দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাথেই বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন। অথচ দীর্ঘকাল ধরে চরম অব্যবস্থাপনা, দালালদের দৌরাত্ম্য ও ট্রাফিক বিশৃঙ্খলায় নাকাল সাধারণ যাত্রী। স্টেশনটিকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের টার্মিনালে রূপান্তর করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রী ও সচেতন নাগরিকরা।
সরেজমিনে স্টেশনে কথা হয় বেশ কয়েকজন যাত্রীর সাথে। প্রবাসী যাত্রী আরিফ হোসেন বলেন, বিদেশ থেকে নেমে ট্রেন ধরার জন্য এখানে আসি, কিন্তু স্টেশনের পরিবেশ দেখে হতাশ হতে হয়। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানোর মতো ভালো জায়গা নেই, তার ওপর দালালদের টানাটানি। দেশের বাইরের কোনো পর্যটক যদি আমাদের এই রেলস্টেশন দেখেন, তবে দেশের ভাবমূর্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
আরেক নিয়মিত যাত্রী শায়লা পারভীন জানান, ট্রেন থেকে নেমে বাইরে বের হওয়ার কোনো সুশৃঙ্খল উপায় নেই। রিকশা, সিএনজি আর মানুষের জটলায় সবসময় হাঁটাচলা দায় হয়ে পড়ে। এখানে একটি পরিকল্পিত পিকআপ-ড্রপ জোন থাকা খুবই জরুরি।
যাত্রীদের এই দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে সচেতন। বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনটি আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পয়েন্ট। যাত্রীসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছি। স্টেশনের আধুনিকায়ন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কাজ চলছে।
অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্টেশন এলাকাটি রেলওয়ের অধীন হলেও বিমানবন্দরের সাথে এর নিবিড় সংযোগ রয়েছে। বিমানবন্দরের ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি রেলস্টেশন এলাকার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে তারা যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে আগ্রহী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেবল আশ্বাস নয়, প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়ন। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল সাইনবোর্ড, পরিচ্ছন্নতা এবং সার্বক্ষণিক নজরদারির মাধ্যমে স্টেশনটিকে একটি বিশ্বমানের টার্মিনালে রূপান্তর করার দাবি এখন সময়ের দাবি।
দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।
এলেন বিশ্বাস
ঠিকানা: উত্তরা, ঢাকা ১২৩০