রাজধানীর প্রবেশদ্বার উত্তরা, শিল্পাঞ্চল টঙ্গী ও আশপাশের এলাকার লাখো মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ও কৌশলগত পয়েন্ট আব্দুল্লাহপুরের পশ্চিম পাশের ওঠা-নামার রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী ও বন্ধ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন এই অঞ্চলে এক প্রকার স্থবিরতা নেমে এসেছে। প্রতিদিন এই রুটে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং গণপরিবহন চালকদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অবিলম্বে রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
টঙ্গী ফ্লাইওভারের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত এই সংযোগ পথটি উত্তরা ও টঙ্গীর ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই ওঠা-নামার রাস্তাটি বন্ধ বা বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় যানবাহনকে ঘুরতি পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এর ফলে আব্দুল্লাহপুর এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। সকালের অফিস সময় এবং বিকালের ফিরতি সময়ে এই জট অসহনীয় রূপ নেয়, যা পুরো এলাকার জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ এবং আকুতি
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চরম ভোগান্তিতে স্থানীয় মানুষ ও নিয়মিত যাতায়াতকারীরা ফুঁসে উঠেছেন।
সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজেদের কষ্টের কথা তুলে ধরে তারা জানান প্রতিদিন সকালে অফিস ধরার তাড়া থাকে, কিন্তু আব্দুল্লাহপুরে এসে তীব্র যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। ফ্লাইওভারের সংযোগ সড়কটি বন্ধ থাকায় আমাদের অনেক ঘুরে চলাচল করতে হয়, যা একদিকে যেমন ক্লান্তিকর, অন্যদিকে অতিরিক্ত সময় ও ভাড়ার অপচয় ঘটাচ্ছে। মো. রফিকুল ইসলাম, একজন বেসরকারি চাকরিজীবী ও উত্তরা নিবাসী।
জরুরি রোগী বা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চলাচলের সময় এই পয়েন্টে এসে যে কী পরিমাণ বিপাকে পড়তে হয়, তা বলে বোঝানো যাবে না। রাস্তাটি বন্ধ থাকায় অ্যাম্বুলেন্সগুলো সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে না। মানুষের জীবন বাঁচানোর স্বার্থেও এই রাস্তাটি অবিলম্বে চালু করা দরকার।
সালাহউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় এক ব্যবসায়ী।
আমাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে গিয়ে এই ভাঙাচোরা ও অচল রাস্তার কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছে। অনেক সময় যানবাহনের সংকটেও পড়তে হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের জোরালো দাবি, আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হোক। নাজমা আক্তার, একজন অভিভাবক।
সচেতন মহল ও পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আব্দুল্লাহপুরের পশ্চিম পাশের এই সংযোগ সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে খুলে দেওয়া হলে এই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে: নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত: সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত প্রক্রিয়া অনেক বেশি সহজ, সাবলীল ও ঝুঁকিমুক্ত হবে।
যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস: আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গী সংযোগস্থলের দীর্ঘদিনের অসহনীয় যানজট অনেকাংশে কমে আসবে।অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি যানবাহনগুলো কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই দ্রুত চলাচল করতে পারবে। লাখো যাত্রীর প্রতিদিনের মূল্যবান সময়, শ্রম এবং বাড়তি আর্থিক অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো দাবি
জনগণের এই লাগাতার ভোগান্তি লাঘব করতে এবং জনস্বার্থকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা উত্তরা ও টঙ্গীর লাখো মানুষের। অনতিবিলম্বে রাস্তাটি মেরামত ও সংস্কার সম্পন্ন করে তা জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলেন বিশ্বাস
ঠিকানা: উত্তরা, ঢাকা ১২৩০