ঢাকার উত্তরার সেক্টর-১২-এর টেকপাড়া এলাকায় গত প্রায় এক বছর ধরে একদল চীনা নাগরিকের সন্দেহজনক ও রহস্যময় ভিডিও ধারণের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কুলিং ফ্যানযুক্ত আইফোন হাতে নিয়ে দিন-রাত স্থানীয় অলিগলিতে দীর্ঘ সময় ধরে লাইভ বা ভ্লগিং করছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে তাদের এই কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, উত্তরার অভিজাত এলাকার পাশেই অবস্থিত নিম্ন আয়ের মানুষের বসতি বা টেকপাড়াই এই ভ্লগারদের মূল আকর্ষণ। তারা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ধারণের পাশাপাশি নিজেদের ভাষায় ক্যামেরার সামনে কথা বলেন। তবে তাদের কাজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা এড়িয়ে যান এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান আহমেদ ও মোহাম্মদ বাদল জানান, এই ভ্লগাররা প্রায়ই অনুমতি ছাড়া মানুষের ব্যক্তিগত বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েন। এমনকি রান্নাঘর ও গোসলখানার কাছাকাছি ক্যামেরা নিয়ে প্রবেশ করায় নারীদের গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। বাধা দিলে তারা উল্টো প্রভাবশালী 'বস' এবং পুলিশের ভয় দেখায় বলেও অভিযোগ উঠেছে। মনোয়ারা বেগম নামের এক বাসিন্দা জানান, স্থানীয় কিছু বাংলাদেশি নারীকে দৈনিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার বিনিময়ে তারা সহযোগী হিসেবে সাথে রাখছেন।
চীনের জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘বিলিবিলি’ ও ‘ইউকু’-তে বাংলাদেশ সম্পর্কিত এই ভিডিওগুলোর একটি নির্দিষ্ট ধাঁচ বা প্যাটার্ন রয়েছে।
ভিডিওগুলোর শিরোনামে প্রায়ই 'দরিদ্র', 'নোংরা' বা 'বস্তি' এরকম শব্দ ব্যবহার করা হয়। স্থানীয় মানুষদের অজান্তে তাদের দৈনন্দিন কাজ, এমনকি গোসল করার দৃশ্যও ধারণ করা হচ্ছে। কোনো কোনো ভিডিওতে ভ্লগারদের স্থানীয় তরুণদের কলার ধরে টেনে 'শাসন' করার মতো আপত্তিকর আচরণ করতেও দেখা গেছে।
উত্তরায় এই ভ্লগিংয়ের ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন বাংলাদেশে কিছু চীনা নাগরিকের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
উত্তরা ও তুরাগ এলাকা থেকে অনলাইন জুয়া এবং সাইবার প্রতারণার অভিযোগে ৬ জন চীনা নাগরিকসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকা থেকে অবৈধ ভিওআইপি পরিচালনা এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে ভুয়া চাকরির ফাঁদ পাতার অভিযোগে ৫ জন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের কাছ থেকে ৫১ হাজারেরও বেশি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
অবৈধ আইফোন সংযোজন চক্র এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি নারী পাচারের সাথেও কিছু চীনা নাগরিকের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
টেকপাড়ার এই রহস্যময় ভিডিও ধারণের সাথে কোনো অপরাধ চক্রের সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে
উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার তারেক বেগ ,পুরো ঘটনাটিকে 'সন্দেহজনক' বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এলেন বিশ্বাস
ঠিকানা: উত্তরা, ঢাকা ১২৩০