
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের আয়োজিত আলোচনা সভা বর্জন করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির ‘সুপার ফাইভ’-এর বাইরের নেতাদের একটি বড় অংশ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সভায় যোগ না দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে এই ঘটনা ঘটে।বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা সহসভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের বক্তব্য দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ‘সুপার ফাইভ’-এর নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিটের নেতারাও মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কেন্দ্রীয় সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও নিজেদের অনুষ্ঠানে কথা বলার সুযোগ না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হন।নাম প্রকাশ না করার শর্তে ছাত্রদলের একাধিক সহসভাপতি বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সুপার ফাইভ মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেও কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে কথা বলতে পারেন না। অথচ এটি মূলত কেন্দ্রীয় ছাত্রদলেরই অনুষ্ঠান। তাই তাঁরা সর্বসম্মতিক্রমে এই কর্মসূচি বর্জন করেছেন।’তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতাদের বাদ রেখে অন্য ইউনিটের নেতাদের মঞ্চে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে তাঁরা সাংগঠনিকভাবে নিজেদের জন্য অসম্মানজনক মনে করছেন। এ কারণেই আলোচনা সভায় অংশ না নিয়ে মিলনায়তনের বাইরে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।কেন্দ্রীয় নেতাদের একাংশের এই বয়কটের মধ্যেই টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনা সভার কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান বয়কট করে বাইরে অবস্থান নেওয়া নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, মঞ্জুর আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, এইচ এম আবু জাফর, সাফি ইসলাম, শাহজাহান শাওন, তৌহিদুর রহমান আওয়াল, শ্রী মিঠুন কুমার দাস, সজীব মজুমদার, আরিফুল ইসলাম, আবুল বাশার, হাফিজুল্লাহ হীরা, কাজী জিয়াউদ্দিন বাসেত ও অলিউজ্জামান সোহেল রয়েছেন।এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে ফারুক হোসেন, মাসুদুর রহমান মাসুদ, হাসানুর রহমান হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান রুবেল, বায়েজিদ হোসেন, মহিউদ্দিন রুবেল, ইব্রাহিম কার্দি, তানভীর আহমেদ তানু, তরিকুল ইসলাম তারেক, ফারহান আরিফুর রহমান, আসাদুজ্জামান রিংকু, গোলাম কিবরিয়া, শাকিল আহমেদ, শাকিল চৌধুরী, শাহাদাত হোসেন মানিক, শামীম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, সোহেল রানা, রাজু আহমেদ, সাদ্দাম হোসেন, জাহিদ হাসান শাকিল ও শাহিনুর রহমান শাহিন বয়কটে অংশ নেন।বাইরে অবস্থান নেওয়া অন্যান্য নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সহসাধারণ সম্পাদক আফজাল রহমান, আশিকুর রহমান সরকার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ এবং পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঠিকানা: উত্তরা, ঢাকা ১২৩০