামে ফ্লোরটি ভাড়া করেন এবং জুন ২০২৫ পর্যন্ত ৩৬ লক্ষ টাকা ভাড়া বুঝে নিলেও ভবন কর্তৃপক্ষকে তা প্রদান করেননি। ভাড়ার টাকা আত্মসাৎ করায় ভবন কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে বিষয়টি সামনে আসে।
পরবর্তীতে বিবাদীরা একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আতিফুল হক ও চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করায়। তারা জামিনে মুক্ত হয়ে গত ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে প্রতিষ্ঠানে ফিরে দেখেন যে মেইন গেটের তালা ভাঙা এবং ভেতরের সমস্ত মালামাল লুট করা হয়েছে।
ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ গুলো হলো, দায়েরকৃত অভিযোগ অনুযায়ী, আবু রায়হান ও তার সহযোগীরা আলমিরা ভেঙে নগদ ৮৮ লক্ষ ৩৩ হাজার ৫০৭ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিয়ে যায়। লুটে নেওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে:
১৪টি ২ টনের এসি ও ৪টি ১.৫ টনের এসি। ৩২টি ডেস্কটপ পিসি, ৩০টি ল্যাপটপ এবং ৭টি হাই-কনফিগারেশন গ্রাফিক্স পিসি। ৪টি সনি আলফা ক্যামেরা, স্মার্টফোন এবং ৫৯টি বিভিন্ন প্রকার ফোন।
ব্যায়বহুল অফিস ডেকোরেশন সামগ্রী ও আসবাবপত্র। সব মিলিয়ে খোয়া যাওয়া মালামাল ও নগদের মোট মূল্য ৪ কোটি ২৫ লক্ষ ৯ হাজার ৮৫৭ টাকা বলে এজহারে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি গার্ড কর্তৃক ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে বিবাদীদের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উত্তরা পশ্চিম থানায় এজহার দায়ের করা হলে পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত এ কে এম আবু রায়হানকে গ্রেফতার করে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।